সুব্রত বিশ্বাস: কপালের পাথর সরানোর জন্য জ্যোতিষীর সন্ধান যেমন পাবেন, তেমনই শারীরিক অক্ষমতা বাড়ানোর দাওয়াইয়ের হদিশও মিলবে একই দেওয়ালে। পাশাপাশি হাতে কলমে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে আয়ের সুলুক সন্ধান সঙ্গে সিকিউরিটি গার্ডের লোভনীয় চাকরি, অথবা সম্ভ্রান্ত পরিবারের সুন্দরী মেয়ের সঙ্গে বন্ধুত্ব পাতিয়ে আয়ের সুযোগের লোভনীয় অফার। পুরো প্যাকেজ একসঙ্গে মিলে যাচ্ছে লোকাল ট্রেনের কামরার দেওয়ালে। সেখানেই এই জাতীয় পোস্টারে পোস্টারে ছয়লাপ। হাওড়া, শিয়ালদহ, খড়গপুর সব ডিভিশনের লোকাল ট্রেনেই দেওয়ালে এমন বিসদৃশ্য বিজ্ঞাপন। যাত্রীদের কাছে এই পোস্টার যতটা আকর্ষণীয় মনে হয়, তার থেকে আরও অসহনীয় বিজ্ঞাপনে লেখনীর রুচিবোধ।
[তোলা চেয়ে জেল থেকেই ব্যবসায়ীকে হুমকি ফোন গব্বর-রমেশের]
আর্থিক অসঙ্গতিপূর্ণ সংস্থাগুলি ট্রেনের কামরায় এই ধরনের বিজ্ঞাপন দিয়ে থাকে। বহু যুগ আগের থেকে এই রেওয়াজ চলে আসছিল। অধিক যাত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য ট্রেনের কামরাকে বেছে নেয় বিজ্ঞাপনদাতারা। নয়ের দশকের মাঝামাঝি পূর্ব রেল এইসব বিজ্ঞাপনদাতাদের কাছে ঠিকানা ধরে আইনি নোটিস পাঠায় ও রেলের কামরায় প্রচারের জন্য নির্ধারিত ভাড়া দাবি করে মোটা অঙ্কের টাকা চায়। এর পর দীর্ঘ সময় ধরে লোকাল ট্রেনের কামরায় পোস্টার সাঁটাতে ভয় পেয়ে যান প্রচারকরা।
এর পর আবার শুরু হয়ে যায় পোস্টারের বন্যা। দীর্ঘ দিন ধরে চলা এমন পদ্ধতিতে নোংরা হতে থাকে কামরার পরিবেশ ও দেওয়াল। চলতি বছরে রেল পরিচ্ছন্নতার দিকে একাধিক পদক্ষেপ করে। লক্ষ্য করে এই পোস্টারেই নোংরা হচ্ছে কামরার দেওয়াল। পোস্টার সাঁটার রেওয়াজ বন্ধ করতে রেল হাওড়া, শিয়ালদহে প্রচার চালায়। ধরা পড়লে হাজতবাস। সঙ্গে প্রচারমূলক পোস্টারের থেকে নাম ঠিকানা নিয়ে আরপিএফদের নামানো হয় মাঠে। সংস্থার মালিক বা ব্যক্তিকে ধরে জরিমানা ও হুঁশিয়ারির পালা শুরু হয়। এর পরই কিছুদিন এই পোস্টার সাঁটানোর পালা বন্ধ থাকে। কিন্তু ক’দিন। তারপর আবারও চলছে জোর কদমে পোস্টার সাঁটানোর পালা। পূর্ব রেল এই বদভ্যাস বন্ধ করতে এবারও অভিযান শুরু করতে চলেছে।
[কেষ্টপুরে ভেজাল তেলের কারখানার হদিশ, গ্রেপ্তার ১]
পূর্ব রেলের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক নিখিল চক্রবর্তী বলেন, আগের মতো অভিযান আবার শুরু করা হবে। কামরা নোংরা করা চলবে না। এজন্য জরিমানা ও সাজার ভাবনা চলছে। আরপিএফ ও কমার্শিয়াল বিভাগ এক সঙ্গে অভিযান চালাবে পোস্টারের ঠিকানা ধরে। সম্প্রতি আইসিএফ থেকে বেশ কিছু আধুনিক মানের রেক এসেছে। এই অভ্যাস বন্ধ না হলে ওই রেকও নোংরা হবে একইভাবে।
সর্বশেষ খবর
-
ফেডারেশনের বৈঠকে ইট থেকে ডিমবৃষ্টি, টলিপাড়ায় ধুন্ধুমারে কাকে দায়ী করলেন রুদ্রনীল?
-
২৫ হাজার ‘ঘুষে’র দাবি, না পেয়ে নাবালিকার জোড়া লাগা পা ভাঙলেন সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসক!
-
তৃণমূলের ভাঙনে মোদির স্বপ্নপূরণ! ২৯-এর আগেই আসন পুনর্বিন্যাস কার্যকরে আসরে কেন্দ্র
-
প্রেম ফিকে হলেও বন্ধুত্ব চির-অমলিন, সম্পর্কের নয়া রসায়ন বাতলালেন তৃপ্তি দিমরি
-
মুখ্যমন্ত্রীর পদক্ষেপ, গতি পেল সেবক-রংপো রেল প্রকল্পের কাজ, জুড়ছে শিলিগুড়ি-সিকিম