BREAKING NEWS

১৪ আশ্বিন  ১৪২৭  বৃহস্পতিবার ১ অক্টোবর ২০২০ 

Advertisement

জীবনদায়ী চিকিৎসার ভরকেন্দ্র হচ্ছে আর জি কর

Published by: Sangbad Pratidin Digital |    Posted: May 30, 2016 12:51 pm|    Updated: May 30, 2016 12:51 pm

An Images

গৌতম ব্রহ্ম: জীবনদায়ী চিকিৎসায় পূর্ব ভারতের ভরকেন্দ্র হয়ে উঠতে চলেছে কলকাতার আর জি কর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল৷ আজ সোমবার কেন্দ্রীয় সরকারের প্রতিনিধিরা আরজি কর ক্যাম্পাসে আসছেন৷ প্রতিনিধিদলে থাকছেন বিজ্ঞানী, চিকিৎসক, ইঞ্জিনিয়ার, এমনকী আর্কিটেক্টও৷ এঁরা সবুজ সংকেত দিলেই আর জি করকে জীবনদায়ী চিকিৎসার পাঠশালা হিসাবে গড়ে তোলার প্রক্রিয়া শুরু হবে৷
ভারতের সেরা কুড়িটি সরকারি হাসপাতালের মধ্যে ইতিমধ্যেই জায়গা করে নিয়েছে আর জি কর৷ কলকাতার আর কোনও হাসপাতাল এই কৃতিত্ব দেখাতে পারেনি৷ এমনকী পিজি হাসপাতালও নয়৷ এবার ‘ন্যাশনাল লাইফ সাপোর্ট ট্রেনিং সেন্টার’ হতে পারলে আর জি করের হাত ধরে কলকাতা তথা রাজ্যের ভাবমূর্তি আরও ভাল হবে৷ এমনটাই মনে করছেন স্বাস্থ্যকর্তারা৷ রাজ্যের স্বাস্থ্য শিক্ষা-অধিকর্তা ডা. সুশান্ত বন্দ্যোপাধ্যায় জানালেন, জীবনদায়ী চিকিৎসার গবেষণাকেন্দ্র তৈরির জন্য কেন্দ্র ইতিমধ্যেই প্রায় ছ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে আর জি করকে৷ ওই ‘ন্যাশনাল ল্যাব ফর লাইফ’-কে সামনে রেখেই চলবে ক্রিটিক্যাল কেয়ারকে উন্নত করার গবেষণা৷ দেওয়া হবে জীবনদায়ী চিকিৎসার পাঠ৷
সরকারি হাসপাতালের মধ্যে একমাত্র আর জি করেই রয়েছে আলাদা ‘ট্রমা কেয়ার সেণ্টার’৷ ‘পেন ম্যানেজমেন্ট’ থেকে অগ্নিদগ্ধ রোগীদের চিকিৎসা, ‘রিকনস্ট্রাকশন সার্জারি’ সবই এক ছাদের তলায়৷ এই ‘ট্রমা কেয়ার বিল্ডিং’-ই ‘জীবনদায়ী চিকিৎসা পাঠশালা’ হয়ে ওঠার ব্যাপারে সাহায্য করছে আর জি করকে৷ একটা সময় তো এই ট্রমা কেয়ার বিল্ডিংয়ের ছাদে হেলিপ্যাড তৈরির পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছিল৷ কিন্তু তা বাস্তবায়িত হয়নি৷ চিকিৎসক-প্যারামেডিক্যাল কর্মীর অভাবে বারবার হোঁচট খেয়েছে এখানকার পরিষেবা৷ ফের আশার আলো দেখা গিয়েছে৷ আর জি কর মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ ডা. শুদ্বোদন বটব্যাল জানালেন, প্রাথমিকভাবে আর জি কর মোটামুটি সব শর্ত পূরণ করেছে৷ এবার জায়গা পছন্দ হলেই অর্থ বরাদ্দ করবে কেন্দ্র৷ শুরু হয়ে যাবে আলাদা বিল্ডিং গড়ার কাজ৷ শুদ্বোদনবাবু আরও বলেন, “এই কেন্দ্র হলে রাজ্যের জীবনদায়ী চিকিত্সার মান এক ধাক্কায় অনেকটাই বেড়ে যাবে৷ আর জি করের ‘ক্রিটিক্যাল কেয়ার’-এ যুক্ত করা যাবে এখানে প্রশিক্ষণ নিতে আসা ডাক্তারি পড়ুয়াদের৷ বাড়বে সিসিইউ বেডের সংখ্যাও৷ ফলে আগের থেকে অনেক বেশি মানুষকে এখানে ক্রিটিক্যাল কেয়ার দেওয়া সম্ভব হবে৷”
বর্তমানে আঠাশটি সিসিইউ বেড রয়েছে আর জি করে৷ ক্রিটিক্যাল কেয়ার শিখতে এগুলিই এখন ভরসা পড়ুয়াদের৷ কিন্তু, ‘ন্যাশনাল লাইফ সাপোর্ট ট্রেনিং সেন্টার’ হলে শেখার পরিধি অনেক বেড়ে যাবে৷ বাড়বে সিসিইউ-বেড সংখ্যা৷ পূর্ব ভারতের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে চিকিৎসকরা এখানে আসবেন ক্রিটিক্যাল কেয়ারের পাঠ নিতে৷
প্রসঙ্গত, কিছুদিন আগেই সিঙ্গাপুরের সঙ্গে গাঁটছড়া বেঁধে টালিগঞ্জের এম আর বাঙুর হাসপাতাল ও বিজয়গড় হাসপাতালে ক্রিটিক্যাল কেয়ার পরিষেবার অত্যাধুনিক কোর্স করানো হয়৷ নার্স-চিকিৎসক-প্যারামেডিক্যাল কর্মী নিয়ে প্রায় শতাধিক সরকারি কর্মী প্রশিক্ষণ পান৷ সেই কোর্স এখনও চলছে৷ এবার ক্রিটিক্যল কেয়ার প্রশিক্ষণের স্থায়ী ঠিকানা হতে চলেছে আর জি কর হাসপাতাল৷

Advertisement

Advertisement

Advertisement

Advertisement

Advertisement