সংসদে দাঁড়িয়ে ঋষি বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে ‘বঙ্কিমদা’ বলেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi)। তা নিয়ে তুমুল বিতর্কও হয়েছিল। এবার জন্মতিথিতে ঠাকুর শ্রী রামকৃষ্ণ পরমহংসদেবকে শ্রদ্ধা জানাতে গিয়ে ফের ‘ভুল’ করে বসলেন প্রধানমন্ত্রী! এক্স পোস্টে রামকৃষ্ণ পরমহংসদেবকে সম্বোধন করলেন ‘স্বামী’ বলে। আর তা নিয়েই একরাশ ক্ষোভ উগরে দিলেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। লিখলেন, ‘আমি আবারও স্তম্ভিত! শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণ আপামর মানুষের কাছে ‘ঠাকুর’ হিসেবে পূজিত। ঠাকুরকে ‘স্বামী’ বলার মানে বাংলার সংস্কৃতি ও ইতিহাস সম্পর্কে চরম অজ্ঞতা ও অবহেলা ছাড়া আর কিছুই না।’
আরও পড়ুন:
Shocked again!
Yet again, our Prime Minister aggressively displays his cultural insensitivity to great figures of Bengal. Today is the janmatithi of Yugavatara (God’s incarnation in our age) Sri Sri Ramakrishna Paramahamsadeva. While trying to hail the great saint on this… https://t.co/f7GqFkbcHy
— Mamata Banerjee (@MamataOfficial) February 19, 2026
বৃহস্পতিবার ঠাকুর রামকৃষ্ণ পরমহংসদেবের জন্মতিথি। এদিন সকালেই প্রধানমন্ত্রী এক্স হ্যান্ডেলে পোস্ট করে তাঁকে শ্রদ্ধা জানান। লেখা হয়, ‘স্বামী রামকৃষ্ণ পরমহংসজির জন্মজয়ন্তীতে শ্রদ্ধাঞ্জলী। উনি আধ্যাত্ম্য ও সাধনাকে যেভাবে জীবনীশক্তিতে রূপান্তরিত করেছেন, সেটা বহু যুগ মানবতার কল্যাণে কাজে লাগবে। ওঁর আদর্শ এবং বার্তা আগামী দিনে আমাদের প্রেরণা দেবে।’ ওই সোশাল মিডিয়া পোস্টে বাকি মোটামুটি সব ঠিকই ছিল। কিন্তু তাই বলে রামকৃষ্ণদেবকে ‘স্বামী’ হিসাবে সম্বোধন! তা নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই বিতর্কের ঝড় ওঠে। খোদ মুখ্যমন্ত্রী (Mamata Banerjee) সরব হন সোশাল মিডিয়ায়। তিনি লিখলেন, ‘আমি আবারও স্তম্ভিত!’
প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে তিনি লেখেন, ‘আমি প্রধানমন্ত্রীকে সনির্বন্ধ অনুরোধ জানাচ্ছি, আধুনিক ভারতের রূপকার বাংলার এই নবজাগরণের মহাপুরুষদের অপমান করা দয়া করে বন্ধ করুন। তাঁদের জন্য রোজ নতুন নতুন বিশেষণ আবিষ্কার করার কোনও প্রয়োজন নেই। দয়া করে, বাংলার আবেগকে এভাবে বারবার আঘাত করা বন্ধ করুন।’
দীর্ঘ পোস্টে মুখ্যমন্ত্রী আরও লেখেন, ‘বাংলার মনীষীদের প্রতি আমাদের প্রধানমন্ত্রীর অবহেলা, অসংবেদনশীলতা আজ আবার প্রকট হল। আজ যুগাবতার শ্রীশ্রী রামকৃষ্ণ পরমহংসদেবের জন্মতিথি। এই পুণ্য লগ্নে তাঁকে প্রণাম জানাতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী তাঁর নামের আগে একটা অশ্রুতপূর্ব, অপ্রযোজ্য তকমা জুড়ে দিলেন-‘স্বামী’! সবাই জানেন, শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণ আপামর মানুষের কাছে ‘ঠাকুর’ হিসেবে পূজিত। তাঁর দেহাবসানের পর তাঁর সন্ন্যাসী শিষ্যরা রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশন তৈরি করেন এবং ভারতীয় ঐতিহ্য মেনে সেই সন্ন্যাসীদের নামের আগে ‘স্বামী’ উপাধি বসে। কিন্তু স্বয়ং আচার্যদেব সব সময় ‘ঠাকুর’ নামেই পরিচিত। রামকৃষ্ণ সংঘের যে পবিত্র ত্রয়ী-ঠাকুর-মা-স্বামীজি-সেখানেও তিনি ঠাকুর। মা সারদা ‘মা’ এবং বিবেকানন্দ হলেন ‘স্বামীজি’।’ সেখানেই প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে তিনি লেখেন, ‘আমি প্রধানমন্ত্রীকে সনির্বন্ধ অনুরোধ জানাচ্ছি, আধুনিক ভারতের রূপকার বাংলার এই নবজাগরণের মহাপুরুষদের অপমান করা দয়া করে বন্ধ করুন। তাঁদের জন্য রোজ নতুন নতুন বিশেষণ আবিষ্কার করার কোনও প্রয়োজন নেই। দয়া করে, বাংলার আবেগকে এভাবে বারবার আঘাত করা বন্ধ করুন।’ উল্লেখ্য, প্রধানমন্ত্রীর (PM Modi) এই পোস্ট নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তৃণমূলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষও (Kunal Ghosh)।
সর্বশেষ খবর
-
জন্ম থেকে দলের ‘মালিকানা’ বদল, মমতার তৃণমূলের ২৮ বছরের ইতিবৃত্ত
-
জিনিয়াস স্পোর্টস নয়, আইএসএল আয়োজনের অধিকার খুব সম্ভবত পেতে চলেছে ক্লাবগুলি
-
ফেডারেশনের বৈঠকে রণক্ষেত্র টলিপাড়া, ‘বিশ্বাস ব্রাদার্স’-এর বিরুদ্ধে ‘চোর চোর’ স্লোগানে ছোঁড়া হল ডিম
-
সমর্থকদের উপস্থিতিতে নিষেধাজ্ঞা, হোটেল আর ট্রেনিংয়ে ‘কারফিউ’ ব্রাজিলের
-
বন্ধুত্বের উপহার, প্রথমবার সংসদে যাওয়ার সুযোগ হারিয়েও রাজ্যসভা আসন কংগ্রেসকে ছাড়লেন বিজয়