১১ অগ্রহায়ণ  ১৪২৮  রবিবার ২৮ নভেম্বর ২০২১ 

READ IN APP

Advertisement

নিজের নামের পার্কেই বানান বিভ্রাট, রেহাই পেলেন না সত্যজিৎ রায়ও

Published by: Sucheta Sengupta |    Posted: March 18, 2019 8:31 pm|    Updated: March 18, 2019 9:06 pm

Spelling mistake of

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: বাবার হাত ধরে বাঙালি পেয়েছিল সাহিত্যরস৷ হ-য-ব-র-ল’র পাতায় চন্দ্রবিন্দুর চ, বেড়ালের তালব্য শ আর রুমালের মা – এভাবেই শিখেছিল ‘চশমা’ বানান৷ আর ভুল হওয়ার কোনও জো ছিল না৷ কিন্তু আজ সেদিন গিয়াছে৷ সুকুমার রায়ও নেই৷ ননসেন্স রসে টইটম্বুর সাহিত্যপাঠকের সংখ্যাও কমেছে৷ তাতে কী? বাবার তৈরি সেই উদ্ভটরসের প্রয়োগই এখন ঘটেছে ছেলের নামের বানানে৷ বেশি দূর নয়, শহরের আনাচেকানাচেই চোখে পড়বে তার নিদর্শন৷ যেমন পাটুলি-বৈষ্ণবঘাটা অঞ্চলে দেখা গেল৷

গ্রিন সিটি, ক্লিন সিটি৷ এই ছিল শহরের সৌন্দর্যায়নে রাজ্য সরকারের স্লোগান৷ যে সৌন্দর্যায়নের কাজের দায়িত্বে কলকাতা পুরসভা৷ কাজে হাত দেওয়ার পর ধুলো, ময়লার শহরের চেহারা ইদানিং একটু যেন সাফসুতরো হয়েছে৷ গাছপালা বসেছে, পার্ক তৈরি হয়েছে৷ তেমনই একটি সত্যজিৎ পার্ক৷ ঠিকানা, পাটুলি-বৈষ্ণবঘাটা অঞ্চলে৷ সেখানে দেখা যাচ্ছে, সত্যিই সবুজায়ন হয়েছে৷ সত্যজিৎ রায়ের একটি মূর্তি, ক্যামেরায় চোখ রেখে নির্দেশনার ভঙ্গিমা৷ যা বাঙালির কাছে সুপরিচিত৷ মূর্তিটি সবুজ রঙের৷ মূর্তির নিচের বেদী – তাতেও শ্যামলিমা৷ সবই গ্রিন সিটি, ক্লিন সিটি-র অংশ৷

satyajit2

মনোনয়ন জমার সময় প্রার্থীকে দেওয়া হবে না কেন্দ্রীয় বাহিনী, জানাল কমিশন

এরপর চোখ আটকে গেল একটি জায়গায়৷ দেখা গেল, ‘সত্যজিৎ’ বানান রয়েছে ‘সৎ্যজিত’! বিস্ময় আর কাটে না৷ এমনও লেখা যায়! ভাবতে ভাবতেই কোনও এক ‘দুষ্টু’ ব্যক্তি মোবাইলটি বের করে তুলে নিলেন – ক্লিক৷ ব্যস, আর কী? প্রায় আলোর গতিতে নেটদুনিয়ায় ছড়িয়ে পড়তে লাগল পুরসভা কাজকম্মের পরিচয়৷ সোশ্যাল মিডিয়ায় চক্রাকারে ঘুরতে লাগল সত্যজিৎ পার্কের ‘সৎ্যজিত’ মহিমা৷ বুঝুন কাণ্ড! যে অক্ষরের পূর্ণমাত্রাই নেই, তাতে আবার য-ফলা? বানান ভুল একটা সাধারণ ব্যাপার৷ অনেকেরই হয়৷ বিশেষত কিংকর্তব্যবিমূঢ়, কুজ্ঝ্বটিকা, উর্ধ্বমুখী – এমনই আরও অনেকের৷ তা ’বলে ‘সৎ্যজিত’! নাঃ, কিছুতেই মেনে নেওয়া যায় না৷ মানছেন না বলেই তুমুল সমালোচনা শুরু হয়েছে৷

satyajit3

 

কলকাতা থেকে উদ্ধার আরামবাগের অপহৃত ব্যবসায়ী, গ্রেপ্তার ১

শহরজুড়ে বানান বিভ্রাটের এমন ভুরি ভুরি উদাহরণ আছে৷ শুধু কি বানান? সৌন্দর্যায়নের নামে যেসব মূর্তি বানানো হয়, তার অনেকগুলো দেখে মনে হয়, কাঠ, ছেনি,হাতুড়ি, রং দিয়ে শুধুই যান্ত্রিকভাবে মানুষের অবয়ব গড়া হয়েছে৷ শোভাবাজার মেট্রো স্টেশনের আশেপাশে রেলিং দিয়ে ঘেরা হয়েছে৷ একপাশে একটু বড় জায়গা দেখে বসানো হয়েছে বেশ কয়েকটি মূর্তি৷ এক বিখ্যাত ছবির একটি দৃশ্যের শুটিংয়ের কথা বলছে সেই শিল্পকর্ম৷ ‘পথের পাঁচালি’ ছবির সেই বিখ্যাত দৃশ্য অপু-দুর্গার ট্রেন দেখা৷ সত্যজিৎ রায় সেই দৃশ্যের শুটিং করছেন, এই মর্মে মূর্তি বানানো৷ কিন্তু ডিরেক্টরের জায়গায় যাঁকে বসানো হয়েছে, তিনি সত্যজিৎ রায় না অন্য কেউ, বোঝার উপায় নেই৷ না আছে মুখের আদল, না আছে চেহারার মিল৷ সুতরাং, এইই হল হালফিলের সৌন্দর্যায়নের নমুনা৷ অনেকেরই সমালোচনা, বানানের এমন ঘোরতর বিকৃতি সৌন্দর্যায়নের উদ্দেশ্যকেই মাটি করছে৷   

Sangbad Pratidin News App: খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ
নিয়মিত খবরে থাকতে লাইক করুন ফেসবুকে ও ফলো করুন টুইটারে