Advertisement
Advertisement
Advertisement
Sangbad Pratidin
  • ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
  • বৃহস্পতিবার
  • ৪ জুন ২০২৬
Food

এবার বিচারাধীন বন্দিরাও পাবেন গরম খাঁটি গরুর দুধ, আদালতের লকআপে নতুন মেনু

জেল থেকে আদালতে নিয়ে আসার পর যাতে চার বেলার জন্য বন্দিদের খাবারের সমস্যা না হয়, এবার সেই ব্যবস্থা করল কলকাতা পুলিশ।

Advertisement
অর্ণব আইচ
অর্ণব আইচ

শেষ আপডেট: ফেব্রুয়ারি ১৩, ২০২৬, ১১:৫৭

link
অর্ণব আইচ
অর্ণব আইচ

শেষ আপডেট: ফেব্রুয়ারি ১৩, ২০২৬, ১১:৫৭

options
link
এবার বিচারাধীন বন্দিরাও পাবেন গরম খাঁটি গরুর দুধ, আদালতের লকআপে নতুন মেনু zoom
কোর্ট লকআপে নয়া মেনু। অলংকরণ: সুলগ্না ঘোষ।

চালে এক রতি কাঁকরও যেন না থাকে। দুধ যেন হয় গরুর আর খাঁটি। রান্না হতে হবে খাঁটি সরষের তেলে। আদালতের লকআপে বিচারাধীন বন্দিদের জন্য নতুন মেনু লালবাজারের। কোর্ট লক আপে আসার পরও যেন ‘আপ্যায়ণে’ ত্রুটি না থাকে, অতিথিকে দিতে হবে গরম খাঁটি গরুর দুধ। জেল থেকে আদালতে নিয়ে আসার পর যাতে চার বেলার জন্য বন্দিদের খাবারের সমস্যা না হয়, এবার সেই ব্যবস্থা করল কলকাতা পুলিশ। শুধু পর্যাপ্ত পরিমাণ খাবারই নয়, খাবারের মান যাতে ভালো হয়, সেই ব্যাপারেও কড়া কলকাতা পুলিশের রিজার্ভ ফোর্স বিভাগ। লালবাজারের সূত্র জানিয়েছে, প্রাথমিকভাবে সিটি সেশন ও ফাস্ট ট্র্যাক আদালত ও এসিএমএম (২) আদালত লকআপের বন্দিদের জন্য তৈরি হচ্ছে এই মেনু। ক্রমে শহরের অন্যান্য আদালতের লকআপের বন্দিদের জন্যও মেনু তৈরি করে ভালো খাবার দেওয়ার পরিকল্পনা হয়েছে।

জেল থেকে আদালতে নিয়ে আসা প্রত্যেক বন্দির জন্যই দিন ও রাতের খাবারের ব্যবস্থা রাখা হচ্ছে। এছাড়াও প্রাতরাশ ও সান্ধ্যকালীন খাবারও থাকছে। পুলিশ জানিয়েছে, প্রথম শ্রেণির বন্দিদের জন্য দিন বা রাত, প্রয়োজনে দু’বেলাই দেওয়া হবে ভাত, রুটি, ডাল, তরকারি, মাছের ঝোল। যাঁরা মাছ খাবেন না, তাঁদের জন্য থাকবে মরশুমি ফল। দ্বিতীয় শ্রেণির বন্দিদের জন্য প্রত্যেকদিনের মেনুতে থাকছে ভাত, রুটি, ডাল, তরকারি, মাছের ঝোল। এই ক্ষেত্রে যে বন্দি মাছ খাবেন না, তাঁর জন্য বরাদ্দ থাকবে দুধ অথবা দই। দুই শ্রেণির বন্দিদের জন্যই প্রাতরাশের মেনু চা ও পাউরুটি। বিকেল বা সন্ধ্যায় তাঁদের দেওয়া হবে চা ও দু’টি বিস্কুট। প্রত্যেক বন্দির জন্য পরিমাণও বেঁধে দিয়েছে কলকাতা পুলিশ।

