BREAKING NEWS

১২ আশ্বিন  ১৪২৭  বুধবার ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২০ 

Advertisement

পেট-পায়ুদ্বার-মহিলাদের যৌনাঙ্গ, ড্রাগ পাচারের নয়া ছকে ধাঁধায় গোয়েন্দারা

Published by: Sangbad Pratidin Digital |    Posted: January 9, 2018 5:40 am|    Updated: January 9, 2018 5:48 am

An Images

কলহার মুখোপাধ্যায়: ধারালো প্রমাণ মাপের একটা তরোয়াল গলায় ঢুকিয়ে গিলে নেওয়ার খেলা দেখানোর মানুষের সংখ্যা কম নয়। সার্কাসে বা মাদারির খেল-এ আখছারই তা দেখা যায়। ঠিকমতো অনুশীলন করলে এ খেলা দেখানো মোটেই শক্ত নয়। মাধ্যাকর্ষণের নিয়মেই তরোয়াল পেটে ঢুকে যায়। বলছেন, লিন্ডসে ফোওলার। এই খেলায় একদা বেশ নামডাক হয়েছিল তাঁর। পরে তিনি এই কায়দাকে কাজে লাগিয়ে ড্রাগ পাচার শুরু করেন। পেটে তরোয়াল ঢোকানোর কায়দায় প্যাকেটে পুরে মাদক ঢুকিয়ে নিতেন। ড্রাগ পেডলিংয়ের জগতে অচিরেই খাতির বেড়ে যায় তাঁর। অবলীলায় পেরিয়ে যেতেন একের পর এক সীমান্ত। পরে পাচারের এই নয়া কৌশলের নাম দেওয়া হয় ‘বেলুন সোয়েলিং’। নারকোটিক্স বিজ্ঞানে যাকে ‘বডি ক্যাভিটি’ বলা হয়।

গত শুক্রবার কলকাতায় নাইজিরিয়ার বাসিন্দা কেভিন এডওয়ার্ডস জেমসকে কোটি টাকার মাদক-সহ ধরে নারকোটিক্স কন্ট্রোল ব্যুরো(এনসিবি)। জেরায় বডি ক্যাভিটির বিষয়ে বিশদে বিবরণ পেশ করে সে। তার কাছ থেকে জানা যায়, নাইজিরিয়া থেকে এভাবেই মাদক পাচার হয়ে এদেশে ঢুকছে। এরপরই সোর্সদের নাড়াচাড়া শুরু করেছে এনসিবি।

[গ্যাস সিলিন্ডার বুকিং আরও সহজ, ফেসবুক-টুইটারেই এবার সুযোগ]

বডি ক্যাভিটি কী? নারকোটিক্স সূত্রে জানা গিয়েছে, দেহের অভ্যন্তরে বেশ কিছু ফাঁকা এলাকা রয়েছে। যে শূন্যস্থানে প্রধানত জল ও বায়ু থাকে। কষ্টসাধ্য হলেও সেই স্থানে বহিরাগত দ্রব্য পুরে ফেলা যায়। এই পদ্ধতিকেই বেলুন সোয়েলিং বলে।

শরীরের ফাঁকা জায়গাগুলিকে কাজে লাগিয়ে পাচার শুরু করেছিলেন লিন্ডসে ফোওলার। এখন বিশ্বের অধিকাংশ ড্রাগ পেডলার এই কায়দায় পাচার করে থাকে। গত কয়েক বছর ধরে ব্যাপক ধরপাকড়ের ফলে এই পদ্ধতিতে ভাটা পড়েছিল। তবে জেমসের কথা অনুযায়ী, সম্প্রতি এই পদ্ধতি ফের জনপ্রিয় হয়েছে। নাইজিরিয়া থেকে যে মাদক ভারতে ঢুকছে, তার অধিকাংশই বডি ক্যাভিটিতে পুরে আনা হচ্ছে বেলুন সোয়েলিং করে।

