সরকারি কর্মসূচির সঙ্গে দলীয় কর্মীদের সমন্বয় ও সম্পর্ক আরও নিবিড় করতে এবার জেলা সফরে যাচ্ছেন বিজেপি রাজ্য সভাপতি তথা রাজ্যসভার সাংসদ শমীক ভট্টাচার্য (Samik Bhattacharya)। আগামী ২৪ জুনের পর থেকেই দক্ষিণবঙ্গের জেলা দিয়ে এই সফর শুরু হচ্ছে। পর্যায়ক্রমে উত্তরবঙ্গেরও একাধিক জেলাতেও যাবেন তিনি। অংশ নেবেন ‘পণ্ডিত দীনদয়াল দাস উপাধ্যায় প্রশিক্ষণ মহাঅভিযান’-এর অধীনে একাধিক বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ প্রশিক্ষণ শিবিরেও।
কী উদ্দেশ্যে জেলায় জেলায় সফর? বিজেপি রাজ্য সভাপতি শমীক সল্টলেকের বাসভবনে বসে জানিয়েছেন, “দল প্রতিষ্ঠার পর থেকেই তো বাংলায় আমরা বিরোধী দলে। দলীয় কর্মীরা তো প্রথম দিন থেকেই সরকারের বিরোধিতা করছেন। কিন্তু এবার জনতার ঐতিহাসিক রায়ে বাংলায় আমরা ক্ষমতায় এসেছি, রাজ্য সরকারে-প্রশাসনে এই প্রথম দায়িত্বে বিজেপি। স্বভাবতই দীর্ঘদিনের বিরোধিতার রাজনীতির অভ্যাস বদলে কীভাবে ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে রাজ্য প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় ও সম্পর্ক গড়ে তুলবে তা দলের তরফে গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে।” দলের সংগঠনই যে ধ্যান-জ্ঞান সেটা চিকিৎসাধীন অবস্থায় শমীকের জেলা সফরের ভাবনাতেই স্পষ্ট।
আরও পড়ুন:
উল্লেখ্য, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে রাজ্যের মন্ত্রিদেরও দু’দফায় বিশেষ প্রশিক্ষণ শিবির হয়ে গিয়েছে। বৃহস্পতিবার এমন শিবিরে মুখ্যমন্ত্রী ছাড়াও ছিলেন দলের তিন শীর্ষনেতা বিএল সন্তোষ, মঙ্গল পাণ্ডে, অমিত মালব্য ছাড়াও স্বয়ং শমীক। মোদির দু’দিনের সফর ও শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে চলা সরকারের প্রথম বাজেট পর্ব কাটলেই কেন্দ্র ও রাজ্যের জনকল্যাণমূলক প্রকল্পগুলি সাধারণ মানুষের কাছে আরও দ্রুত পৌঁছে দিতে বিশেষ কর্মসূচি নিচ্ছে রাজ্য বিজেপি। বস্তুত সেই কারণে ‘এতদিন ধরে রাজ্য সরকার ও প্রশাসনের বিরোধিতা’ করা কর্মীদের মানসিকতা ও অভ্যাস বদলের লক্ষ্যে বাড়তি গুরুত্ব দিচ্ছে পদ্ম-শিবির।
একান্ত সাক্ষাৎকারে বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য (Samik Bhattacharya) জানিয়েছেন, “দলে এমন অনেক কর্মী আছেন যাঁদের বয়স ৮০, তাঁরা এত বছর ধরে শুধুই রাজ্য সরকারের নানা অনৈতিক ও জনবিরোধী নীতির বিরোধিতা করে গিয়েছেন। আমিই তো টানা ৪২ বছর ধরে রাজ্যে সরকার-বিরোধী হিসাবে বাংলার মাঠে-ময়দানে মানুষের সঙ্গে ঘুরে বেড়াচ্ছি। কিন্তু এখন পুরনো দৃষ্টিভঙ্গি ও অভ্যাস বদলে রাজ্যে ডবল ইঞ্জিন সরকারের সুবিধা এবং পরিষেবা প্রতিটি পরিবারে পৌঁছে দিতেই কর্মীদের প্রস্তুত করতে জেলায় জেলায় দলের নেতৃত্ব যাবেন।” বিজেপিতে যোগদান বন্ধ জানিয়ে দিয়ে এদিন ফের শমীক জানান, “রাজ্যের মানুষ যাঁদের বিরুদ্ধে রায় দিয়েছে, যাঁরা সাধারণ মানুষের সম্পদ-সরকারি অর্থ লুঠ করেছে, জমি দখল করেছে, আর্থিক প্রতারণা থেকে নারী নির্যাতন করেছে, জনবিচ্ছিন্ন-দুর্নীতিগ্রস্ত এমন কাউকে বিজেপিতে নয়।”
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
সর্বকালের সেরা, ‘হ্যান্ড অফ গডে’র দিন বিশ্বকাপে গোলের রেকর্ড ভাঙলেন GOAT মেসি
-
বাজেটে বরাদ্দ ৫০ কোটি, প্রসার ঘটবে ভাষা-সংস্কৃতির, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুকে ধন্যবাদ মূল মানতার
-
‘আসল’ তৃণমূলে গিয়ে মমতার চেয়ারে টান! ফিরহাদ, অরূপ-সহ একগুচ্ছ নেতাকে শোকজ কালীঘাটের
-
এবার জেলা হচ্ছে কলকাতাও! বাজেটে অর্থমন্ত্রীর ঘোষণায় বিভ্রান্তি, কেন এহেন সিদ্ধান্ত সরকারের?
-
এতদিন টাকা ঢুকত তৃণমূল নেতাদের পকেটে! গঙ্গা ভাঙনে বাজেট বরাদ্দে খুশি জঙ্গিপুর