Advertisement
Advertisement

ইলিশ-চিংড়ির সঙ্গেই সংরক্ষিত হত পচা মাংস, বেনিয়াপুকুরে সিআইডির জালে ১

মানিকতলার হিমঘরে উদ্ধার ৬ টন মাংস।

Six tons of carcass meat seized in Kolkata

ফাইল ছবি

Published by: Sangbad Pratidin Digital
  • Posted:May 11, 2018 3:56 pm
  • Updated:May 11, 2018 3:56 pm

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: ভাগাড় কাণ্ডের তন্তভার গ্রহণ করেই শহরের হিমঘরগুলিতে অভিযান চালাল সিআইডি৷ আজ, রাজাবাজার ও মানিকতলার হিমঘরে হানা দেয় সিআইডির বিশেষ দল৷ অভিযানের শুরুতেই মেলে সাফল্য৷ মানিকতলার হিমঘর থেকে উদ্ধার হয় প্রচুর পরিমাণ পচা ও ভাগাড় থেকে সংগ্রহ করা বেশ কিছু পশুর মাংস৷ তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন, ভাগাড় থেকে সংগ্রহ করা মাংসগুলি ইলিশ ও চিংড়ি মাছের পেটিতে একই সঙ্গে রাখা থাকত৷ এদিন দফায় দফায় অভিযান চালানোর পর বেনিয়াপুকুর থেকে এক জনকে আটক করে সিআইডি৷ ইতিমধ্যেই মানিকতলা ও বেনিয়াপুকুরের হিমঘরের মালিকের সন্ধান শুরু করেছেন রাজ্য পুলিশের তদন্তকারি আধিকারিকরা৷

পচা মাংস কাণ্ডে এলাকার বিভিন্ন রেস্তরাঁ ও চিংড়ি প্রসেসিং কারখানায় অভিযান চালায় দক্ষিণ দমদম পুরসভা৷ অভিযানে চিংড়ি প্রসেসিং কারখানা থেকে পচা চিংড়ি ও বেশ কয়েকটি রেস্তরাঁ থেকে পচা মাংস, নিম্নমানের পিজ্জা ও নষ্ট পনির উদ্ধার হয়েছে৷ সেগুলি ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হবে বলে জানা গিয়েছে৷

Advertisement

[স্ত্রী মানসিক অত্যাচার করছেন, আদালতে অভিযোগ মেয়রের]

আজ সকালে ওয়েস্ট ক্যানাল পাড়ের একটি হিমঘরে অভিযান চালান সিআইডি ও পুরসভার আধিকারিকরা৷ হিমঘর থেকে প্রায় ছ’টন মাংস বাজেয়াপ্ত করেন তদন্তকারী আধিকারিকরা৷ ইতিমধ্যেই উদ্ধার হওয়া বেশ কয়েকটি কার্টুনের নমুনা সংগ্রহ করে তা এন্টালিতে রাজ্য সরকারের পরীক্ষাগারে পাঠানো হয়েছে বলে খবর৷

Advertisement

গতকালই ভাগাড় কাণ্ডে পচা মাংস পাচারের নেটওয়ার্ক খুঁজতে মাংস বিশুর বাড়িতে গিয়ে তল্লাশি চালায় সিআইডি৷ মাংস বিশুর তেঁতুলবেড়িয়ার বাড়িতে হানা দেন সিআইডি আধিকারিকরা৷ এর আগে ভাগাড় চক্রের মাথা বিশ্বনাথ ঘোড়ুই ওরফে মাংস বিশুকে গ্রেপ্তার করার পর তার বাড়িতে তল্লাশি চালিয়েছিলেন ডায়মন্ড হারবার জেলা পুলিশের বিশেষ তদন্তকারী দল সিটের সদস্যরা। এবার তদন্তভার হাতে নেওয়ার পর সিআইডিও তার বাড়িতে চালাল তল্লাশি। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, এখনও পলাতক মাংস বিশুর দুই ছেলে ও জামাই। এই তিনজন তার ভাগাড়ের পচা মাংসের কারবারের একটি বড় অংশের দায়িত্বে ছিল।

[ছাত্রীর মৃত্যুতে ধুন্ধুমার পিয়ারলেস হাসপাতালে, তদন্তের দাবিতে বিক্ষোভ নার্সিং পড়ুয়াদের]

সিআইডির একটি টিম ভবানী ভবন থেকে গিয়ে মাংস বিশুর বাড়িতে হানা দেয়। বিশুর দুই ছেলে ও জামাই কোথায় পালাতে পারে, বিশুর পরিবারের অন্যদের জিজ্ঞাসাবাদ করে তা জানার চেষ্টা করা হয়। জানা গিয়েছে, বিশু মাংস পাচারের কাগজপত্রের বিষয়ে বিশেষ কোনও প্রমাণ রাখত না। সে যে হিমঘরে ভাগাড়ের পচা মাংস রাখত ও যে স্টোর-রেস্তরাঁগুলিতে এই মাংস প্যাকেট করে সরবরাহ করত, তার চালান ও রসিদগুলির বেশিরভাগই নষ্ট করে ফেলত।

এদিন সিআইডি আধিকারিকরা সোনারপুরে তার বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে নথিপত্রের সন্ধান চালান। কিছু কাগজপত্র উদ্ধারও করা হয়। বিশুর অন্য বাড়ি ও ফ্ল্যাটেও সিআইডি তল্লাশি চালাবে। তদন্তের কাজে টিম যাচ্ছে সোনারপুর, বজবজ-সহ বিভিন্ন ভাগাড়েও। এদিন টিটাগড় থানার পুলিশ এবং বারাকপুর পুরসভা যৌথভাবে দুপুরে আচমকা হানা দেয় পচা মাছ-মাংসের খোঁজ। এদিনও মাংস বিশুর ডেরায় হানা দিয়ে মানিকতলা ও বেনিয়াপুকুরের হিমঘরের সন্ধান পান তদন্তকারী আধিকারিকরা৷

[দুধেও মিশছে বিষাক্ত রাসায়নিক! চিকিৎসার পরও ফের অসুস্থ হয়ে পড়ছেন রোগীরা]

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