Advertisement
Advertisement
Advertisement
Sangbad Pratidin
  • ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
  • বৃহস্পতিবার
  • ৪ জুন ২০২৬
JP Nadda

শুভেন্দু-শমীকদের উপর ভরসা নেই? বঙ্গ বিজেপির রাশ মোদি-শাহের হাতেই, বার্তা দিলেন নাড্ডা

বাঙালির ভাবাবেগে আঘাত দেওয়া যাবে না, বার্তা নাড্ডার।

Advertisement
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: জানুয়ারি ৯, ২০২৬, ১৮:৩৮

link
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: জানুয়ারি ৯, ২০২৬, ১৮:৩৮

options
link
শুভেন্দু-শমীকদের উপর ভরসা নেই? বঙ্গ বিজেপির রাশ মোদি-শাহের হাতেই, বার্তা দিলেন নাড্ডা zoom

রূপায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়: গাড়ি চালাবেন শুভেন্দু অধিকারী এবং শমীক ভট্টাচার্যেরাই। তবে গাড়ির ইঞ্জিন হবেন কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। অর্থাৎ, বঙ্গ বিজেপির রাশ থাকবে নরেন্দ্র মোদি, অমিত শাহ, বাংলার ভোটের কাজে দায়িত্বপ্রাপ্ত ভিন রাজ্যের নেতাদের হাতেই। বঙ্গ সফরে এসে দলীয় বৈঠকে রাজ্যের বিজেপি নেতাদের এই বার্তাই দিয়ে গেলেন দলের সর্বভারতীয় সভাপতি জেপি নাড্ডা।

বিজেপি সূত্রে খবর, ইতিমধ্যেই ভিন রাজ্যের বেশ কিছু নেতাকে বাংলায় পাঠানো হয়েছে। ৪৩টি সাংগঠনিক জেলার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে তাঁদের। ভিন রাজ্যের নেতাদের কাজ সাংগঠনিক জেলা সভাপতিদের সঙ্গে সমন্বয় রেখে ভোটের প্রস্তুতি নেওয়া। বৃহস্পতিবার বিধাননগরে যে নাড্ডা বৈঠকটি করেছেন, সেখানে জেলা সভাপতিদের সঙ্গে ভিন রাজ্যের সেই সব নেতাও ছিলেন। বিজেপির সূত্র জানিয়েছে, নাড্ডা বৈঠকে বলেছেন, “গাড়ি চলবে। ভিন রাজ্যের নেতারা কাজ করবেন ইঞ্জিন হিসাবে।”

Advertisement

গত বিধানসভা নির্বাচনের সময়েও ভিন রাজ্যের নেতাদের বাংলায় ভোটের দায়িত্ব দিয়ে পাঠিয়েছিলেন মোদি-শাহেরা। যদিও সেই নির্বাচনে ভোটের ফল আশানুরূপ হয়নি। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মত, কেন্দ্রীয় নেতাদের এত আনাগোনা বাংলার মানুষ মেনে নেননি। বিভিন্ন মিটিং-মিছিলে হিন্দিতে তাঁদের ভাষণ দাগ কাটতে পারেনি মানুষের মনে। কারণ তাঁরা বাংলার ঐতিহ্য-সংস্কৃতির সঙ্গেই সম্পৃক্ত নন। সম্প্রতি এই বিষয়টি নিয়েই মুখ খুলেছিলেন তমলুকের বিজেপি সাংসদ অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়। বাংলায় ‘অবাঙালি বিজেপি নেতৃত্বের দাপট’ নিয়ে ‘অসন্তোষ’ প্রকাশ করেছিলেন তিনি। উত্তর ভারতের সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের মানুষের চিন্তাভাবনা মেলে না দাবি করে তিনি বলেছিলেন, ‘‘হিন্দি বলয় থেকে এখানে নেতা এনে ভোট করানো যাবে না।’’ কটাক্ষের সুরে বলেন, ‘‘পশ্চিমবঙ্গের মানুষের মন, মেজাজ, তাঁদের অভিমান, এ সব দিল্লিওয়ালা নেতারা বোঝেন না।’’

ঘটনাচক্রে, রাজ্য রাজনীতিতে অভিজিৎ বিরোধী দলনেতা শুভেন্দুর ঘনিষ্ঠ বলেই পরিচিত। কলকাতা হাই কোর্টের প্রাক্তন বিচারপতি অভিজিতের বিজেপিতে আসা এবং তমলুক থেকে প্রার্থীর হওয়ার নেপথ্যে শুভেন্দুরই হাত ছিল বলে বিজেপির একাংশের মত। সেই অভিজিতের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বকে নিয়ে এমন মন্তব্যে শুভেন্দুর উসকানি রয়েছে কি না, তা নিয়েও দলের অন্দরে প্রশ্ন উঠেছিল। তার কারণ হল, অভিজিতের মন্তব্যের সরাসরি বিরোধিতা করতে দেখা যায়নি বিরোধী দলনেতাকে।

যদিও বৃহস্পতিবারের বৈঠকে গত বিধানসভা নির্বাচনের ভোট-প্রস্তুতিতে কী কী ভুলভ্রান্তি থেকে গিয়েছিল, তা নিয়েও আলোচনা করেছেন নাড্ডা। বিজেপির সূত্রের খবর, নাড্ডা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, ভিন রাজ্যের নেতাদের কাজ বিজেপির মঞ্চে উঠে গলায় মালা পরে হিন্দিতে ভাষণ দেওয়া নয়। তাঁরা আড়ালেই থাকবেন। আড়ালে থেকেই ভোটের কাজ করে যাবেন। জেলার সংগঠনে কোথায় কী খামতি রয়েছে, তা পর্যালোচনা করবেন এবং সে সব নিয়ে জেলা নেতৃত্বের সঙ্গে আলোচনা করবেন। সময়ে সময়ে সে বিষয়ে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বকে রিপোর্ট পাঠাতে হবে বলেও জানিয়েছেন নাড্ডা।

বিজেপি সূত্রে খবর, ভিন রাজ্যের নেতাদের নাড্ডার কড়া নির্দেশ, কোনও ভাবে বাঙালির ভাবাবেগে আঘাত দেওয়া যাবে না। বিতর্কিত ভাষণ দেওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে তাঁদের। বৈঠকে নাড্ডা বলেছেন, “আপনাদের কাজ শুধু কাজ করে যাওয়া। আপনারা স্রেফ সহযোগী। শুধু ভাষণ নয়, কাজ করুন। কোনও সভামঞ্চে গিয়ে মালা পরা যাবে না।”

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Advertisement

Share this article on

The article link is copied.