৫ আশ্বিন  ১৪২৬  সোমবার ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯ 

Menu Logo পুজো ২০১৯ মহানগর রাজ্য দেশ ওপার বাংলা বিদেশ খেলা বিনোদন লাইফস্টাইল এছাড়াও বাঁকা কথা ফটো গ্যালারি ভিডিও গ্যালারি ই-পেপার

দীপঙ্কর মণ্ডল:  এ যেন ‘জুতো মেরে গরুদান’!  সকালে সমকাজে-সমবেতনের দাবিতে আন্দোলন করেছিলেন আংশিক সময়ের অধ্যাপকরা। বিকেলে তাদের বেতনবৃদ্ধির কথা ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী। 

সমকাজে-সমবেতন এবং ৬৫ বছর বয়স পর্যন্ত কাজের অধিকার-সহ অন্যান্য দাবিতে সোমবার সুবোধ মল্লিক স্কোয়ারে বিক্ষোভ দেখান আংশিক সময়ের অধ্যাপকরা। বিক্ষোভের নেতৃত্বে ছিল CUTAB-নামে একটি শিক্ষক সংগঠন। ওই সংগঠনের অভিযোগ, আন্দোলনরত অধ্যাপকদের উপর বর্বরভাবে অত্যাচার চালিয়েছে পুলিশ।

[আরও পড়ুন: জনতার মন বুঝতে নিজেই আসরে মমতা, হাওড়ায় বৈঠকের আগে বসতি ঘুরে শুনলেন অভিযোগ]

বেশ কিছুদিন ধরেই সমকাজে-সমবেতনের দাবিতে আন্দোলন করছেন কলেজ এবং বিশ্ববিদ্যালয়গুলির আংশিক সময়ের অধ্যাপকরা। দাবি পূরণ না হওয়ায় সোমবার সুবোধ মল্লিক স্কোয়ারে একটি বিক্ষোভ সমাবেশের আয়োজন করা হয়। নেওয়া হয় আমরণ অনশন কর্মসূচিও। অভিযোগ, তাদের এই কর্মসূচি ভণ্ডুল করতে পুলিশ বর্বরভাবে অত‍্যাচার চালিয়েছে। সকাল থেকেই অধ‍্যাপকদের অনশন কর্মসূচিতে পুলিশ বাধাদান করে বলে অভিযোগ। জোর খাটিয়ে অনশনকারীদের সুবোধ মল্লিক স্কোয়ার থেকে উৎখাত করারও অভিযোগ ওঠে পুলিশের বিরুদ্ধে।

[আরও পড়ুন: ‘কাশ্মীরে সংকট’, বিশ্ব মানবতা দিবসে উপত্যকার পরিস্থিতি নিয়ে টুইটারে উদ্বেগ মমতার]

অধ্যাপক সংগঠনের তরফে বিবৃতি দিয়ে জানানো হয়, “এ এক আজব রাজ‍্য। এই সরকার ও কাজ করিয়ে নিয়ে ন‍্যায‍্য বেতন দেবে না, ওদিকে পথে নেমে দাবি আদায়ের গণতান্ত্রিক অধিকারও কেড়ে নিচ্ছে।” CUTAB-জানিয়েছে সমাবেশ ভণ্ডুল করে দেওয়ার ফলে বাধ‍্য হয়েই অধ‍্যাপকরা ওয়েলিংটন মোড় আটকে বিক্ষোভ দেখানো শুরু করেন। সেখান থেকে তাদের গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এমনকী পুলিশের বিশাল বাহিনী CUTAB-এর রাজ্য দপ্তরে বসে থাকা অসুস্থ অধ্যাপকদের ও গ্রেপ্তার করে বলে অভিযোগ। মোট ১৪২ জন আংশিক সময়ের অধ্যাপককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ওই অধ্যাপক সংগঠন। একজন আংশিক সময়ের অধ্যাপিকা গুরুতর অসুস্থ হয়ে মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। 

[আরও পড়ুন: পুলিশ হেফাজতে সর্বক্ষণ ছেলের পাশে মা, আরসালানকে সান্ত্বনা পরিবারের]

এদিকে, এসব যখন ঘটছে, তখনই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আংশিক সময়ের অধ্যাপকদের বেতনকাঠামো পুনর্বিন্যাসের কথা ঘোষণা করেছেন।হাওড়ার প্রশাসনিক বৈঠকে মমতা ঘোষণা করেন, কলেজে আংশিক সময়ের, চুক্তিভিত্তিক শিক্ষক এবং অতিথি অধ্যাপক বলে আর কোনও পদ থাকবে না। সবার পদ হবে ‘স্টেট এইডেড কলেজ টিচার’। যারা ইউজিসির শর্ত পূরণ করেছেন তারা ক্যাটাগরি ‘ওয়ান’। যাঁরা পূরণ করেননি, তাঁরা ক্যাটাগরি ‘টু’। ক্যাটাগরি ওয়ানে থাকা শিক্ষক, যাঁরা ১০ বছরের বেশি কাজ করেছেন তাঁদের বেতন হবে ৩০ হাজার টাকা। ১০ বছরের কম যাঁরা কাজ করছেন, তাঁদের বেতন হবে ২৬ হাজার টাকা। ক্যাটাগরি টুতে ১০ বছরের বেশি যাঁরা কাজ করছেন, তাঁরা পাবেন কুড়ি হাজার টাকা। দশ বছরের কম কাজ যাঁরা করছেন তাঁরা পাবেন ১৫ হাজার টাকা। সবার প্রত্যেক বছর ১০ শতাংশ হারে বেতন বৃদ্ধি হবে। কারও চাকরি যাবে না বলেও ঘোষণা করেছেন মমতা। প্রত্যেকের চাকরি ৬০ বছর পর্যন্ত নিশ্চিত। প্রত্যেককে সরকারের নির্ধারিত নিয়ম মেনে ক্লাস নিতে হবে। আর কোনও কলেজ অস্থায়ী শিক্ষক নিয়োগ করতে পারবে না বলেও ঘোষণা করেন মমতা।

আরও পড়ুন

আরও পড়ুন

ট্রেন্ডিং