Advertisement
Advertisement
Advertisement
Sangbad Pratidin
  • ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
  • বৃহস্পতিবার
  • ৪ জুন ২০২৬
Reserve Bank

সচল হয়েও অচল! ‘ব্রাত্য’ আধুলি তুলে নেওয়ার ভাবনা রিজার্ভ ব্যাঙ্কের

রিজার্ভ ব্যাঙ্ক বিজ্ঞপ্তি দিয়ে ও সচেতনতা প্রচার করে বারবার জানাচ্ছে ৫০ পয়সা সচল। তা দিয়ে লেনদেন করতে হবে। ফেরানো যাবে না। কিন্তু দেশের নিয়ন্ত্রক ব্যাঙ্ক বলছে বটে, শুনছে কে। দান বা ভিক্ষাপাত্রেও বাতিল আধুলি। তাহলে কি তা বাতিলের পথেই যাবে সরকার?

Advertisement
তরুণকান্তি দাস
তরুণকান্তি দাস

শেষ আপডেট: ফেব্রুয়ারি ১৬, ২০২৬, ১৩:১৯

link
তরুণকান্তি দাস
তরুণকান্তি দাস

শেষ আপডেট: ফেব্রুয়ারি ১৬, ২০২৬, ১৩:১৯

options
link
সচল হয়েও অচল! ‘ব্রাত্য’ আধুলি তুলে নেওয়ার ভাবনা রিজার্ভ ব্যাঙ্কের zoom
অচল পয়সা। অথচ খাতায় কলমে সচল।

অচল পয়সা। অথচ খাতায় কলমে সচল। তাকে নিয়েই ঢেঁকি গেলার অবস্থা সাধারণ মানুষ থেকে কর্তৃপক্ষেরও। হাটে-বাজারে তা ব্রাত্য। ব্যাঙ্কে জমা দিতে গেলেও নাক সিঁটকোচ্ছেন আধিকারিক। এ এক অদ্ভুত অবস্থা আধুলি বা আট আনাকে নিয়ে।

রিজার্ভ ব্যাঙ্ক (Reserve Bank) বিজ্ঞপ্তি দিয়ে ও সচেতনতা প্রচার করে বারবার জানাচ্ছে ৫০ পয়সা সচল। তা দিয়ে লেনদেন করতে হবে। ফেরানো যাবে না। কিন্তু দেশের নিয়ন্ত্রক ব্যাঙ্ক বলছে বটে, শুনছে কে। দান বা ভিক্ষাপাত্রেও বাতিল আধুলি। তাহলে কি তা বাতিলের পথেই যাবে সরকার? এই প্রশ্নে রিজার্ভ ব্যাঙ্কের এক আধিকারিক জানান, শুনতে বা বলতে সহজ হলেও বিষয়টি অর্থনীতির ক্ষেত্রে খুবই গুরুত্বপূর্ণ ও অর্থবাহী সিদ্ধান্ত। কঠিনও। দু’টি কারণে যে কোনও মুদ্রা বাতিল করা হয়ে থাকে।

Advertisement

১) যদি সেই মুদ্রার ফেস ভ্যালু কমে। ২) বাজারে যদি গ্রহণযোগ্যতা না থাকে। বর্তমানে দ্বিতীয় কারণটি বড় হয়ে উঠেছে। প্রথম কারণটি খতিয়ে দেখতে রিজার্ভ ব্যাঙ্কের (মুদ্রাস্ফীতি বা মনিটারি পলিসি) একটি কমিটিতে তিন সদস্যও রয়েছেন। মুদ্রা বাতিলে এই কমিটিও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ভারত সরকার রিজার্ভ ব্যাঙ্ক থেকে বার্ষিক ভিত্তিতে প্রাপ্ত চাহিদার ভিত্তিতে মুদ্রার পরিমাণ নির্ধারণ করে। কিন্তু ৫০ পয়সার চাহিদাভিত্তিক কোন তথ্য কেন্দ্রের কাছে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক কবে দাখিল করেছে, তাও মনে করতে পারছেন না আধিকারিকরা।

আর কোনও মুদ্রা বাতিল হলে তা সরাসরি যেমন ব্যাঙ্কে জমা দেওয়া যায়, তেমনই কয়েন ভেন্ডিং মেশিন প্রস্তুত করতে হয় সাধারণের সুবিধার্থে। কিন্তু এখনও ৫০ পয়সার ভেন্ডিং মেশিনই প্রস্তুত নেই। মুম্বই, কলকাতার তারাতলা, হায়দরাবাদ এবং নয়ডা টাঁকশালে ৫০ পয়সার মুদ্রা গত ১৫ বছরে তৈরি হয়নি। অর্থাৎ সরকারও তার ব্যবহার কমাতে চেয়েছে বলে জানান এক আধিকারিক।

২০১১ সালের জুন মাস থেকে ২৫ পয়সার কয়েনও বন্ধ। ওই কয়েন জমা নেওয়া হয়েছে নিয়ম মেনে। যেমন মোদি সরকার হঠাৎ করে এক এবং ২ হাজার টাকার নোট বাতিল করার পর তা জমা নেওয়া হয়েছিল। সেক্ষেত্রে আইনি ও আয়করের জট থাকলেও সামান্য সিকি বা আধুলির ক্ষেত্রে তা নেই। কর্মী সংখ্যা ব্যাঙ্কে কম থাকায় কয়েন গুনতে সমস্যা হবে। বিপুল ৫০ পয়সার কয়েন জমা দিতে গ্রাহকরা আসছেন এমন খবর অবশ্য নেই বলেই জানিয়েছেন ব্যাঙ্কিং অফিসারদের সংগঠনের নেতা সঞ্জয় দাস। তাঁর মতে, ব্যবহার প্রায় বন্ধ। তাই ধীরে ধীরেই তা অবসৃত হয়ে যাবে। রিজার্ভ ব্যাঙ্কের এক আধিকারিক বলেন, “৫০ পয়সা হল সবচেয়ে কম মূল্যমানের মুদ্রা। তা নিয়ে বর্তমান অর্থনীতিতে সাধারণ মানুষের তেমন মাথাব্যথা নেই। তবে আমরা সচেতনতা চালিয়ে যাচ্ছি যাতে ৫০ পয়সার লেনদেন বন্ধ না হয়।”

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Advertisement

Share this article on

The article link is copied.