১৪ বছর ভারতে থেকে ভুয়ো ভোটার ও আধার কার্ড তৈরি! শেষে বাংলাদেশ পালানোর পথে হাবড়ায় এসটিএফের জালে পাক আইএসআই এজেন্ট। মঙ্গলবার রাতে যশোর রোড ধরে বেনাপোল সীমান্তের দিকে যাওয়ার সময় রানা রউফ খালিদ ওরফে সানি ওরফে ওয়াহাব আলমকে গ্রেপ্তার করে এসটিএফ। গ্রেপ্তার করা হয়েছে আরও এক সহযোগী মহম্মদ ইজাজকে। ধৃত রানাকে দফায় দফায় জিজ্ঞাসাবাদ করে একাধিক চাঞ্চল্যকর তথ্য এসটিএফের হাতে উঠে এসেছে। শুধু তাই নয়, ধৃতের কাছ থেকে ফোর্ট উইলিয়মের ছবি এবং একটি ম্যাপ উদ্ধার করেছেন তদন্তকারীরা। কিন্তু কীভাবে কলকাতায় সেনা সদর দপ্তরের ছবি এবং ম্যাপ ধৃত পাক আইএসআই এজেন্টের কাছে গেল সেটাই ভাবাচ্ছেন তদন্তকারীদের। এমনকী আগামী ১৫ আগস্টের আগে ধৃতদের বড়সড় কোনও নাশকতার পরিকল্পনা ছিল কিনা, তাও এখন এসটিএফের তদন্তের রাডারে। তবে এই বিষয়ে ইতিমধ্যে সেনা গোয়েন্দাদের সঙ্গে এসটিএস যোগাযোগ করছে বলে খবর।
ধৃতদের কাছ থেকে পাকিস্তান, নেপাল, শ্রীলঙ্কা ও বাংলাদেশের একাধিক মোবাইল নম্বর, হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাট, দু’টি সিম কার্ড ও ফোন নম্বর লেখা নোটবুক উদ্ধার হয়েছে। কিছু চ্যাট ও নম্বর মুছে ফেলার প্রমাণও মিলেছে বলেই এসটিএফ সূত্রের খবর।
আরও পড়ুন:
ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন, ভারতীয় সেনার গতিবিধি, সামরিক পরিকাঠামো ও রেলের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাকিস্তানের সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআইয়ের কাছে পৌঁছে দেওয়াই ছিল তাদের কাজ। এমনকী পেট্রাপোল ও ঘোজাডাঙা সীমান্তে সেনার গতিবিধি ও সামরিক পরিকাঠামো সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহের অভিযোগ রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে। তবে এই বিষয়ে আরও নিশ্চিত হতে দফায় দফায় রানা এবং মহম্মদ ইজাজকে জিজ্ঞাসাবাদ করছেন এসটিএফের আধিকারিকরা। ঠিক কী কী তথ্য পাক গুপ্তচর সংস্থার কাছে গিয়েছে সে বিষয়ে আরও তথ্য পেতে মরিয়া তদন্তকারীরা।
এসটিএফ সূত্রে খবর, ধৃতদের বাড়ি পাকিস্তানের ফয়সলাবাদ জেলার হাফিজাবাদ গ্রামে। ২০১২ সালে নেপালের কাঠমান্ডু সীমান্ত দিয়ে রকসোল হয়ে এ রাজ্যে ঢোকার পর কলকাতার তপসিয়া সেকেন্ড লেনে থাকতে শুরু করে। ইজাজের সাহায্যে রানা ‘ওয়াহাব আলম’ নামে ভুয়ো ভোটার ও আধার কার্ড বানিয়েছিল বলে অভিযোগ। পরে এসআইআর প্রক্রিয়ায় তার নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ যায়। তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন, বেশ কয়েকবার পাকিস্তানের রাওয়ালপিন্ডিতে গিয়েছে সে। কিন্তু বাংলাদেশে পালানোর আগে ফাঁস হয়ে যায় গোটা বিষয়টি। এসটিএফের দাবি, ১১ আগস্ট বিশেষ সূত্রের মাধ্যমে রানার গতিবিধির খবর পাওয়ার পর নজরদারি শুরু হয়। যশোর রোড ধরে বেনাপোল সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিল রানা ও ইজাজ। সেই সূত্রে মঙ্গলবার রাতে হাবড়ার চোংদা মোড়ে নজরদারি বাড়ায় এসটিএফ। আনুমানিক রাত সাড়ে ১২টা নাগাদ পুলিশি অভিযানে গ্রেপ্তার করা হয় রানা রউফ খালিদ ওরফে সানি ওরফে ওয়াহাব আলম এবং মহম্মদ ইজাজকে।
যদিও বাংলাদেশে ঢোকার আগে কয়েকজন সীমান্ত দালালের সঙ্গেও রানা যোগাযোগ করেছিল বলে জানতে পেরেছেন তদন্তকারীরা। ধৃতদের কাছ থেকে পাকিস্তান, নেপাল, শ্রীলঙ্কা ও বাংলাদেশের একাধিক মোবাইল নম্বর, হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাট, দু’টি সিম কার্ড ও ফোন নম্বর লেখা নোটবুক উদ্ধার হয়েছে। কিছু চ্যাট ও নম্বর মুছে ফেলার প্রমাণও মিলেছে বলেই এসটিএফ সূত্রের খবর। আগে পাক-যোগ সন্দেহে ধৃত হামিম মণ্ডল, অর্পিতা সরকার ও আদিত্য সিংয়ের সঙ্গে রানা ও ইজাজের যোগাযোগ ছিল বলে এসটিএফের দাবি। রানার মোবাইলে ওই তিনজনের নম্বর সেভ করা ছিল। তাঁদের সূত্র ধরে আইএসআইয়ের সঙ্গে যোগ থাকা সন্দেহে আরও কয়েকজনের নাম তদন্তকারীদের হাতে এসেছে বলে খবর। ফলে ১৪ বছর কলকাতায় থেকে তাদের কার্যকলাপ কতটা বিস্তৃত ছিল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ রাজ্যে কার আশ্রয়ে ছিল তারা, কীভাবে ভারতীয় নথি তৈরি করল, আয়ের উৎস কী এবং সেনা-রেলের তথ্য কীভাবে বাইরে পাঠানো হত—এসবই এখন তদন্তের কেন্দ্রে।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
অগ্রিম ৫ লক্ষ টাকা দিয়েও মেলেনি ফ্ল্যাট! জনতার দরবারে লেকটাউনের মহিলা
-
কমনওয়েলথ গেমসে ইতিহাস, সোনার মেয়ে অস্মিতাকে জমি, আর্থিক পুরস্কার দিল ত্রিপুরা সরকার
-
স্বাধীনতা দিবসে লোকভবনে আমন্ত্রিত ৪ হাজার, অনুষ্ঠানে অন্য ৫ রাজ্যও, নবান্নের গুচ্ছ গাইডলাইন
-
সুজিতের অ্যাকাউন্টে নিয়োগ দুর্নীতির ৮ কোটিরও বেশি টাকা, হাই কোর্টে চাঞ্চল্যকর দাবি ইডির
-
সঙ্গীদের নাম আড়াল করতে মোবাইল ভাঙে জঙ্গি রানা! নোটবুক হাতড়ে খোঁজ মিলল ৬ পাক চরের