২৮ আশ্বিন  ১৪২৬  বুধবার ১৬ অক্টোবর ২০১৯ 

Menu Logo পুজো ২০১৯ মহানগর রাজ্য দেশ ওপার বাংলা বিদেশ খেলা বিনোদন লাইফস্টাইল এছাড়াও বাঁকা কথা ফটো গ্যালারি ভিডিও গ্যালারি ই-পেপার

স্টাফ রিপোর্টার: যত কাণ্ড স্কুল চত্বরে৷ সপ্তাহের শুরুর দিনেই বন্ধ থাকল পঠন-পাঠন৷ পড়াশোনা ছেড়ে রাস্তায় নেমে এল ছাত্র-ছাত্রীরা৷ রাস্তা অবরোধে নামলেন অভিভাবকরাও৷ আর এই ঘটনার জেরে অফিস টাইমে অচল হয়ে গেল পার্কস্ট্রিট, গড়িয়া, নিউটাউন৷

নতুন শিক্ষাবর্ষে এক ধাক্কায় অনেকটা ফি বাড়িয়ে দিয়েছে রাজ্যের বেসরকারি স্কুলগুলি৷ রাজ্য সরকারের তরফ থেকে জানানো হয়েছিল বেসরকারি স্কুলগুলির এই আকাশছোঁয়া ফি-র দিকে নজর দেওয়া হবে৷ কিন্তু এখনও কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি৷ এদিনের ঘটনায় অভিভাবকরা জানিয়েছেন, প্রয়োজনে শিক্ষা দফতরকেও এই অতিরিক্ত ফি বৃদ্ধির বিষয়ে অভিযোগ জানাবেন তাঁরা৷

[‘ইন্ডিয়া’কে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানালেন প্রধানমন্ত্রী মোদি]

সোমবার সকাল থেকেই কলকাতার একাধিক বেসরকারি স্কুলে ধরা পড়ল হাতাহাতির চিত্র৷ গড়িয়ার পঞ্চসায়র শিক্ষা নিকেতনের প্রাথমিক বিভাগে সকাল থেকেই রাস্তায় বসে পড়েছিলেন অভিভাবকরা৷ কিন্তু কেন? অভিভাবক অম্লান চট্টোপাধ্যায় জানিয়েছেন, নানা অছিলায় স্কুলের ফি বৃদ্ধি করা হয়েছে৷ সে কথা জানানো হয়েছিল স্কুলের প্রিন্সিপাল পৌষালি পালকে৷ ঘটনায় উনিও আমাদের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন৷ অভিযোগ, সে কারণে প্রিন্সিপাল পৌষালি পালকে ইস্তফা দিতে বাধ্য করেছে স্কুল কর্তৃপক্ষ৷ সোমবার স্কুলে এসে অভিভাবকরা দেখেন পুরনো প্রিন্সিপাল ইস্তফা দিয়েছেন৷ এরপরেই ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন তাঁরা৷ অভিভাবকদের দাবি, আগে থেকে কোনও কিছু না জানিয়েই নতুন শিক্ষাবর্ষে ৬৫০ টাকা ফি বাড়িয়ে দিয়েছে স্কুল কর্তৃপক্ষ৷ বর্ধিত এই টাকা অবিলম্বে কমানোর দাবি জানান তাঁরা৷ যদিও স্কুল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পরে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করা হবে৷

[রহস্যজনকভাবে খুন জয়ললিতার নিরাপত্তারক্ষী, আহত আরও ১]

পাশাপাশি অফিসটাইমে কার্যত অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে পার্কস্ট্রিট৷ জিউইস স্কুলের কয়েকশো ছাত্র-অভিভাবক রাস্তায় নেমে আসেন৷ হাতে প্ল্যাকার্ড, পোস্টার নিয়ে বিক্ষোভে ফেটে পড়েন তাঁরা৷ অভিভাবকরা জানিয়েছেন আচমকাই স্কুলের ফি-তে ‘ডেভলপমেন্ট ফি’ নামে নতুন একটি অংশ যোগ করে  ৫ হাজার টাকা বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে৷ যা নিয়েই ফাঁপরে পড়েছেন অভিভাবকরা৷ সোমবার ছেলেকে ভর্তি করতে এসে চোখ কপালে তুলেছেন দিনেশ সাউ৷ তাঁর কথায়,  “টাকা কি খোলামকুচি? হঠাৎ করে ৫ হাজার টাকা ফি বাড়িয়ে দিয়েছে স্কুল৷ পড়াশোনার আড়ালে ব্যবসা চলছে স্কুলে৷” স্কুলের প্রিন্সিপালকে বিষয়টি জানানো হলে তিনি বলেছেন, “ফি বাড়ানো আমার হাতে নেই৷ এই সিদ্ধান্ত স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির৷ আমার কিছু করার নেই৷” বাধ্য হয়েই পার্কস্ট্রিটের ম্যাগমা হাউজের সামনে রাস্তায় বসে পড়েন অভিভাবকরা৷ এদিকে বিক্ষোভ চলাকালীনই স্কুলচত্বর থেকে মদের বোতল পাওয়া যাওয়ায় পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে৷ অভিভাবকদের দাবি, “একদিকে ডেভলপমেন্ট ফি-র নামে টাকার চাপ৷ অন্যদিকে সেই টাকায় স্কুলে বসে মদ্যপান করছে কর্তৃপক্ষ৷ অবিলম্বে এই জিনিস বন্ধ হওয়া দরকার৷” সোমবার সকাল থেকেই পার্কস্ট্রিটে ব্যাপক যানজটের সৃষ্টি হয়৷ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিশাল পুলিশ বাহিনী নামে এলাকায়৷

[8৫-এ পা শচীনের, জন্মদিনে রইল মাস্টার ব্লাস্টারের কিছু অজানা তথ্য]

নিউটাউনের বোধিচারিয়া সিনিয়র সেকেন্ডারি স্কুলেও ধরা পড়ে একই চিত্র৷ সেখানেই ছাত্র ভর্তি করাতে এসে ফি দেখে আঁতকে ওঠেন অভিভাবকরা৷ স্কুলের সামনেই রাস্তা আটকে বসে পড়েন তাঁরা৷ ঘটনাস্থলে পৌঁছয় নিউটাউন থানার পুলিশ৷ ঢাকুরিয়ায় বিনোদনী গার্লস স্কুলেও অশান্তি সৃষ্টির হয়৷ সেখানে বসার বেঞ্চ না থাকায় বিক্ষোভ দেখান অভিভাবকরা৷

সবমিলিয়ে সপ্তাহের প্রথম দিনেই দফায় দফায় বিক্ষোভের জেরে তাই শিকেয় ওঠে একাধিক বেসরকারি স্কুলের পঠন-পাঠন৷ রাজ্যের শিক্ষা দফতর এই বাড়তে থাকা ফিকে লাগাম পরাতে কোনও ব্যবস্থা নেয় কি না আপাতত সেদিকেই তাকিয়ে অভিভাবকরা৷

আরও পড়ুন

আরও পড়ুন

ট্রেন্ডিং