২২ আষাঢ়  ১৪২৭  মঙ্গলবার ৭ জুলাই ২০২০ 

Advertisement

বিশ্ব পরিবেশ দিবসে মুখ্যমন্ত্রীর হাত ধরে ১০ বছরের নিমগাছের পুনর্জন্ম কলকাতায়

Published by: Subhamay Mandal |    Posted: June 5, 2020 11:59 am|    Updated: June 5, 2020 11:59 am

An Images

কৃষ্ণকুমার দাস: ১০ বছর বয়সী ‘নিম-কনের’ গায়ে যেন যত্ন-আত্তির হলুদ পড়ল। কয়েকদিন ধরে বিয়ের কনের আদলে গায়ে হলুদ, আইবুড়ো ভাত খাওয়ার মত নানা ‘মাঙ্গলিক’ আচার-কর্মসূচি হয়েছে। পায়েসের বদলে দেওয়া হয়েছে রুট-কন্ট্রোল হরমোন। বিয়ের কনে যেমন পার্লারে গিয়ে দু’দিন আগে হাত-পায়ের নখের যত্ন নেয় তেমনই ধাপে ধাপে ‘ট্রিমিং’ হয়েছে শরীরে। মেদ ঝরিয়ে শীর্ণ ‘তনুখানি তুলে ধরার’ মতো করে শুক্রবার ভোররাতে বিশেষ পাহারায় রওনা দিয়েছে রাজসভার উদ্দেশে। আজ শুক্রবার, পরিবেশ দিবসে সবুজের অভিযানে সরকারি রাজসূয় যজ্ঞে সেই মূল আকর্ষণ।

রাজারহাট-নিউটাউনের সরকারি ট্রয় ট্রি নার্সারিতে গত দশ বছর ধরে বেড়ে ওঠা এই ‘কনে’ হল সুদৃশ্য বিশেষ ঘরানার নিমগাছ। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) হাত ধরে নিমগাছের নয়া ঠিকানা হচ্ছে ভবানীপুরের হরিশপার্ক। নার্সারিতে এতদিন যাঁর প্রশ্রয়ে বেড়ে উঠেছে সেই গোপালের কথায়, “মন খারাপ হলেও বেশ সাজিয়ে-গুছিয়ে মেয়েকে শ্বশুরবাড়ি পাঠিয়ে দিলাম।” রাজ্যের বনমন্ত্রী রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, কলকাতা জুড়ে যে দশ বছর বয়সি চার হাজার নিমগাছ বসবে তার সূচনা হবে মুখ্যমন্ত্রীর হাত দিয়ে। থাকবেন পুরমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিমও (Firhad Hakim)। আজ থেকেই শুরু কর্মসূচিতে রাজ্য জুড়ে সাড়ে ছয় কোটি গাছ বসবে। আর রাজ্যকে ভবিষ্যতের ঝড় থেকে বাঁচাতে সুন্দরবনেই ৫ কোটি ম্যানগ্রোভ বসানো হবে বলে মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেছেন। আজকের নিমের মতো দশ বছরের আরও চার হাজার গাছ বসবে তিলোত্তমায়।

[আরও পড়ুন: পরিবেশপ্রেমী দিলীপ ঘোষ, বিশ্ব পরিবেশ দিবসে নিজের হাতে গাছ লাগালেন কলকাতার রাস্তায়]

বনসৃজন কর্মসূচিতে এতদিন ছোট ছোট গাছ পোঁতা হয়েছে শহরে, তা হলে এবার দশ বছর বয়সি যুবা নিমগাছের জন্য হরিশ পার্কের মাঠে উদ্ভিদবিদরা কী কী ‘খানাপিনা’ রাখছেন? কীভাবে বসানো হবে? বিস্তারিত না বললেও বনদফতরের মুখ্য বনপাল রাজু দাস অনুষ্ঠানের জানিয়েছেন, “পাঁচ ফুট বাই পাঁচ ফুট। গভীরতা চারফুট। সেই গর্তে প্রথমে ছয় ইঞ্চি বালি, তার উপরে কম্পোস্ট সার, পুরনো কাঠের গুঁড়ো ও বিশেষ ধরনের মাটি। প্রায় দু’ফুট গদির উপর বসবে নিম।” আমফান পরবর্তীতে গাছ লাগানোর চেয়ে পরিচর্যায় বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন বনপাল। তবে এই গাছটির শিকড় যাতে বেশি মাটির নিচে না যায় তা ছেলেবেলা থেকেই খেয়াল রাখা হয়েছে। নার্সারির মাথায় ছিল, যৌবন এলেই বিদায় দিতে হবে, তাই মাথার ডাল ছাটা হয়েছে। ডালপালায় ভারসাম্য রাখা হয়েছে। বনকর্তার কথায়, “ছেলেবেলা থেকেই নিমকে বেশি বয়সে শ্বশুরবাড়ি পাঠানোর প্রস্তুতি ছিল। পরিচর্যাও হয়েছে সেভাবেই।”

[আরও পড়ুন: করোনা আবহেও পুজোর গন্ধ কুমোরটুলিতে, স্যানিটাইজার মেখে উমা চললেন ক্যাঙারুর দেশে]

Advertisement

Advertisement

Advertisement

Advertisement

Advertisement