দীপংকর মণ্ডল: স্নাতক, স্নাতকোত্তর ও গবেষণা মিলিয়ে ১৩৮টি কোর্সে পঠনপাঠন চলে৷ অথচ প্রবেশিকা পরীক্ষার মাধ্যমে ভরতি নেওয়া হয় শুধুমাত্র কলাবিভাগের চার বিষয়ে৷ বাকি সমস্ত কোর্সেই পড়ুয়ারা ভরতি হন নম্বরের ভিত্তিতেই৷ তা নিয়ে কেন আন্দোলন হয় না? প্রশ্ন তুললেন যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপকদের অন্য একটি অংশ৷ তাঁদের অভিযোগ, নিজেদের স্বার্থসিদ্ধির জন্য পড়ুয়াদের ব্যবহার করছেন গুটিকয়েক শিক্ষক৷
[প্রবেশিকা বিতর্কে এখনও উত্তাল যাদবপুর, দাবিপূরণ না হওয়ায় অনশন পড়ুয়াদের]
যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্থনীতি-সহ কলাবিভাগের ৯টি বিষয়ে প্রবেশিকা পরীক্ষা হয় না৷ ভরতি নেওয়া হয় উচ্চমাধ্যমিক বা সমতুল পরীক্ষায় নম্বরের ভিত্তিতেই৷ এমনকী, যে বিজ্ঞান বিভাগের যাদবপুরের এত নামডাক, সেই বিভাগেও প্রবেশিকা পরীক্ষা নেই৷ শুধু ইংরেজি-সহ তিন বিষয়ে পরীক্ষা দিয়ে ভরতি হতে হয় পড়ুয়াদের৷ তা নিয়ে যত গণ্ডগোল৷ পড়ুয়াদের অনশন, অধ্যাপকদের একাংশের কর্মবিরতি৷ উত্তাল যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়৷ ইংরেজি বিভাগের আগের কৌলিন্য আর নেই৷ অধ্যাপকদের অন্য একটিং অংশের অভিযোগ, এই বিভাগের নিজেদের পছন্দের পড়ুয়াদের ভরতির প্রতিযোগিতা চলে৷ বিভাগীয় অধ্যাপকদের পরিচিত পাস করে প্রবেশিকা পরীক্ষায়৷ ভরতি হয়ে তাঁরা আবার বিভিন্ন ইস্যুতে আন্দোলনও করেন৷ ইংরেজি বিভাগে প্রবেশিকা পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ও খাতা দেখেন বিভাগীয় অধ্যাপকরাই৷ গত ৩০ বছর ধরে আবেদন করলেই যাদবপুরে ইংরেজি নিয়ে পড়ার সুযোগ পেয়ে যান বিভাগীয় অধ্যাপকদের ছেলেমেয়ে, এমনকী, আত্মীয়রাও৷
এবছর ইংরেজি, তুলনামূলক সাহিত্য রাষ্ট্রবিজ্ঞান ও দর্শনের সঙ্গে বাংলা ও ইতিহাসেও প্রবেশিকা পরীক্ষা হওয়া কথা ছিল৷ সিদ্ধান্ত হয়েছিল, এই ছ’টি বিষয়ে প্রবেশিকা পরীক্ষা ও বোর্ডে পরীক্ষার নম্বরের ভিত্তিতে হবে মেধাতালিকা৷ সূত্রের খবর, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষে সিদ্ধান্তে আপত্তি তোলেন শুধুমাত্র ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপকরাই৷ তাঁদের দাবি ছিল, বোর্ডের পরীক্ষায় মোট প্রাপ্ত নম্বর নয়, শুধুমাত্র ইংরেজি বিষয়ে নম্বর ও প্রবেশিকা নম্বর বিবেচনা করতে হবে৷ সেই দাবি মেনেও নিয়েছিল যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ৷ কিন্তু, পরীক্ষা স্বচ্ছ রাখতে যখন বাইরের কয়েকজন অধ্যাপক দায়িত্ব দেওয়ার প্রস্তাব আসে, তখন ফের বেঁকে বসেন ইংরেজি বিভাগের সিংহভাগ অধ্যাপকই৷ স্বার্থ আঘাতের আশঙ্কায় প্রস্তাবের বিরোধিতা করা হয় বলে অভিযোগ৷ এমনকী, গোপনে পড়ুয়াদেরও ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপকরাই বলে শোনা যাচ্ছে৷ যাদবপুর বিশ্ববিদ্যায়ের অচলাবস্থা কাটাতে রাজ্যপাল তথা আচার্যের দ্বারস্থ হয়েছেন উপাচার্য সুরঞ্জন দাস৷ তিনি কী সিদ্ধান্ত নেন, সেদিকেই তাকিয়ে শিক্ষামহল৷
[ রাতের কলকাতায় ফের শুটআউট, লক্ষ্য যুব তৃণমূল নেতা?]
সর্বশেষ খবর
-
যৌনগন্ধী মন্তব্য বিতর্ক অতীত, জন্মদিনে প্রেমিকার সঙ্গে মহাকালের দরবারে ‘শাপমোচন’ রণবীরের
-
বিশ্বকাপের আগে মেসির মুকুটে নতুন পালক, প্রথম ফুটবলার হিসাবে জিতলেন এই পুরস্কার
-
কলকাতা পুরসভা বাঁচানোর মরিয়া চেষ্টা! ১৯ জুন অধিবেশনের ডাক ‘পুরনো তৃণমূলে’র
-
আইসক্রিম ভেবে ‘ক্ষতিকর’ ফ্রোজেন ডেজার্ট খাচ্ছেন না তো? পার্থক্য না বুঝলেই মুশকিল
-
মমতার দুর্দিনে বেসুরে গাইছেন বাবুলও! রাজনীতিতে সবই ন্যায্য দেখছেন সুপ্রিয়?