গত ২৭ ডিসেম্বর দমদম বিমানবন্দরে সাড়ে ৪ লক্ষ টাকার সোনা পাচারের অভিযোগে ধরা হয় এক ব্যক্তিকে। সে তার পায়ুদ্বারে সোনা ঢুকিয়ে আনছিল। উইকিপিডিয়া জানাচ্ছে, পায়ু ছাড়াও কোলন, মহিলাদের যৌনাঙ্গ, মুখগহ্বর পেটের অভ্যন্তরে মাদক পুরে আনার চল আছে। বছর কয়েক আগে পেনসিলভেনিয়া থেকে এক মহিলাকে ধরা হয়। যে ৫৪ ব্যাগ হেরোইন যৌনাঙ্গে ঢুকিয়ে নিয়ে আসছিল। ১৬ বছর কাটানোর পর সম্প্রতি গারদের বাইরে এসেছে ইংল্যান্ডের বাসিন্দা এম হার্নান্ডেজ। পেরুতে ৮৮টি কোকেন বেলুন সমেত ধরা হয় তাকে। সে নিজেকে সন্তানসম্ভবা বলে কূটনৈতিক সাহায্য চেয়েছিল। আদালত তা নামঞ্জুর করে। ১৬ ঘণ্টা জেরা করা হয়েছিল তাকে। একটি তথ্য বলছে, ইংল্যান্ড ও আমেরিকার জেলে জামাইকা, কলম্বিয়া ও নাইজিরিয়ার বন্দিদের ৫০ শতাংশ বেলুন সোয়ালিংয়ের অভিযোগে ধরা পড়েছে। ওদেশে এদেরকে ড্রাগ মিউল বলা হয়। জানা গিয়েছে, কেজি দেড়েক হেরোইন বা ৯০টার মতো ক্যাপসুল হামেশাই বেলুন সোয়েলিংয়ের মাধ্যমে পাচার হয়। সহজে ধরা যায় না। কেন?

সেন্ট্রাল ইন্ডাস্ট্রিয়াল সিকিউরিটি ফোর্সের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, যেহেতু প্লাস্টিক জাতীয় কিছুতে ভরে মাল গিলে নেয়। তাই মেটাল ডিটেক্টরে তা ধরা পড়ে না। তাহলে উপায়? দেহের অভ্যন্তরে মাল লুকিয়ে রাখলে হাঁটার গতি শ্লথ হয়ে যায়। তা দেখেই প্রাথমিকভাবে শনাক্ত করা হয় পাচারকারীকে। তারপর গ্রেপ্তার করে আদালতে তোলা হয়। শাস্তি ১০ বছরের মতো জেল। এছাড়া তাদের কাউন্সেলিং চলে। কী রকম?

[গবেষণা ছেড়ে হিজবুলে যোগ, পড়ুয়াকে বহিষ্কার আলিগড় বিশ্ববিদ্যালয়ের]

এনসিবির এক আধিকারিক জানিয়েছেন, বেশিরভাগ বেলুন সোয়েলার মারা যায় শরীরে মাদক ঢুকে সংক্রমণ হওয়ার ফলে। লম্বা রাস্তায় দেহের মধ্যে থাকা অনেক প্যাকেটের মধ্যে একটিও যদি ফেটে যায়, তাহলে অনিয়ন্ত্রিত পরিমাণে ড্রাগ গিয়ে মেশে রক্তে। সারা জ্যাকশন জাতে ব্রিটিশ। তাঁর রক্তে মিশেছিল অপরিমিত ড্রাগ। পেরুতে বেলুন সোয়েলার হয়ে গিয়েছিলেন তিনি। ধরা পড়েন। জেল খাটেন। বেশিরভাগ সময় জেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। এখন মুক্ত এবং সুস্থ। তিনি জানিয়েছেন, লোন নিয়েছিলেন একটি সংস্থা থেকে। শোধ করছিলেন। তবে ‘লোন হাঙররা’ সময় দেয়নি। তাঁকে জোর করে ড্রাগ মিউল বানিয়ে দেয়। এখনও দেশে পরিবারের কাছে ফিরতে পারেননি তিনি।

[কেন্দ্রের ডিগবাজি, এবার সিনেমা হলে জাতীয় সংগীত বাধ্যতামূলক না করার আরজি]

Advertisement

Advertisement

Advertisement

Advertisement

Advertisement