BREAKING NEWS

৯ আশ্বিন  ১৪২৭  রবিবার ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২০ 

Advertisement

পাশের ঘরে পুড়ছে স্বামী, টিভি সিরিয়ালে মগ্ন স্ত্রী

Published by: Sangbad Pratidin Digital |    Posted: June 11, 2016 3:13 pm|    Updated: June 11, 2016 3:15 pm

An Images

স্টাফ রিপোর্টার: চোখের সামনে দাউ দাউ করে জ্বলছে স্বামী৷ নির্বিকার নির্লিপ্তভাবে টিভি সিরিয়ালে মগ্ন স্ত্রী৷ মৃতের নাম রঞ্জিতকুমার বরাট (৬৩)৷ শুক্রবার রাতে এমনই মর্মান্তিক ঘটনার সাক্ষী হয়ে থাকল মানিকতলার সরকারি আবাসনের আবাসিকরা৷ জোর তর্ক শুরু হয়েছে এটা নেহাতই পারিবারিক বিবাদের জের না কি মানসিক বিকারগ্রস্ত স্ত্রী কাজ৷ যদিও প্রতিবেশীদের অভিযোগের আঙুল রঞ্জিতবাবুর স্ত্রী সুতপা বরাটের দিকে৷ পুলিশ আটক করেছে স্ত্রীকে৷ মৃত্যুর কারণ নিয়ে ধোঁয়াশা রয়েছে৷

শুক্রবার রাত সাড়ে বারোটা নাগাদ মানিকতলার জি ব্লকের আবাসিকরা চামড়া পোড়া গন্ধ নাকে পান৷ উঁকিঝুকি মারতেই তাঁরা দেখতে পান প্রতিবেশী রঞ্জিতকুমার বরাটের বাড়ি থেকে বেরোচ্ছে ধোঁয়া৷ আবাসিকরাই ছুটে যান মানিকতলা ফায়ার স্টেশনে৷ সেখান থেকেই দু’টি ফায়ারের ইঞ্জিন আসে৷ এর পর রঞ্জিতবাবুর ফ্ল্যাটে গিয়ে তাঁরা দরজা ধাক্কা দেন৷ বেশ কিছুক্ষণ ধাক্কাধাক্কির পর দরজা খোলেন রঞ্জিতবাবুর স্ত্রী সুতপা বরাট৷ তিনি নিজে থেকেই বলে ওঠেন স্বামী গায়ে আগুন লাগিয়ে আত্মহত্যা করেছেন৷ দমকলের কর্মীরা জানিয়েছেন, সুতপা দেবী দরজা খোলার পরই ঘরের ভিতর থেকে তীব্র চামড়া পোড়া গন্ধ বেরিয়ে আসে৷ অসুস্থ বোধ করেন দমকলকর্মীরা৷ এর পর তারাই জল দিয়ে আগুন নিভিয়ে উদ্ধার করেন রঞ্জিতবাবুকে৷ খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসে মানিকতলা থানার পুলিশ৷ তাঁরা এসে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ করে সুতপাদেবীকে৷ কিন্তু তাঁরা তখনও বসার ঘরে টিভিতে সিরিয়াল চলতে দেখে অবাক হয়ে যায়৷ এমনকী, সুতপাদেবী নিজেও স্বীকার করে নেন তাঁর স্বামী যখন গায়ে আগুন লাগিয়ে আত্মঘাতী হচ্ছেন তখন তিনি সিরিয়াল দেখছিলেন৷ এমনকী, এই ঘটনা হওয়ারই ছিল বলেও নাকি দাবি করেছেন সুতপাদেবী৷

রঞ্জিতবাবু সিইএসসির অবসরপ্রাপ্ত আধিকারিক ছিলেন৷ অবসরের পর থেকে তিনি ও তাঁর স্ত্রী মানিকতলার এই সরকারি আবাসনে থাকতেন৷ তাঁদের এক মেয়েও রয়েছে৷ যিনি কর্মসূত্রে ভিনরাজ্যে রয়েছেন৷ প্রায়ই স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়া লেগে থাকত৷ রঞ্জিতবাবুর ফ্ল্যাটের নিচে একটি গাড়ির সন্ধান পেয়েছেন তদন্তকারীরা৷ সেই গাড়িতে পুলিশ লেখা রয়েছে৷ যা নিয়েও ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে৷ প্রতিবেশীরা দাবি করেছেন এই গাড়িই ব্যবহার করতেন রঞ্জিতবাবু৷ গাড়ির মধ্যে একটি পুরনো ওয়াকিটকি ও দু’টি পুলিশের হেলমেট মিলেছে বলেও খবর৷

রঞ্জিতবাবু ও সুতপাদেবী প্রতিবেশীদের সঙ্গে তেমন মিশতেন না৷ রঞ্জিতবাবু পথেঘাটে দেখা হলে যাও কথা বলতেন সুতপাদেবী তাও করতেন না বলে অভিযোগ৷ উল্টে প্রতিবেশীদের সঙ্গে অভব্য আচরণ করতেন সুতপাদেবী৷ অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করতেন৷ স্বামী-স্ত্রী সারাদিনই থাকতেন প্রায় মদ্যপ৷ এই পরিবেশ থেকে মুক্তি পেতেই তাঁদের মেয়েও বাইরে চলে গিয়েছেন বলে দাবি প্রতিবেশীদের৷ সুতপাদেবীই খুন করেছেন বলেও অভিযোগ করেছেন প্রতিবেশীদের একাংশ৷ প্রতিবেশীদের অভিযোগ, ১০০ নম্বরে ডায়াল করে কোনও সাড়া পাওয়া যায়নি৷ স্ত্রী নির্বিকার হয়ে টিভি দেখলেন৷ সুতপাদেবী মানসিক বিকারগ্রস্ত কি না তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে৷

Advertisement

Advertisement

Advertisement

Advertisement

Advertisement