Advertisement
Advertisement
Advertisement
Sangbad Pratidin
  • ২৭ শ্রাবণ ১৪৩৩
  • বৃহস্পতিবার
  • ১৩ আগস্ট ২০২৬
STF

ধৃত পাক চরের কাছে ফোর্ট উইলিয়ামের ছবি-ম্যাপ, স্বাধীনতা দিবসের আগে বড় নাশকতার ছক ফাঁস!

এসটিএফের দাবি, ১১ আগস্ট বিশেষ সূত্রের মাধ্যমে রানার গতিবিধির খবর পাওয়ার পর নজরদারি শুরু হয়।

স্টাফ রিপোর্টার
স্টাফ রিপোর্টার

শেষ আপডেট: আগস্ট ১২, ২০২৬, ২২:০০

link
স্টাফ রিপোর্টার
স্টাফ রিপোর্টার

শেষ আপডেট: আগস্ট ১২, ২০২৬, ২২:০০

options
link
ধৃত পাক চরের কাছে ফোর্ট উইলিয়ামের ছবি-ম্যাপ, স্বাধীনতা দিবসের আগে বড় নাশকতার ছক ফাঁস! zoom
কড়া নিরাপত্তায় পাকচর রানাকে আদালতে তোলা হয়।
Advertisement

১৪ বছর ভারতে থেকে ভুয়ো ভোটার ও আধার কার্ড তৈরি! শেষে বাংলাদেশ পালানোর পথে হাবড়ায় এসটিএফের জালে পাক আইএসআই এজেন্ট। মঙ্গলবার রাতে যশোর রোড ধরে বেনাপোল সীমান্তের দিকে যাওয়ার সময় রানা রউফ খালিদ ওরফে সানি ওরফে ওয়াহাব আলমকে গ্রেপ্তার করে এসটিএফ। গ্রেপ্তার করা হয়েছে আরও এক সহযোগী মহম্মদ ইজাজকে। ধৃত রানাকে দফায় দফায় জিজ্ঞাসাবাদ করে একাধিক চাঞ্চল্যকর তথ্য এসটিএফের হাতে উঠে এসেছে। শুধু তাই নয়, ধৃতের কাছ থেকে ফোর্ট উইলিয়মের ছবি এবং একটি ম্যাপ উদ্ধার করেছেন তদন্তকারীরা। কিন্তু কীভাবে কলকাতায় সেনা সদর দপ্তরের ছবি এবং ম্যাপ ধৃত পাক আইএসআই এজেন্টের কাছে গেল সেটাই ভাবাচ্ছেন তদন্তকারীদের। এমনকী আগামী ১৫ আগস্টের আগে ধৃতদের বড়সড় কোনও নাশকতার পরিকল্পনা ছিল কিনা, তাও এখন এসটিএফের তদন্তের রাডারে। তবে এই বিষয়ে ইতিমধ্যে সেনা গোয়েন্দাদের সঙ্গে এসটিএস যোগাযোগ করছে বলে খবর।

ধৃতদের কাছ থেকে পাকিস্তান, নেপাল, শ্রীলঙ্কা ও বাংলাদেশের একাধিক মোবাইল নম্বর, হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাট, দু’টি সিম কার্ড ও ফোন নম্বর লেখা নোটবুক উদ্ধার হয়েছে। কিছু চ্যাট ও নম্বর মুছে ফেলার প্রমাণও মিলেছে বলেই এসটিএফ সূত্রের খবর।

ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন, ভারতীয় সেনার গতিবিধি, সামরিক পরিকাঠামো ও রেলের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাকিস্তানের সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআইয়ের কাছে পৌঁছে দেওয়াই ছিল তাদের কাজ। এমনকী পেট্রাপোল ও ঘোজাডাঙা সীমান্তে সেনার গতিবিধি ও সামরিক পরিকাঠামো সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহের অভিযোগ রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে। তবে এই বিষয়ে আরও নিশ্চিত হতে দফায় দফায় রানা এবং মহম্মদ ইজাজকে জিজ্ঞাসাবাদ করছেন এসটিএফের আধিকারিকরা। ঠিক কী কী তথ্য পাক গুপ্তচর সংস্থার কাছে গিয়েছে সে বিষয়ে আরও তথ্য পেতে মরিয়া তদন্তকারীরা।

Advertisement

এসটিএফ সূত্রে খবর, ধৃতদের বাড়ি পাকিস্তানের ফয়সলাবাদ জেলার হাফিজাবাদ গ্রামে। ২০১২ সালে নেপালের কাঠমান্ডু সীমান্ত দিয়ে রকসোল হয়ে এ রাজ্যে ঢোকার পর কলকাতার তপসিয়া সেকেন্ড লেনে থাকতে শুরু করে। ইজাজের সাহায্যে রানা ‘ওয়াহাব আলম’ নামে ভুয়ো ভোটার ও আধার কার্ড বানিয়েছিল বলে অভিযোগ। পরে এসআইআর প্রক্রিয়ায় তার নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ যায়। তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন, বেশ কয়েকবার পাকিস্তানের রাওয়ালপিন্ডিতে গিয়েছে সে। কিন্তু বাংলাদেশে পালানোর আগে ফাঁস হয়ে যায় গোটা বিষয়টি। এসটিএফের দাবি, ১১ আগস্ট বিশেষ সূত্রের মাধ্যমে রানার গতিবিধির খবর পাওয়ার পর নজরদারি শুরু হয়। যশোর রোড ধরে বেনাপোল সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিল রানা ও ইজাজ। সেই সূত্রে মঙ্গলবার রাতে হাবড়ার চোংদা মোড়ে নজরদারি বাড়ায় এসটিএফ। আনুমানিক রাত সাড়ে ১২টা নাগাদ পুলিশি অভিযানে গ্রেপ্তার করা হয় রানা রউফ খালিদ ওরফে সানি ওরফে ওয়াহাব আলম এবং মহম্মদ ইজাজকে।

যদিও বাংলাদেশে ঢোকার আগে কয়েকজন সীমান্ত দালালের সঙ্গেও রানা যোগাযোগ করেছিল বলে জানতে পেরেছেন তদন্তকারীরা। ধৃতদের কাছ থেকে পাকিস্তান, নেপাল, শ্রীলঙ্কা ও বাংলাদেশের একাধিক মোবাইল নম্বর, হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাট, দু’টি সিম কার্ড ও ফোন নম্বর লেখা নোটবুক উদ্ধার হয়েছে। কিছু চ্যাট ও নম্বর মুছে ফেলার প্রমাণও মিলেছে বলেই এসটিএফ সূত্রের খবর। আগে পাক-যোগ সন্দেহে ধৃত হামিম মণ্ডল, অর্পিতা সরকার ও আদিত্য সিংয়ের সঙ্গে রানা ও ইজাজের যোগাযোগ ছিল বলে এসটিএফের দাবি। রানার মোবাইলে ওই তিনজনের নম্বর সেভ করা ছিল। তাঁদের সূত্র ধরে আইএসআইয়ের সঙ্গে যোগ থাকা সন্দেহে আরও কয়েকজনের নাম তদন্তকারীদের হাতে এসেছে বলে খবর। ফলে ১৪ বছর কলকাতায় থেকে তাদের কার্যকলাপ কতটা বিস্তৃত ছিল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ রাজ্যে কার আশ্রয়ে ছিল তারা, কীভাবে ভারতীয় নথি তৈরি করল, আয়ের উৎস কী এবং সেনা-রেলের তথ্য কীভাবে বাইরে পাঠানো হত—এসবই এখন তদন্তের কেন্দ্রে।

Advertisement

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.