স্টাফ রিপোর্টার: কিশোরীকে ‘গণধর্ষণ’ ও খুন-কাণ্ডে অভিযুক্ত ‘ওলা’ চালক গুড্ডু সিং নিজেই এক দাগি৷ দক্ষিণ কলকাতার হেস্টিংস থানা এলাকার একটি ডাকাতির অভিযুক্ত এই চালক গুড্ডু৷ অথচ তার পরিচয় না জেনেই কীভাবে তাকে অ্যাপ ট্যাক্সির চালক হিসাবে নিয়োগ করা হল, তা নিয়েই দেখা দিয়েছে প্রশ্ন৷
ঘটনায় যে চলন্ত গাড়িটির ভিতর ‘গণধর্ষণ’ ও খুন হয়েছে বলে অভিযোগ, সেই গাড়িটির কোথাও নেই ‘ওলা’ স্টিকার৷ এমনকী, তদন্ত করতে গিয়ে পুলিশ দেখেছে যে, গাড়িটির রেজিস্ট্রেশন যে মহিলার নামে, তিনি এই ‘ওলা’ ট্যাক্সিটির আসল মালকিন নন৷ নীতা আচার্য নামে ওই মহিলা মাস দুই আগে দীপক সিংকে চুক্তির ভিত্তিতে গাড়িটি ‘বিক্রি’ করেন৷ তিনিই ইন্ডিগো গাড়িটিকে ওলা ট্যাক্সি হিসাবে ব্যবহার করেন৷ ওই ব্যক্তিই এলাকার যুবক গুড্ডু সিংকে নিয়োগ করেন চালক হিসাবে৷
বুধবার পরিবহণমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানান, ঘটনার রিপোর্ট পুলিশের কাছে চেয়ে পাঠানো হয়েছে৷ রিপোর্ট এসেছে৷ চালকের লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে৷ আগামী দিনে চালক নিয়োগের ক্ষেত্রে অ্যাপ ট্যাক্সি মালিকরা যদি আরও বেশি সতর্ক না হন, তখন তাঁদের সঙ্গে মউ পুনর্বিবেচনা করা হবে৷ অভিযোগ প্রমাণিত হলে, এটি যে সংস্থার গাড়ি, তাকে শোকজ করা হবে৷
এদিন ওলা সংস্থার পক্ষ থেকে বলা হয়েছে যে, তাঁরা এই ঘটনায় অত্যন্ত দুঃখিত৷ ক্যাবটি শনাক্ত করার পর সংস্থার পক্ষ থেকে অ্যাকাউন্টটি সাসপেন্ড করা হয়েছে৷
জানা গিয়েছে যে, ওলা-র ডিউটি থাকাকালীন এই ঘটনাটি ঘটেনি৷ তবে কর্তৃপক্ষ তদন্তকারীদের সহযোগিতা করবে৷ ট্যাক্সিটির অভিযুক্ত চালক গুড্ডু সিংয়ের সঙ্গী ও এই ঘটনার অন্য অভিযুক্ত শঙ্কর সাউ নিজেও একজন অ্যাপ ট্যাক্সি চালক৷ অ্যাপ ট্যাক্সির ক্ষেত্রে নিয়ম হচ্ছে, চালক নিয়োগ করার আগে তাঁর সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য মালিকের কাছে অবশ্যই থাকবে৷ প্রয়োজনে কোনও জনপ্রতিনিধি তাঁর শংসাপত্র দিতে পারেন৷ তিনি আগে কোনও অপরাধ করে থাকলে মালিক তাঁর নিয়োগের বিষয়টি বিবেচনা করবেন৷
কিন্তু তদন্ত করে পুলিশ জানতে পেরেছে যে, গত ২০১৩ সালে গুড্ডু হেস্টিংস থানা এলাকায় একটি ডাকাতি করে৷ সে গ্রেফতারও হয়৷ জেল থেকে বেরিয়ে সে গাড়ি চালাতে শুরু করে৷ দু’মাস আগে তার সঙ্গে যোগাযোগ হয় ওলা ট্যাক্সির মালিকের৷ অভিযোগ, সে পুরনো দাগি হওয়া সত্ত্বেও চালক হিসাবে তাকে নিয়োগ করা হয়৷ জিজ্ঞাসাবাদের মুখে মালিক জানিয়েছেন, তিনি মাস দুই আগে চুক্তির ভিত্তিতে গাড়িটি নেন৷ কিন্তু জানতেন না যে, গুড্ডু একজন দাগি৷
তবে প্রশ্ন উঠেছে, অ্যাপ ট্যাক্সি জিপিএস নির্ভর হওয়ার ফলে তার অবস্থান মালিক জানতে পারেন৷ অথচ ডিউটিতে না থাকা সত্ত্বেও কীভাবে ওই ট্যাক্সি নিয়ে মদ্যপ অবস্থায় বের হল চালক? মালিকের কাছেই বা কোনও খবর নেই কেন এ বিষয়ে?
সর্বশেষ খবর
-
বিদেশ সচিব হয়েই দিল্লি সফরে কুপার, ইরান যুদ্ধের জেরে বদলাচ্ছে ভারত-ব্রিটেন কূটনৈতিক অঙ্ক
-
‘ভারত থেকে অনেক কামাচ্ছি’, নতুন শুল্ক ঘোষণার পরই ‘প্রিয় বন্ধু’ মোদির প্রশংসায় ট্রাম্প
-
‘উচ্চতর মেধাকে নিম্ন পদে নয়’, উচ্চশিক্ষা গোপন করা নিয়ে ক্ষুব্ধ সুপ্রিম কোর্ট
-
ইন্ডিয়া জোটের বৈঠকের দিনই তৃণমূলের সাংসদ ভাঙন? জল্পনায় আরও চাপে কালীঘাট!
-
‘সিনেমাতেই মনোযোগ দিতে চাই’, ‘ফুলপিসি’তে বিনির চরিত্রে প্রশংসিত হতেই ভবিষ্যৎ ভাবনা শ্যামৌপ্তির