Advertisement

পুলিশ জানিয়েছে, প্রথম শ্রেণির বন্দিদের জন্য দু’বেলাই দেওয়া হবে ভাত, রুটি, ডাল, তরকারি, মাছের ঝোল। যাঁরা মাছ খাবেন না, তাঁদের জন্য থাকবে মরশুমি ফল। দ্বিতীয় শ্রেণির বন্দিদের জন্য প্রত্যেকদিনের মেনুতে থাকছে ভাত, রুটি, ডাল, তরকারি, মাছের ঝোল। যে বন্দি মাছ খাবেন না, তাঁর জন্য বরাদ্দ থাকবে দুধ অথবা দই। দুই শ্রেণির বন্দিদের জন্যই প্রাতরাশের মেনু চা ও পাউরুটি।

প্রত্যেকের জন্য নির্দিষ্ট করে খাবারের পরিমাণও বরাদ্দ করা হয়েছে। যেমন –

  • চাল ২৪৮ গ্রাম
  • আটা ২৪৭ গ্রাম
  • ডাল ১৪৫ গ্রাম
  • সবজি ২০০ গ্রাম
  • আলু ৫৮ গ্রাম
  • ভেলি গুড় সাড়ে ১৪ গ্রাম।
  • মাছের পরিমাণও রাখা হয়েছে সাড়ে ১৪ গ্রাম।

সেক্ষেত্রে একদিন অন্তর তাঁদের ২৯ গ্রাম মাছ দেওয়া যেতে পারে। যাঁরা খাবার সরবরাহ করবেন, তাঁদের উপর পুলিশের নির্দেশ, প্রথম শ্রেণির বন্দিদের দিতে হবে দামি সরু চাল। দ্বিতীয় শ্রেণির বন্দিদের জন্য চালের মান হবে মাঝারি। কিন্তু কোনও কাঁকর, ময়লা থাকবে না। তরকারি রান্না করতে হবে টাটকা সবজি দিয়ে। রুই, কাতলা বা মৃগেল ছাড়া অন্য কোনও মাছ বন্দিদের দেওয়া চলবে না। যে বন্দিরা দুধ খাবেন, তাঁদের গরুর দুধই দিতে হবে। সেই দুধ হতে হবে খাঁটি। রান্না করতে হবে খাঁটি সরষের তেল দিয়ে। রান্নায় ব্যবহার করতে হবে পর্যাপ্ত পরিমাণ নুন-মশলা। রান্নার আগে ডাল বেছে পরিষ্কার করে নিতে হবে। রান্না যেন ভালো হয়। বন্দিদের যেন গরম খাবার পরিবেশন করা হয়।

অসুস্থ বন্দিদের ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শমতো খেতে দিতে হবে। লালবাজার জানিয়েছে, সাধারণভাবে আদালত লকআপে প্রত্যেক বন্দির খাবারের জন্য বরাদ্দ ২ টাকা ৭৩ পয়সা। এবার থেকে প্রত্যেক বন্দির খাবারের জন্য বরাদ্দ হল ৭৩ টাকা ৫০ পয়সা। পুলিশের সূত্র জানিয়েছে, সাধারণভাবে বিচারাধীন বন্দিদের আদালতে হাজিরা দেওয়ার আগে তাঁদের জেলেই খেয়ে নিতে হয়। এরপর তাঁদের প্রিজনার্স ভ্যান করে নিয়ে আসা হয় আদালতে। কিন্তু সেখানে এখন চা ও দু’টি পাউরুটি বা বিস্কুট দেওয়া হয়।

লালবাজার জানিয়েছে, সাধারণভাবে আদালত লকআপে প্রত্যেক বন্দির খাবারের জন্য বরাদ্দ ২ টাকা ৭৩ পয়সা। এবার থেকে প্রত্যেক বন্দির খাবারের জন্য বরাদ্দ হল ৭৩ টাকা ৫০ পয়সা।

এদিকে, বিচারের প্রয়োজনে যে বন্দিদের একটু সকালের দিকে নিয়ে আদালতের লকআপে নিয়ে যাওয়া হয়, তাঁরা পড়েন বিপদে। কিছু ক্ষেত্রে কোনও বন্দির জন্য তাঁর বাড়ির লোকেরা পুলিশকে বাড়ি থেকে আনা খাবার দিতে অনুরোধ করেন। কিন্তু দেখা গিয়েছে, আদালতে আসা বিচারাধীন বন্দিদের অনেকেরই সারাদিন প্রায় কোনও খাবারই জোটে না। ফের রাতে জেলে ফিরে গিয়ে খেতে হয়। আবার বাড়ির খাবারের ক্ষেত্রেও অনেক সময় নিরাপত্তাগত দিক থেকে ঝুঁকি থেকে যায়।

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Advertisement

Share this article on

The article link is copied.