নব্যেন্দু হাজরা: ভাড়া বৃদ্ধি নিয়ে বার্তা না পাওয়ায় শুক্রবার থেকে বন্ধ হয়ে গেল প্রায় চল্লিশটি রুটের বেসরকারি বাস-মিনিবাস। যেগুলোর অধিকাংশই উত্তর শহরতলির সঙ্গে কলকাতার যোগাযোগ রক্ষা করে। হাতেগোনা কয়েকটি রুট চললেও বাসের সংখ্যা সেখানেও খুব কম। ফলে এদিন বিকেলের পর বাস না পেয়ে স্টপেজে দীর্ঘক্ষণ দাঁড়াতে হয়েছে অফিস ফেরত যাত্রীদের। তবে সরকারি বাস এদিনও রাস্তায় ছিল প্রচুর। মালিকদের দাবি, বাস চালিয়ে লাভ দুরস্ত চালানোর খরচ উঠছে না। তাই বাধ্য হয়েই অধিকাংশ রুট বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। ভাড়া না বাড়ালে বাস নামানো সম্ভব নয়।
শুক্রবার দুপুরে পরিবহণ দপ্তরের এক্সপার্ট কমিটি বাস সংগঠনের নেতাদের সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ বৈঠক করে। কিন্তু ভাড়া বাড়ানো নিয়ে সেই অর্থে কোনও সিদ্ধান্ত হয়নি। পরিবর্তে অন্য উপায়ে কীভাবে আয় বাড়ানো যায় তা নিয়ে বাস মালিকদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে বলে খবর। বাস মালিকদের দাবি, ট্রেন চালু হলে কীভাবে যাত্রীচাপ সামাল দিতে হবে সে বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। সে ক্ষেত্রে ঠিক হয়েছে দুটি বাসের সময়ের ব্যবধান কমিয়ে ঘনঘন বাস চালাতে হবে। যাতে যাত্রীদের বেশিক্ষণ বাসস্ট্যান্ডে অপেক্ষা করতে না হয়। পাশাপাশি এক বাসে ভিড় না হয়ে যায়। এক্ষেত্রে বাসের ট্রিপ বাড়ানোর দাওয়াই দিয়েছে পরিবহণ দপ্তরের কর্তারা। তাদের দাবি, ট্রিপ বাড়লে বাস মালিকদের আয় বাড়বে। চালানোর খরচ যেমন উঠবে তেমনই বাড়বে লাভ।
[আরও পড়ুন: কলকাতার রাস্তায় চিনা প্রেসিডেন্টের ফাঁসি! অভিনব প্রতিবাদ INTTUC’র]
বাস মালিক সংগঠনের দাবি, শুক্রবার থেকে ২৩০, ২১৪, ২১৪এ, ৩০এ, ৩০এ/১, ২০২, ৭৮, ৭৮/১, ৩২এ, ২৩৪, ৩সি/১-সহ আরও বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ রুটের বাস বন্ধ হয়ে গিয়েছে। এই সমস্ত রুটের বাসগুলি অধিকাংশই উত্তর শহরতলি থেকে ছেড়ে শহরে ঢোকে। এগুলি বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণে ডানলপ, সোদপুর বারাকপুর, দমদম, সিথির মোড়, চিড়িয়ামোড় এলাকার যাত্রীরা বেশি সমস্যায় পড়বেন। টালা ব্রিজ দিয়ে যান চলাচল বন্ধ হওয়ার পর থেকেই উত্তরের মানুষ শহরে ঢুকতে বেশ বেগ পাচ্ছেন। আর লকডাউন শেষে অফিস কাছারি খোলার পর বাস কমে যাওয়ায় সমস্যা আরও বেড়েছে। তবু এই কয়েকদিন কিছু বাস চলছিল। এদিন থেকে তাও বন্ধ হওয়ায় সোমবার অফিস খোলার দিন সমস্যা আরও বাড়বে।
বাস মালিকদের দাবি, টালা ব্রিজ ভাঙার পর ঘুরপথে বাস চলাতে এমনিতেই ক্ষতির বোঝা বেড়েছে। আর এখন তো বাসে যাত্রীই হচ্ছে না। এভাবে বাস চালানো দিনের পর দিন সম্ভব নয়। ওয়েস্টবেঙ্গল বাস-মিনিবাস ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন মূলত এই উত্তর শহরতলির বাস চলাচল দেখভাল করে। সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক প্রদীপ নারায়ণ বসু বলেন, “সরকারের উপর আমাদের আস্থা আছে। দেখা যাক কি হয়! তবে ভাড়া না বাড়ালে মালিকদের অবস্থা খুবই খারাপ হয়ে যাচ্ছে।” বাস মিনিবাস সমন্বয় সমিতির সাধারণ সম্পাদক রাহুল চট্টোপাধ্যায় বলেন, “ভাড়া নিয়ে সরকারের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। তবে সিদ্ধান্ত কিছু হয়নি। ট্রেন চালু হলে ঘনঘন বাস চালানোর কথা বলেছে সরকার। সেক্ষেত্রে ট্রিপের সংখ্যা বাড়বে।” বেঙ্গল বাস সিন্ডিকেটের সহ-সভাপতি টিটু সাহা জানান, এক্সপার্ট কমিটির সঙ্গে আমাদের বৈঠক হয়েছে। আমরা সরকারের প্রতি আস্থা রাখছি।
[আরও পড়ুন: আমফানের এক মাস পরেও লিংক নেই পোস্ট অফিসে, টাকা তুলতে পারছেন না গ্রাহকরা]
সর্বশেষ খবর
-
আঞ্চলিক মিষ্টির জিআই ট্যাগ নিয়ে তৎপর বঙ্গ বিজেপি! ‘মিষ্টি হাব’ তৈরিরও পরিকল্পনা শমীকদের
-
এবার সপ্তাহে ৬ দিনই শান্তিনিকেতনে ‘হেরিটেজ ওয়াক’, দ্রুত টিকিট মিলবে অনলাইনেও
-
লরি চাপা পড়ে মাইকেল ক্লার্কের গাড়ি! আইপিএল শেষে বিমানবন্দর যাওয়ার পথে দুর্ঘটনা
-
নিজের নিরাপত্তা দিতে চেয়েছিলেন মমতা! এবার এনআইয়ের হাতে গ্রেপ্তার ‘মাছ চোর’ শওকত
-
সমাজকে আদর্শের আয়না দেখায় ‘গোর্কির মা’, কেমন হল? পড়ুন রিভিউ