Advertisement
Advertisement
Advertisement
Sangbad Pratidin
  • ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
  • বৃহস্পতিবার
  • ৪ জুন ২০২৬
Anandpur Fire Incident

২৬ দিন পর আনন্দপুর অগ্নিকাণ্ডে ১৮ জনের দেহাবশেষ পেল পরিবার, এখনও শনাক্ত হয়নি ৯ দেহাংশ

মর্গ থেকে কেউ পেয়েছেন কাপড়ে জড়ানো এক টুকরো হাড়। আবার কেউ পেয়েছেন মাথার খুলির একটি অংশ। নিকট পরিজনদের সেই টুকুই নিয়ে তাঁরা ফিরে গিয়েছেন বাড়িতে। এক টুকরো দেহাংশ হাতে পেয়েই কান্নায় ভেঙে পড়েন অনেকেই।

Advertisement
দেবব্রত মণ্ডল
দেবব্রত মণ্ডল

শেষ আপডেট: ফেব্রুয়ারি ২১, ২০২৬, ১৯:১৮

link
দেবব্রত মণ্ডল
দেবব্রত মণ্ডল

শেষ আপডেট: ফেব্রুয়ারি ২১, ২০২৬, ১৯:১৮

options
link
২৬ দিন পর আনন্দপুর অগ্নিকাণ্ডে ১৮ জনের দেহাবশেষ পেল পরিবার, এখনও শনাক্ত হয়নি ৯ দেহাংশ zoom
অগ্নিকাণ্ডের পর ছাইয়ের স্তূপে সব কিছু খতিয়ে দেখছেন দমকলকর্মীরা। ফাইল ছবি

নাজিরাবাদের বিধ্বংসী কাণ্ডের কেটে গিয়েছে ২৭ দিন। অবশেষে আজ, ১৮ জন মৃতদের পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হল দেহাংশ। এদিন দুপুরে কাঁটাপুকুর মর্গ থেকে দেহাংশ তুলে দেওয়া হল। এখনও ৯ জনের ডিএনএ নমুনা মেলেনি। তাঁদের পরিবারের সদস্যদের অপেক্ষা করতে বলা হয়েছে।

মর্গ থেকে কেউ পেয়েছেন কাপড়ে জড়ানো এক টুকরো হাড়। আবার কেউ পেয়েছেন মাথার খুলির একটি অংশ। নিকট পরিজনদের সেই টুকুই নিয়ে তাঁরা ফিরে গিয়েছেন বাড়িতে। এক টুকরো দেহাংশ হাতে পেয়েই কান্নায় ভেঙে পড়েন অনেকেই। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, যে দেহাংশগুলির নমুনা ম্যাপিংয়ে মিলে গিয়েছে, তাঁদের মধ্যে পূর্ব মেদিনীপুরের ১৬ জন, দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুরের একজন এবং পশ্চিম মেদিনীপুরের একজন আছেন।

Advertisement

শনিবার দক্ষিণ চব্বিশ পরগনার নরেন্দ্রপুর থানায় আসেন ১৮ জনের পরিবারের সদস্যরা। সকাল ১১ টা নাগাদ তাঁরা থানায় আসেন। ঘটনায় তদন্তকারী অফিসারের সঙ্গে দেখা করে, তারপর তাঁরা রওনা হন কাঁটাপুকুর মর্গে। সেখান থেকেই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় পুড়ে যাওয়া ব্যক্তিদের দেহাংশ গুলি হস্তান্তর করা হয়।

ঘটনার প্রায় একমাস হতে এল। এখনও পর্যন্ত মৃত্যুর শংসাপত্র মেলেনি। নিয়ম অনুযায়ী, যেহেতু ঘটনাটি খেয়াদহ দু’নম্বর পঞ্চায়েতের মধ্যেই ঘটেছে তাই মৃত্যুর শংসাপত্র দেবে খেয়াদহ ২ নম্বর পঞ্চায়েত। কিন্তু যাঁদের বাড়ি মেদিনীপুরে থেকে তাঁদের পক্ষে নরেন্দ্রপুরে আসাটা যথেষ্ট ব্যয় ও সময় সাপেক্ষ ব্যাপার। তাই যাতে তাঁদের মৃত্যুর শংসাপত্র গুলি নিজে নিজে ব্লক থেকে দেওয়া হয় সেই আবেদন জানিয়েছেন মৃতদের পরিবার। সেটি কীভাবে দেওয়া সম্ভব তাও নিয়ে ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে আলোচনা।

অন্যদিকে, আইনি জটিলতা থাকায় ক্ষতিপূরণ হিসেবে সরকারি অর্থ পাওয়া যায়নি। তবে মোমো কোম্পানি তরফ থেকে ও ডেকোরেটরসের মালিকদের তরফ থেকে মৃতদের পরিবারকে ১০ লক্ষ টাকা আর্থিক সাহায্য করা হয়েছে। দেহাংশগুলি ডিএনএ মিল হওয়ার পর সকল পরিবারকেই আর্থিকভাবে সরকারি সাহায্য করা হবে, ইতিমধ্যে যা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়ে দিয়েছেন। শুধু তাই নয় তাদের পরিবারকেও সরকারি চাকরিও দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

উল্লেখ্য, গত ২৬ জানুয়ারি রাতে বিধ্বংসী অগ্নিকাণ্ডে পুড়ে ছাই হয়ে যায় নরেন্দ্রপুরের নাজিরাবাদ এলাকার একটি বহুজাতিক মোমো তৈরির কারখানা ও একটি গুদাম। সেই ঘটনায় ২৭ জনের পরিবারের তরফে নিখোঁজ ডায়েরি করা হয় নরেন্দ্রপুর থানায়। মৃতদেহগুলি ঝলসে অবস্থা এমনই হয়েছিল যে শনাক্ত করা দুরূহ হয়ে পড়ে। সেজন্য ডিএনএ ম্যাপিংয়ের প্রয়োজন হয়। নিখোঁজদের  নিকটাত্মীয়দের রক্তের নমুনা সংগ্রহ করা হয়। নমুনাগুলি বারুইপুর হাসপাতাল থেকে নির্দিষ্ট ল্যাবে পাঠানো হয়। সেখানেই পোড়া দেহাংশগুলির সঙ্গে গৃহীত রক্তের নমুনার ডিএনএ ম্যাপিং হয়। ম্যাপিংয়ে ১৮ জনের নমুনা মিলে। তাঁদের মৃত বলে জানিয়ে আজ, শনিবার সেই দেহাংশগুলি তুলে দেওয়া হল পরিবারের হাতে।

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Advertisement

Share this article on

The article link is copied.