১৬ চৈত্র  ১৪২৬  সোমবার ৩০ মার্চ ২০২০ 

Advertisement

রাজ্যের পরামর্শে পুরভোট ইভিএমের বদলে ব্যালটে করার ভাবনা কমিশনের

Published by: Tiyasha Sarkar |    Posted: February 20, 2020 8:47 am|    Updated: February 20, 2020 8:47 am

An Images

স্টাফ রিপোর্টার: ‘ব্যালট পেপার’ ফিরিয়ে আনার ইঙ্গিতের মাধ্যমেই আনুষ্ঠানিকভাবে রাজ্যে পুরভোটের দামামা বাজল বুধবার। যা নিয়ে নতুন অশনি সংকেত রাজ্য রাজনীতিতে। আসন্ন পুরভোট নিয়ে এদিন রাজ্যের তিন জেলাশাসক ও কলকাতার (উত্তর ও দক্ষিণ) দুই নির্বাচনী আধিকারিকের সঙ্গে বৈঠক করেছেন রাজ্য নির্বাচন কমিশনার সৌরভ দাস। সূত্রের খবর, এই বৈঠকে এপ্রিল মাসে ভোট হচ্ছে ধরে প্রস্তুতি শুরু করতে বলা হয়েছে। তার থেকেও তাৎপর্যপূর্ণ, এদিন বলা হয়েছে, ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন বা ইভিএম-এর বদলে এবার ‘ব্যালট’-এ পুরভোট করানোর জন্য আধিকারিকদের যেন প্রস্তুত রাখা হয়। রাজ্য সরকারও তেমনটাই চাইছে বলে নবান্ন সূত্রে খবর।

২০২১-এর বিধানসভা নির্বাচনের আগে চলতি বছর বাংলায় কলকাতা, বিধাননগর, হাওড়া, আসানসোল, শিলিগুড়ি পুর নিগম-সহ রাজ্যের মোট ১১২ পুরসভায় নির্বাচন হওয়ার কথা। গত লোকসভা নির্বাচনে বাংলার রাজনৈতিক সমীকরণে নজরকাড়া পরিবর্তনের পর ২০২১-এর আগে এই পুরভোটের দিকে তাকিয়ে সব মহলই। কমিশন-সূত্রে খবর, মোট দুই পর্বে এই ১১২টি পুরসভা ও নিগমের ভোটপর্ব সাঙ্গ করার কথা ভাবা হচ্ছে। এর মধ্যে আগামী এপ্রিল মাসে প্রথম পর্বে কলকাতা, হাওড়া, শিলিগুড়ি-সহ মোট ১০২টি পুরসভা ও নিগমের ভোট সেরে ফেলা হবে। আসানসোল ও বিধাননগর পুরনিগম-সহ বাকি ১০টিতে নির্বাচন হবে পুজোর পর। এই পুরভোট নিয়ে মাসখানেক ধরেই তৎপরতা শুরু হয়েছিল রাজ্য নির্বাচন কমিশনের অভ্যন্তরে। কিন্তু সে ছিল একান্তই কমিশনের অভ্যন্তরীণ প্রক্রিয়া। বুধবার রাজ্য প্রশাসনিক আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠকের পর ভোটের দিনঘোষণা এখন সময়ের অপেক্ষা।

তবে দিনঘোষণার থেকেও এদিনের বৈঠকের পর বড় ইস্যু হয়ে উঠেছে ভোটগ্রহণ পদ্ধতি। সূত্রের খবর, এবারের পুরভোটে ব্যালট পেপারকে ফিরিয়ে আনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে কমিশন ও প্রশাসনিক কর্তাদের মধ্যে। যদিও গত দেড় দশক ধরে রাজে্যর পুর নির্বাচন ইভিএমে হয়ে এসেছে। সেখানে ফের ব্যালট পেপারের পুনঃপ্রবর্তন নিয়ে প্রশ্ন উঠছে স্বাভাবিকভাবেই!

কিন্তু হঠাৎ করে কেন ব্যালটে পুরভোটের চিন্তা? রাজনৈতিক মহলের মতে, লোকসভা নির্বাচনের আগেই ইভিএমের পরিবর্তে ব্যালট ফেরানো নিয়ে মুখর হয়েছিলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দে্যাপাধ্যায়। নিজের অবস্থান স্পষ্ট করতে ‘চ্যারিটি বিগিনস অ্যাট হোম’­-এর চেনা প্রবাদ আউড়ে ঘোষণা করেছিলেন, “রাজ্যে আমরা পুরভোট ব্যালটেই করব।” এর পর ২১ জুলাইয়ের মঞ্চ থেকেও মমতা দাবি তুলেছিলেন, “ইভিএম নয়, ব্যালট চাই। গণতন্ত্র বাঁচাতে চাই।” বস্তুত ২১ জুলাইয়ের সভার আগে ‘ইভিএম নয়, ব্যালট চাই’ লেখা হোর্ডিংয়ে ছেয়ে ফেলা হয়েছিল রাজ্য। রাজ্য সরকার তথা রাজ্যের শাসক দলের সেই ‘মুড’ আঁচ করেই জেলাগুলিকে ব্যালটে ভোটগ্রহণের প্রস্তুতি  শুরু করতে বলা হয়েছে বলে কমিশন কর্তারা জানাচ্ছেন।

