সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: ‘মুসলিম সম্প্রদায় কি গরু?’ শনিবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের করা মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে এমন চাঁচাছোলা প্রশ্নে মুখ্যমন্ত্রীকে আক্রমণ করলেন বিজেপি নেতা মুকুল রায়৷ মমতার সমালোচনা করে বিজেপির এই ভোট ম্যানেজার বললেন, মুসলিমদের সম্পর্কে এটাই তৃণমূল নেত্রীর মূল্যায়ণ৷
[ আরও পড়ুন: আগামিকাল উচ্চমাধ্যমিকের ফলপ্রকাশ, জানতে চোখ রাখুন এই ওয়েবসাইটগুলিতে]
লোকসভা নির্বাচনে শোচনীয় পরাজয়ের পর শনিবার প্রথম সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷ বিজেপির বিরুদ্ধে তিনি অভিযোগ করেন, “বাংলার ভোটে এ বার টোটাল হিন্দু-মুসলমান হয়েছে”। সাংবাদিকদের উদ্দেশে ক্ষিপ্ত তৃণমূল সুপ্রিমো জানান, “৩১ তারিখ আমাদের ইফতার আছে। আপনারাও আসবেন। আমি যাব। হ্যাঁ, আমি তো মুসলিম তোষণ করি। যে গরু দুধ দেয় তার লাথও খাব”। মুখ্যমন্ত্রীর এই মন্তব্যকে ঘিরে প্রবল বিতর্ক মাথাচাড়া দিয়েছে রাজ্য রাজনীতিতে৷ প্রশ্ন ওঠে, সংখ্যালঘুদের তবে কি শুধুমাত্র ভোটব্যাংক হিসাবেই দেখেন তৃণমূল নেত্রী? কারণ, সদ্য সমাপ্ত লোকসভা নির্বাচনে এই সংখ্যালঘু ভোটই তৃণমূলের ত্রাতার ভূমিকা পালন করেছে৷ গত ২৪ ঘণ্টায় যে গুঞ্জন শোনা যাচ্ছিল, রবিবারের সাংবাদিক বৈঠকে সেই প্রশ্নই তোলেন মুকুল রায়৷ মুখ্যমন্ত্রীকে একহাত নিয়ে তিনি বলেন, ‘‘দুপুরে ইলিশ মাছ ও ভাত খেয়ে সন্ধ্যায় অভুক্ত মুসলিমদের ইফতার পার্টিতে যান মমতা৷’’ তবে মুকুলের এই বক্তব্যকে স্ববিরোধী বলে পালটা কটাক্ষ ছুঁড়ে দিয়েছে রাজনৈতিক মহলের একাংশ৷ তাঁদের মতে, তৃণমূলে থাকাকালীন সংখ্যালঘুদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষার পুরো বিষয়টিই দেখতেন এই মুকুল রায়৷ এমনকী, শাসকদলের ইফতার পার্টিগুলি আয়োজনের দায়িত্বেও ছিলেন তিনি৷ তবে এখন সেই মুকুল রায় কীভাবে সংখ্যালঘু তোষণ নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর সমালোচনা করছেন, প্রশ্ন সমালোচকদের৷
[ আরও পড়ুন: বিধানসভা ভিত্তিক ফলে সুজন দ্বিতীয়, আরও পিছিয়ে বাকি বাম বিধায়করা ]
শনিবার মুখ্যমন্ত্রী পদ থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যে পদত্যাগ করতে চান, এদিন সে বিষয়টিকেও কটাক্ষ করেন মুকুল রায়৷ তৃণমূল সুপ্রিমোর বক্তব্যকে ‘নাটক’ বলে কটাক্ষ করে বিজেপি নেতা বলেন, ‘‘উনি কার কাছে পদত্যাগের ইচ্ছাপ্রকাশ করলেন? দলটাই তো উনি৷ সেই কাগজও কেউ দেখতে পেল না৷ নাটক করলেন৷ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কখনওই পদত্যাগ করবেন না৷ কারণ ক্ষমতা ভোগের স্বাদ উনি ছাড়তে পারবেন না৷ বাংলার মানুষ যতক্ষণ না ওনাকে ছুঁড়ে ফেলবেন, ততক্ষণ উনি যাবেন না৷’’ এদিন আবারও তৃণমূলকে উৎখাতের ডাক দিয়ে মুকুল রায় দাবি করেন, ‘‘এই নির্বাচনে শাসকদলের ১৭ জন মন্ত্রী হেরে গিয়েছেন৷ ১২৪টা বিধানসভা কেন্দ্রে বিজেপি বিজয়ী হয়েছে৷ ৯টায় জিতেছে কংগ্রেস৷ ৩০টা বিধানসভায় আমরা কম ভোটে হেরেছি৷’’ তৃণমূলের বিরুদ্ধে রিগিংয়ের অভিযোগ জানিয়েই লোকসভা নির্বাচনে একশো শতাংশ কেন্দ্রীয় বাহিনীর দাবি জানায় বিজেপি৷ বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই তাঁদের দাবি মান্য হয়েছে৷ কিন্তু তাও এদিন শাসকদলের বিরুদ্ধে ভোটলুটের অভিযোগ করেন মুকুল রায়৷ জানান, ঘাটাল ও আরামবাগ লোকসভায় ভোটলুট করেছে তৃণমূল৷ এর বিরুদ্ধে আদালতে যাবেন তাঁরা৷
সর্বশেষ খবর
-
বদলে যাবে সোদপুর ও খড়দহ স্টেশনের নাম! রেলমন্ত্রকে প্রস্তাব মন্ত্রী কল্যাণ চক্রবর্তীর
-
অধিনায়কত্ব খোয়াচ্ছেন সূর্যকুমার, ভারতের নতুন টি-২০ অধিনায়ক শ্রেয়স আইয়ার!
-
এই ৬ আন্তর্জাতিক গন্তব্যে স্থগিত ইন্ডিগোর বিমান পরিষেবা! বড় সিদ্ধান্ত দেশের বৃহত্তম উড়ান সংস্থার
-
প্রয়াত ‘সংবাদ প্রতিদিন’-এর প্রতিষ্ঠাতা প্রধান কার্যনির্বাহী কর্তা নারায়ণ বসু
-
শ্লীলতাহানি, তোলাবাজির অভিযোগে গ্রেপ্তার স্বরূপ বিশ্বাস, ডিম হাতে থানা ঘেরাও ক্রুদ্ধ জনতার