স্টাফ রিপোর্টার: মহিলাদের নিরাপত্তায় অভিযোগ এলেই কোন এলাকা কোন থানার ঘটনা, এসব না ভেবে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য পুলিশকে নির্দেশ দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নিতে বিন্দুমাত্র গাফিলতি বা গড়িমসি হলে কড়া পদক্ষেপ করবে নবান্ন। সেক্ষেত্রে অন্য থানা এলাকার ঘটনা বলে দায়ও এড়িয়ে যেতে পারবেন না আধিকারিকরা। কোনও মহিলা যে থানায় অভিযোগ দায়ের করবেন, সেই থানার পুলিশকেই সংশ্লিষ্ট থানা বা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় রেখে দ্রুত নিষ্পত্তি করতে হবে। মহিলা থানাও রয়েছে। সেগুলির সঙ্গেও নিয়মিত যোগাযোগ রাখতে হবে জেলার পুলিশ কর্তাদের। সোমবার নবান্নে রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা-সহ নানা বিষয় নিয়ে বিভিন্ন জেলার এসপিদের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্স করলেন মুখ্যমন্ত্রী। সেখানেই নারী নিরাপত্তার বিষয়ে এমন কড়া নির্দেশ দিলেন মুখ্যমন্ত্রী।
সোমবার এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের মুখ্যসচিব রাজীব সিনহা, স্বরাষ্ট্রসচিব আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়, রাজ্য পুলিশের ডিজি বীরেন্দ্র, নিরাপত্তা উপদেষ্টা সুরজিৎ করপুরকায়স্থ, কলকাতার নগরপাল অনুজ শর্মা, এডিজি (আইনশৃঙ্খলা) জ্ঞানবন্ত সিং প্রমুখ। নবান্ন সূত্রে খবর, কাজে কোনওরকম শিথিলতা যাতে না থাকে, সে ব্যাপারে বেশ কিছু নির্দেশও দেন এদিন মুখ্যমন্ত্রী। তবে হায়দরাবাদে চিকিৎসককে ধর্ষণের পর পুড়িয়ে মারার নৃশংস ঘটনার আগে থেকেই মহিলা নিরাপত্তায় পুলিশ থানা বা আলাদা সেল তৈরি ও সচেতনতা বাড়ানোর বহু পদক্ষেপ রয়েছে রাজ্যের। সেসব প্রসঙ্গএ উঠেছিল এদিনের বৈঠকে। গোটা দেশের নিরিখে এ রাজ্যে নারী নির্যাতনের অপরাধ কম। তবু নিরাপত্তার প্রশ্নে কোনও আপস করতে রাজি নন মুখ্যমন্ত্রী। বৈঠকে সেটা জানিয়েও দিয়েছেন। ন্যাশনাল ক্রাইম রেকর্ডস ব্যুরোর তথ্যে কলকাতা দেশের নিরাপদ মহানগর-এর তকমা পেয়েছে। কলকাতার নগরপালও সেই তথ্য জানান। কলকাতাকে নিরাপদ হিসাবে গড়ে তুলতে কীভাবে কাজ করা হয়েছে, সে ব্যাপারে বিস্তারিত জানান। বস্তুত, তাঁর কাজের প্রশংসা করেন মুখ্যমন্ত্রী। নবান্ন সূত্রে খবর, বিভিন্ন জেলার পুলিশ সুপার ও পুলিশ কমিশনারেটের কমিশনাররা নিজের এলাকার পরিস্থিতি তুলে ধরেন।
[আরও পড়ুন: মমতা না অভিষেক, কার বৈঠকে যাবেন? চিন্তায় দুই জেলার তৃণমূল বিধায়করা]
মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন, কোনও ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট থানা ব্যবস্থা না নিলেও পুলিশ সুপারের কাছে খবর এলেই তাঁকে ব্যবস্থা নিতে হবে। নজর দিতে হবে রাজনৈতিক সংঘর্ষে। থানার অফিসারদের সঙ্গে জেলা ও রাজ্যস্তরের সমন্বয় যেন থাকে। এসপি বা পুলিশ কমিশনারকে সব তথ্য জানাতে হবে। অন্যদিকে, বাংলাদেশ সীমান্ত এলাকায় কোনও কোনও ক্ষেত্রে পুলিশের কাজে খুশি নন মুখ্যমন্ত্রী। চার পুলিশ সুপারের কাছে এ ব্যাপারে ক্ষোভপ্রকাশ করেছেন এদিন তিনি। নবান্নের কর্তারা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন যে, ঝাড়খণ্ড ও বিহার দিয়ে রাজ্যে লোক ঢুকছে অথচ পুলিশের কাছে কোনও খবর থাকছে না। রাজ্যে অপরাধের পর সীমান্ত পেরিয়ে পালাচ্ছে দুষ্কৃতীরা। কোনওভাবেই দুষ্কৃতীদের রেয়াত করা যাবে না।
[আরও পড়ুন: যাদবপুরে ফের এটিএম প্রতারণা, ২৫ জন গ্রাহকের অ্যাকাউন্ট থেকে উধাও টাকা]
সর্বশেষ খবর
-
কারা পাবেন আবাসের বাড়ি? সুবিধাভোগী যাচাইয়ে ত্রিস্তরীয় ব্যবস্থা, রয়েছে ‘সেলফ সার্ভে’র সুবিধাও
-
‘বাংলার পরিচালকের সঙ্গে কাজ করতে চাই’, বঙ্গে পদ্ম ফুটতেই রামচরণের নজরে টলিউড?
-
এবার ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগ, ফের জেল হেফাজতে প্রাক্তন বিধায়ক অসিত মজুমদার
-
‘ভারত-চিন সম্পর্কে নাক গলাবে না রুশ’, ত্রিকোণ বন্ধুত্বের সমীকরণে স্পষ্ট বার্তা পুতিনের
-
কাটমানি না দিলে বাড়ি নয়, বড়ঞায় গ্রেপ্তার তৃণমূলের পঞ্চায়েত সদস্যের স্বামী-সহ ৪