এই ‘ব্যালট বনাম ইভিএম’ যুদ্ধ যে আগামিদিনে ঘোরতর হবে তার ইঙ্গিত ইতিমধ্যেই মিলতে শুরু করেছে। ব্যালটে পুরভোট করতে চেয়ে প্রকাশ্যে সরকার পক্ষ বা কোনও রাজনৈতিক দলের তরফে এখনও প্রস্তাব না জমা পড়লেও ইভিএম-এ ভোট করানোর পক্ষে সওয়াল করে ইতিমধ্যেই কমিশনের দ্বারস্থ হয়েছে বাম-কংগ্রেস ও বিজেপি। পঞ্চায়েত নির্বাচনের কথা মনে করিয়ে দিয়ে ইতিমধ্যেই ইভিএমের পক্ষে জোরালো সওয়াল করেছে তাঁরা। এমত অবস্থায় আসন্ন দ্বন্দ্বের আবহ আঁচ করলেও রাজ্যকেও আবার চটাতে চাইছে না কমিশন। সেক্ষেত্রে সর্বদল বৈঠকে এ বিষয়ে সমাধানের রাস্তা খোঁজা হতে পারে।

[আরও পড়ুন: নতুন করে দেখা দিল কিডনির সমস্যা, আরও সংকটে পোলবার দুর্ঘটনায় জখম ঋষভ]

জানা গিয়েছে, এদিনের বৈঠকে কোন জেলায় কত বুথ, ভোটার সংখ্যই বা কত তা নিয়ে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা করে এগোতে বলা হয়েছে জেলাশাসকদের। সূত্রের খবর, ২৭ ফেব্রুয়ারি কেন্দ্রীয়ভাবে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হবে। এরপর মার্চের প্রথম বা দ্বিতীয় সপ্তাহে ভোটের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করতে পারে রাজ্য নির্বাচন কমিশন। নিয়ম অনুযায়ী, ভোটের দিনক্ষণ জানতে চেয়ে রাজ্য নগরোন্নয়ন দপ্তরকে নির্বাচন কমিশনের চিঠি পাঠানোর কথা। আনুষ্ঠানিকভাবে সেই চিঠি এখনও জমা পড়েনি। তবে নবান্ন সূত্রে খবর, রাজ্য সরকার চাইছে ১২ এপ্রিল, রবিবার কলকাতা ও হাওড়ার পুরসভার ভোট করতে। বাকি পুরসভায় ভোট হোক দু’সপ্তাহ পর অর্থাৎ ২৬ এপ্রিল। আইন অনুযায়ী রাজ্য সরকার ও রাজ্য নির্বাচন কমিশনের সহমতের ভিত্তিতে ভোটের দিনক্ষণ ঠিক হয়। কমিশন সূত্রে খবর, রাজ্যের তরফে ভোটের তারিখ জানিয়ে প্রস্তাব এলে তাতে না করবে না কমিশন। তবে এই পর্বে বিধাননগর এবং আসানসোল পুরনিগমকে রাখা হচ্ছে না বলেই খবর। প্রাথমিক ভাবে ঠিক হয়েছে, এই দুই পুরসভার ভোট হবে পুজোর পর।

এদিকে এপ্রিল মাসে পুরভোট করা নিয়ে আপত্তি রয়েছে রাজ্যের প্রধান বিরোধী দল বিজেপির। তাদের বক্তব্য, মার্চ মাসের ১২ তারিখ থেকে ২৭ তারিখ পর্যন্ত রাজ্যে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা। ফলে এই সময় লাউডস্পিকারে প্রচার করা যাবে না। ফলে পুরভোটের সূচি তৈরি করা হোক প্রচারের সুযোগ-সুবিধার কথা মাথায় রেখেই। বৃহস্পতিবার এই দাবি নিয়ে রাজ্য নির্বাচন কমিশনে যাচ্ছে বিজেপি প্রতিনিধি দল।

Advertisement

Advertisement

Advertisement

Advertisement

Advertisement