২৬ আষাঢ়  ১৪২৭  রবিবার ১২ জুলাই ২০২০ 

Advertisement

কলকাতায় বেআইনি পুলকার আটকাতে গিয়ে বাধা পেল পুলিশ, তর্কাতর্কি অভিভাবকদের সঙ্গে

Published by: Soumya Mukherjee |    Posted: November 14, 2019 9:54 am|    Updated: November 14, 2019 9:56 am

An Images

ফাইল ফোটো

স্টাফ রিপোর্টার: কোনওটা সাতবছর আগে শেষ সিএফ করানো হয়েছিল। কোনওটার আবার বয়স ১৫ বছর পার করেছে অনেকদিন আগেই। তবু খুদে পড়ুয়াদের নিয়ে নিয়মিত ঝুঁকির সফর করাচ্ছে পুলকার। যা দেখে চক্ষু চড়কগাছ পুলিশ এবং পরিবহণ দপ্তরের আধিকারিকদেরই। কিন্তু, সেই বে-আইনি গাড়ি বুধবার সকালে ধরেও ধরতে পারলেন না তাঁরা। বেআইনি পুলকার ধরতে বেরিয়ে অভিভাবকদের কাছেই বাধা পেলেন পুলিশ এবং পরিবহণ দপ্তরের কর্তারা। যাদের সন্তানদের বাঁচানোর জন্য এই উদ্যোগ। তাঁরাই যে আসলে উলটো কথা বলছেন!

[আরও পড়ুন: ফের নৃশংসতার সাক্ষী খাস কলকাতা, বিদ্যুৎস্পৃষ্ট করিয়ে খুন ৬টি কুকুরকে]

বুধবার লর্ডসের মোড়ের কাছে বেশ কয়েকটি পুলকারের কাগজপত্র চেক করছিলেন পুলিশ ও পরিবহণ দপ্তরের কর্মীরা। ওই এলাকারই একটি বেসরকারি স্কুলে ছাত্রছাত্রী নিয়ে যাওয়া হয় সেগুলিতে। গোটা কয়েক গাড়ি চেকিংয়ের সময় দেখা যায় চারটির কাগজপত্র বা সিএফ কিছুই ঠিক নেই। তৎক্ষণাৎ সেগুলির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলে পুলিশ। কিন্তু, ছাত্রছাত্রীদের অভিভাবকরাই বাধা দেন। তাই দু’টি গাড়ি ফেলে রেখে বাকি দুটিকে বেলতলা পিভিডিতে নিয়ে যাওয়া হয়।

অভিভাবকরা দাবি করতে থাকেন, মাঝপথে এরকম গাড়ি আটকালে তাঁদের ছেলেমেয়েরা স্কুলে বা যাবে কী করে? স্কুল থেকে বাড়িও বা ফিরবে কী করে? বিষয়টি নিয়ে পুলিশ ও পরিবহণ দপ্তরের কর্তাদের সঙ্গে রীতিমতো তর্কাতর্কি বেঁধে যায় তাঁদের। অনেক বুঝিয়েও ঝামেলা মেটেনি।

[আরও পড়ুন: হোমে নেই সিসিটিভি-নিরাপত্তারক্ষী, কলকাতায় যুবতী গণধর্ষণে ক্ষোভে ফাটল পরিবার]

এবিষয়ে পরিবহণমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সমস্ত স্কুলের কর্তৃপক্ষকে স্কুলবাস নেওয়ার ক্ষেত্রে আরও সতর্ক হওয়ার পরামর্শ দেন। পড়ুয়াদের আনা-নেওয়ার ক্ষেত্রে, পুলকার ভাড়া দেওয়ার জন্য তার কাগজপত্র সঠিক কিনা তা যাচাই করে নিতে বলেছেন তিনি। পাশাপাশি ছাত্রছাত্রীদের নিরাপত্তার কথা ভেবে অভিভাবকদেরও সচেতন হওয়ার কথা বলেন মন্ত্রী।

পরিবহণ দপ্তর সূত্রে খবর, ২০১৬ সালেই বে-আইনি পুলকার বন্ধ করতে এক নির্দেশিকা বের করেছিল পরিবহণ দপ্তর। কিন্তু, ধরপাকড় শুরু হতেই ধর্মঘটে চলে যায় স্কু্‌লবাস। ফলে সমস্যা হয় পড়ুয়াদের। তাই তখনকার মতো আবার এই স্কুলবাস চেকিং করা বন্ধ করে দেওয়া হয়। কিন্তু, ফের বেআইনি গাড়ির বাড়বাড়ন্ত হওয়ায় পথে নেমেছেন পরিবহণ দপ্তর এবং পুলিশের আধিকারিকরা। তবে তারই মাঝে বুধবার অভিভাবকদের সঙ্গে বচসা জেরে। এসবের মধ্যেও অবশ্য বেআইনি পুলকার বন্ধে অভিযান চলবে বলেই জানিয়েছেন পরিবহণ দপ্তর কর্তারা।

Advertisement

Advertisement

Advertisement

Advertisement

Advertisement