Advertisement
Advertisement

Breaking News

যাদবপুরে শব্দবাজির তাণ্ডবে বৃদ্ধার মৃত্যু

১০০ ডায়ালে ফোন বৃদ্ধার কন্যার, আটক প্রতিবেশী যুবক৷

Old woman died for heavy noise of crackers at Jadavpur
Published by: Sangbad Pratidin Digital
  • Posted:August 29, 2016 11:35 am
  • Updated:August 29, 2016 11:35 am

স্টাফ রিপোর্টার: ফের শহরের বুকে নিষিদ্ধ শব্দবাজির তাণ্ডব৷ ‘শব্দদানব’-এর দৌরাত্ম্যে রবিবার দক্ষিণ কলকাতার যাদবপুরে মৃত্যু হল এক বৃদ্ধার৷ এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে যাদবপুরের বিজয়গড়ে়৷

পুলিশ জানিয়েছে, হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে বিছানায় শুয়ে ছিলেন পূর্ণিমা মৈত্র(৬৩) নামে বিজয়গড়ের একটি ফ্ল্যাটের বাসিন্দা৷ বিকেল তিনটে নাগাদ এলাকার কয়েকজন হঠাৎই তাঁর বাড়ির সামনে শব্দবাজি ফাটাতে শুরু করে৷ বিশেষ কোনও কারণ ছাড়াই শব্দবাজি ফাটানোয় বিরক্ত হচ্ছিলেন এলাকার বাসিন্দারাও৷ বাড়ির জানালার নিচে এই ধরনের শব্দ হওয়ার ফলে বৃদ্ধা আরও অসুস্থ বোধ করতে শুরু করেন৷ যতবার চকোলেট বোমা ফাটানো হচ্ছিল, ততবারই তিনি কেঁপে উঠছিলেন৷ তাঁর শারীরিক কষ্ট বাড়তে শুরু করে৷

Advertisement

কোনওমতে তিনি তাঁর মেয়ে পূবালিশিখা মৈত্রকে(৩৫) বিষয়টি জানান৷ অভিযোগ, তিনি বাড়ির বাইরে নেমে এসে প্রতিবাদ জানান৷ তাঁর সঙ্গে এলাকায় কয়েকজন তরুণ ও তাদের পিছনে থাকা এক প্রতিবেশীর সঙ্গে গোলমাল হয়৷ ১০০ ডায়ালে ফোন করে এই শব্দবাজি ফাটানোর বিষয়টি পুলিশকে জানান পূবালিশিখা৷ লালবাজারের নির্দেশে কিছুক্ষণের মধ্যেই ঘটনাস্থলে পৌঁছয় যাদবপুর থানার পুলিশ৷ পুলিশ আধিকারিকদের দেখে যারা বেআইনি শব্দবাজি ফাটাচ্ছিল, তারা পালিয়ে যায়৷ পুলিশ প্রতিবেশীদের সতর্ক করে দেয়, কেউ যেন এলাকায় শব্দবাজি না ফাটায়৷

Advertisement

পুলিশের টিম ঘটনাস্থল থেকে থানায় পৌঁছনোর আগেই এক পুলিশ অফিসারের মোবাইলে ফোনটি আসে৷ পূবালিশিখা মৈত্র ফোন করে পুলিশ আধিকারিককে জানান যে, তাঁর মায়ের মৃত্যু হয়েছে৷ সঙ্গে সঙ্গেই পুলিশ আধিকারিকরা ফের বিজয়গড়ে তাঁর বাড়িতে যান৷ পূর্ণিমা মৈত্রকে পুলিশই নিয়ে যায় এম আর বাঙ্গুর হাসপাতালে৷ চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন৷ বৃদ্ধার মেয়ের অভিযোগ, তাঁদেরই প্রতিবেশী গদাই দেব কয়েকজনকে নিয়ে ইচ্ছাকৃতভাবে বাড়ির সামনে শব্দবাজি ফাটান৷ সেই কারণেই তাঁর মায়ের মৃত্যু হয়েছে৷

এই ঘটনার জেরে পুলিশ গদাই দেবকে আটক করে জেরা করতে শুরু করে৷ যদিও গদাই দেবের পরিবারের পক্ষে পুলিশকে জানানো হয়েছে যে, তাঁদের পরিবারের সঙ্গে মৈত্রদের পরিবারের অনেক আগে থেকেই গোলমাল ছিল৷ তারই জেরে মৈত্র পরিবারের পক্ষ থেকে গদাইয়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানানো হয়৷

বাড়িটির দোতলার ফ্ল্যাটে পূর্ণিমা তাঁর মেয়েকে নিয়ে থাকতেন৷ বৃদ্ধার স্বামীর অনেক আগেই মৃত্যু হয়েছে৷ তাঁদের পারিবারিক ব্যবসাও রয়েছে৷ বেশ কয়েক মাস ধরে বৃদ্ধা হৃদরোগ ও অন্যান্য অসুস্থতায় ভুগছিলেন৷ শনিবার বৃদ্ধার অসুস্থতা বাড়ে৷ যুবতী তাঁর মাকে নিয়ে প্রথমে একটি নার্সিংহোমে যান৷ সেখান থেকে নিয়ে যান বাইপাসের ধারে একটি বেসরকারি হাসপাতালে৷ রাতে চিকিৎসকের পরামর্শে মাকে বাড়িতে নিয়ে আসেন তিনি৷ ডাক্তারর তাঁকে সাবধানে থাকতে বলেছিলেন৷ কিন্তু এর মধ্যেই নিষিদ্ধ শব্দবাজি ফাটানো শুরু হওয়ায় ফের তিনি অসুস্থ বোধ করতে শুরু করেন৷ সেই কারণেই তাঁর মৃত্যু হয় বলে অভিযোগ৷

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