তনুজিৎ দাস: প্রথমে আলিঙ্গনের ‘দোষে’ মেট্রোয় যুগলকে ধরে মারধর। তারপর চলন্ত বাসে তরুণীকে দেখে হস্তমৈথুন। পরপর এমন ঘটনার মুখোমুখি হচ্ছে কলকাতা, যেন মাথা নুয়ে দিচ্ছে কল্লোলিনীর। লজ্জিত শহরবাসী, বিশিষ্টরাও। এমন একটা সংকট, পাশের মহিলা সহযাত্রীর চোখে চোখ রাখতেও যেন সংকোচ হচ্ছে পুরুষদের। কোথাও একটা কাজ করছে অস্বস্তি। এ লজ্জা কি তবে একার নয়, সামগ্রিকভাবে পুরুষদেরই? কী বলছেন বিশিষ্টরা?
[ ‘লোকটিকে হস্তমৈথুন করতে দেখেও যারা প্রতিবাদ করেনি তারাও সমান অপরাধী’ ]
পরিচালক কমলেশ্বর মুখোপাধ্যায় বলছেন, “লজ্জিত তো হচ্ছিই। একেবারে অনভিপ্রেত একটি ঘটনা গতকাল ঘটে গিয়েছে। আমাদের শহরে অন্তত এতদিন এরকম কোনও ঘটনা ঘটতে দেখা যায়নি। তবে ইদানিং হচ্ছে। ফলে লজ্জা তো আছেই।” গায়ক রূপঙ্কর জানাচ্ছেন, “অনেকদিন আগে থেকেই পুরুষ এবং আমাদের সমাজ মহিলাদের সম্মান করে আসছে। এরম অনেক উদাহরণই আমাদের কাছে আছে। তবে যেরকম ঘটনা পরপর ঘটছে তা সত্যিই খুব অ্যালার্মিং।” সহযাত্রীরা যেভাবে পুরো ঘটনায় নির্বাক ছিলেন তাতে বিস্মিত অভিনেত্রী শ্রীলেখা মিত্র। তিনি বলছেন, “ওই তরুণীদের দেখে লোকটা মাস্টারবেট করছিল আর কেউ কিছু বলল না! এটা ভেবেই তো আমার অদ্ভুত লাগছে। তাহলে তো যেখানে যে কেউ যা খুশি তাই-ই করতে পারে। ওখানেই তো লোকটাকে ধরে পেটানো উচিত ছিল। যতদিন না ওই বাসের লোকগুলো রিঅ্যাক্ট করবে, এই ধরনের বিকৃত মানসিকতার লোকজন থেকেই যাবে। এদেরকে মারা উচিত। এদেরকে না মেরে লোকে মেট্রোতে কেউ আলিঙ্গন করলে তাদের মারছে। আর এই সব বিষয়ে লোকেরা রিঅ্যাক্ট করছে না, দিস ইজ সো স্ট্রেঞ্জ!”
[ ‘এই প্রথম নয়, আগেও আমাদের সঙ্গে অশালীন আচরণ করেছে ওই লোকটা’ ]
তাহলে কী করে এই সংকট থেকে মুক্তি মিলবে? কমলেশ্বরবাবুর সাফ কথা, “আইনশৃঙ্খলাকে আরও জোরদার করতে হবে। একটার পর একটা ঘটনা ঘটছে। কিন্তু কেন এরকম ঘটছে সেই কারণগুলো তো খতিয়ে দেখতে হবে। পুলিশি ব্যবস্থাকে আরও জোরদার করতে হবে। তাহলে হয়তো এসব এড়ানো সম্ভব।” অন্যদিকে রূপঙ্করের মত, “যে সমস্ত মহিলারা এইগুলো দেখেও চুপ করে সহ্য করে নেন, তাঁদের বলব, প্রতিবাদ করতে হবে। প্রতি মুহূর্তে প্রতিবাদ করতে হবে। যে কোনও সামান্য ঘটনাতেও প্রতিবাদ করতে হবে। তাহলে হয়তো এই সমস্যাগুলো আর হবে না। আর দ্বিতীয় কথা হচ্ছে, আলাদা করে মহিলাদের উপর এই রাগ কারণ মেয়েরা এখন অনেক বেশি স্মার্ট। তারা নিজেদের কাজ নিজেরা করছে। তাই হয়তো অনেকে এরকমটা করছে। আর লোকরা কিছু বলবে না, কারণ তারা ঝামেলায় পড়তে চায় না। ভয় থাকে যে, পুলিশি ঝামেলায় পড়তে হবে। সেজন্যই আর কেউ এগিয়ে আসছে না। আসলে পুরো সিস্টেমটাতেই গণ্ডগোল।” অভিনেত্রী শ্রীলেখার দাওয়াই, “মহিলাদের নিরাপত্তা তো নেই। এবার মহিলাদের নিজেদেরকেই পিস্তল, বন্দুক, ছুরি, কাঁচি নিয়ে বেরতে হবে। ‘পেপার স্প্রে’ নিয়ে ব্যাগে রাখতে হবে। এবার তো মহিলাদের তেমন ক্ষমতা দিয়ে দেওয়া উচিত, এরম কিছু দেখতে পেলেই যাতে গুলি করে মেরে ফেলতে পারে।”
[ শহর কলকাতায় চলন্ত বাসে তরুণীকে দেখে হস্তমৈথুন, ভাইরাল ভিডিও ]
সুতরাং, এ লজ্জা কার? শুধু সমাজের দায়? পুলিশের ঘাড়ে দায়িত্ব চাপিয়েই অব্যাহতি! নাকি এগিয়ে আসতে হবে সকলকেই, বিশেষত পুরুষদেরও? ভাববার সময় বোধহয় এসে গিয়েছে।
সর্বশেষ খবর
-
বৃদ্ধের খাবারে ঘুমের ওষুধের কড়া ডোজ, আলমারি ‘সাফ’ করে গায়েব পরিচারিকা!
-
পরিবর্তনের দুর্গোৎসবে শুধু ‘বড়’ নয়, ‘ছোট’দের পুজোর উদ্বোধনেও মুখ্যমন্ত্রী, তৈরি হচ্ছে তালিকা
-
কলকাতায় বিশ্বকাপারদের হ্যাটট্রিক! ব্রাজিল-উরুগুয়ের পর ফের বিদেশি প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে খেলবে ভারত
-
কলকাতার বধূকে চাকরির লোভ দেখিয়ে বাংলাদেশে পাচার! অবশেষে সীমান্ত পেরিয়ে ফিরলেন মধুমিতা
-
৪ নেতাকে সাসপেন্ড, এক্তিয়ার মনে করিয়ে ডায়মন্ড হারবারের সভানেত্রীকে শোকজ করল বিজেপি!