Advertisement
Advertisement
Advertisement
Sangbad Pratidin
  • ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
  • শনিবার
  • ৬ জুন ২০২৬

বৈশাখের শুরুতে স্বমেজাজে গরম, সকাল থেকেই পুড়ছে কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গ

প্রচণ্ড রোদে জ্বলে-পুড়ে যাচ্ছে চামড়া। জ্বালা ধরছে চোখে-মুখে।

Advertisement
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: ডিসেম্বর ৪, ২০১৮, ১৬:০৯

link
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: ডিসেম্বর ৪, ২০১৮, ১৬:০৯

options
link
বৈশাখের শুরুতে স্বমেজাজে গরম, সকাল থেকেই পুড়ছে কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গ zoom

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: বৈশাখের শুরুতেই স্বমেজাজে ফিরল দক্ষিণবঙ্গের গরম। থার্মোমিটারের পারদ হয়তো সেরকম উঠছে না। কিন্তু হাড়ে হাড়ে টের পাইয়ে দিচ্ছে গরমের ঝাঁজ৷ ঘাম প্রায় নেই। তবে প্রচণ্ড রোদে জ্বলে-পুড়ে যাচ্ছে চামড়া। জ্বালা ধরছে চোখে-মুখে। সবচেয়ে বড় কথা, বেলা বাড়ার অপেক্ষা করতে হচ্ছে না, সকালে থেকেই যেন তেতে রয়েছে কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলি। আলিপুর আবহাওয়া দপ্তর জানাচ্ছে, সোমবার শহরের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৬.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসের আশেপাশে থাকবে, স্বাভাবিকের চেয়ে ২ ডিগ্রি বেশি। সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২৬.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস থাকবে, স্বাভাবিকের চেয়ে ১ ডিগ্রি বেশি।

[পূর্ব ভারতে প্রথমবার হার্ট প্রতিস্থাপন সরকারি হাসপাতালে, পথ দেখাচ্ছে পিজি]

আবহাওয়াবিদরা জানাচ্ছেন, এই পরিস্থিতির আশু সুরাহার কোনও ইঙ্গিতও নেই। বরং শুকনো গরমের তেজ আরও বাড়বে বলেও হাওয়া অফিসের ইঙ্গিত। এই পরিবেশে হিট স্ট্রোকের সম্ভাবনা যে যথেষ্ট, চিকিৎসকরা তা প্রতি পদে মনে করিয়ে দিয়ে সতর্ক থাকতে বলছেন। প্যাচপেচে ঘামের বদলে এমন শুখা গরমের সঙ্গে এ সময়ের দক্ষিণবঙ্গ বিশেষ পরিচিত নয়। যার ব্যাখ্যা হিসাবে আলিপুর হাওয়া অফিস বলছে, পশ্চিমি হাওয়ার দাপটে আর্দ্রতা তলানিতে। তাই শুকনো গরম জ্বলুনি ধরাচ্ছে। দপ্তরের অধিকর্তা গণেশকুমার দাস এও বলছেন, আগামী ৪৮ ঘণ্টায় পরিস্থিতি পাল্টাবে না। বৃষ্টির সম্ভাবনা নেই। ফলে অস্বস্তি বাড়বে বই কমবে না।

Advertisement

মার্চের কয়েকটা দিন বাদ দিলে ও এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত দক্ষিণবঙ্গ কার্যত বসন্তের আমেজ পুইয়েছে। যেখানে বছর দু’য়েক আগে এপ্রিলের গোড়া থেকেই গ্রীষ্ম রীতিমতো চোখ রাঙাতে শুরু করেছিল। এবং ৩৬ বছরের রেকর্ড ভেঙে গত ১১ এপ্রিল মহানগরের তাপমাত্রা চড়ে গিয়েছিল ৪১.৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। কিন্তু এবার ১৪ মার্চ শহরের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা চড়েছিল ৩৭.৮ ডিগ্রিতে। এটি চলতি মরশুমে কলকাতার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা। রবিবার শহরের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৬.৬ ডিগ্রির আশেপাশে। যদিও গরমের অনুভূতি যেন ৪০ ডিগ্রির। মেঘমুক্ত নীল আকাশে ঠা ঠা রোদ। ক’দিন আগে পর্যন্ত দিনভর যে দখিনা হাওয়া উড়িয়ে নিয়ে যাচ্ছিল, এখন তার লেশমাত্র নেই। আলিপুরের তথ্য, মঙ্গলবার শহরে সর্বনিম্ন আর্দ্রতা সাকুল্যে ২৯ শতাংশ!

[কলকাতা মেট্রোয় আগুন-আতঙ্ক! দরজা-জানলার কাচ ভেঙে বেরলেন যাত্রীরা]

স্বাভাবিকভাবেই ঘেমে একশা হওয়ার বদলে নববর্ষে তেতেপুড়ে ক্লান্ত হতে হয়েছে নগরবাসীকে। বাঁকুড়া, বর্ধমান, পশ্চিম মেদিনীপুর, বীরভূম এবং পুরুলিয়ার বিস্তীর্ণ এলাকাও তাপে পুড়ছে। তবে ওই জেলাগুলিতে আপাতত তাপপ্রবাহের তেমন কোনও সম্ভাবনা নেই বলে জানিয়েছেন আবহাওয়াবিদরা। অন্যদিকে উপগ্রহচিত্র তন্নতন্ন করে খুঁজেও এক ছটাক মেঘের দেখা মিলছে না। কেন?

আবহাওয়া বিশেষজ্ঞদের ব্যাখ্যা, বায়ুমণ্ডলে জলীয় বাষ্প ঢোকার জন্য সক্রিয় নিম্নচাপ অক্ষরেখা ও উচ্চচাপ বলয় দরকার। এই মুহূর্তে দু’টিই দুর্বল। গ্রীষ্মে মূলত বঙ্গোপসাগরের উপরে তৈরি হওয়া উচ্চচাপ বলয় থেকেই কলকাতা ও দক্ষিণবঙ্গের পরিমণ্ডলে জলীয় বাষ্প ঢোকে। তারই প্রভাবে কালবৈশাখী বা ঝড়-বৃষ্টি হয়। কিন্তু এখন উচ্চচাপের দুর্বলতার সুযোগে বঙ্গোপসাগরের জোলো বাতাসকে ঠেলে সরিয়ে উত্তম-পশ্চিম থেকে ঢুকে পড়ছে শুকনো গরম হাওয়া। কলকাতায় বসেই বিহার-ঝাড়খণ্ডের আবহাওয়ার আঁচ পাওয়া যাচ্ছে।

প্রসঙ্গত, আলিপুর আবহাওয়া দপ্তর সূত্রে আগেই জানানো হয়েছে, চলতি বছর মার্চ-এপ্রিল ও মে মাসে দক্ষিণবঙ্গের গড় তাপমাত্রা স্বাভাবিকের ০.০৫ থেকে ১ ডিগ্রি বেশি থাকবে। পাশাপাশি ঘন ঘন তাপপ্রবাহের কবলে পড়বে কলকাতা-সহ পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলি। রেকর্ড গড়তে পারে মহানগরের তাপমাত্রাও।

[বাঙালি আবেগ ছুঁতে বর্ষবরণের উৎসবকেই হাতিয়ার বিজেপির]

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Advertisement

Share this article on

The article link is copied.