সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: স্কুলে নির্ধারিত গরমের ছুটি শেষ হয়ে গেলেও রাজ্যে গরম কমেনি। সময় এলেও দক্ষিণ পশ্চিম মৌসুমী বায়ুরও কোনও হদিশ নেই। এর সঙ্গে বাড়তে থাকা তাপপ্রবাহে যায় যায় অবস্থা রাজ্যবাসীর। পরিস্থিতি বিবেচনা করে স্কুলের পড়ুয়াদের ছুটি ঘোষণা করে শিক্ষাদপ্তর। এই গরমে পড়ুয়ারা স্কুলে না এলেও শিক্ষক শিক্ষিকাদের কিন্তু প্রতিদিনই স্কুলে আসতে হবে। রাজ্য সরকারের এই নির্দেশিকাই মানছে না দমদমের কুমার আশুতোষ ইনস্টিটিউশন। এমনই অভিযোগ উঠছে। বুধবার বেলা ১২টা নাগাদ স্কুলে গিয়ে দেখা গেল নীরবতা বিরাজ করছে গোটা স্কুল জুড়ে। প্রধান শিক্ষকের ঘরে তালা। অন্যান্য শিক্ষকদের ঘরের দরজা খোলা থাকলেও সেখানে কারওর উপস্থিতি চোখে পড়ল না। তবে নির্মাণের কাজ চলায় বেশ কয়েকজন অশিক্ষক কর্মী সেখানে রয়েছেন। তাঁদের প্রশ্ন করা হলে সভয়ে প্রসঙ্গ এড়িয়ে গেলেন।
[অবশেষে স্বস্তির বৃষ্টিতে ভিজল তিলোত্তমা]
এদিকে কিছুদিন আগেই মাধ্যমিকের ফল ঘোষণা হয়েছে। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী এই হাইস্কুলেও ভরতি প্রক্রিয়া চলছে। ছেলে মেয়েদের একাদশ শ্রেণিতে ভরতির জন্য বেশ কয়েকজন অভিভাবক বুধবার স্কুলে আসেন। তবে টিচার্স রুম, স্কুলের অফিসের অবস্থা দেখে তাঁরা বেশ কিছুক্ষণ অপেক্ষাও করেন। এক সময় হতাশ হয়েই ফিরে যান। উপস্থিত অশিক্ষক কর্মচারীদের প্রশ্ন করেছেন। তবে চিন্তিত অভিভাবকদের কোনও সদুত্তর দিতে পারেননি। এদিকে স্কুলের অশিক্ষক কর্মীদের অনুপস্থিতিতে ভরতি প্রক্রিয়া থমকে গিয়েছে। তবে সরকারি নির্দেশিকাকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে ‘ছুটি’ ভোগ করছেন শিক্ষকরাও। বেলা একটার পর একে একে স্কুলে আসতে শুরু করেন শিক্ষক শিক্ষিকারা। তাপপ্রবাহের জেরে ছুটি যে শুধু পড়ুয়াদের তা জেনেও শিক্ষকরা আসেননি। কিন্তু কেন? এই প্রশ্নে শিক্ষকদের সম্মিলিত দাবি, রাজ্য সরকারের ছুটি সংক্রান্ত নির্দেশিকার বক্তব্য স্পষ্ট ছিল না। এই ঘটনায় তাঁরা সংবাদমাধ্যমের দিকেই অভিযোগের আঙুল তুলছেন। অনেকেরই দাবি, নিজেদের নির্দেশিকা না মানার দায় এড়াতেই শিক্ষকরা সংবাদমাধ্যমের দিকে অভিযোগ তুলেছেন। তাঁদের বক্তব্য, বেশ কিছু সংবাদপত্রে নাকি শিক্ষকদেরও ছুটি এই তথ্য লেখা ছিল। এই তথ্যই বিড়ম্বনা বাড়িয়েছে। তাই এই দেরি। এবং দেরি করে আসার জন্য দুঃখপ্রকাশ করেছেন স্কুলের টিচার ইন চার্জ।
[ভাঙা পাঁচিল টপকে ইকো পার্কে, পুকুরের জলে ডুবে মৃত্যু যুবকের]
উল্লেখ্য, ৩০ জুন পর্যন্ত পড়ুয়াদের ছুটি রয়েছে। তবে ভরতি প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকায় শিক্ষক ও অশিক্ষক কর্মীদের স্কুলে আসার নির্দেশিকা ছিল। কুমার আশুতোষ ইনস্টিটিউশনের শিক্ষকদের দাবি, প্রধান শিক্ষক অন্যান্য শিক্ষকদের স্কুলে আসার কথা জানান। ভরতি প্রক্রিয়া চালু রাখার কথাও জানান। তবে ভরতির কাজ বারোটার পর থেকে শুরু হয় সাধারণত। তাই ১২.৩০-এর আগে পড়ে সবাই চলে আসেন। এদিন একটু দেরি হয়েছে। কার্যত এভাবেই সরকারি নির্দেশিকা অমান্যের দায় এড়ান ওই স্কুলের শিক্ষকরা। গোটা বিষয়টি নিয়ে মুখ খোলেননি স্কুল কর্তৃপক্ষ। মুখে কুলুপ অশিক্ষক কর্মীদেরও।
সর্বশেষ খবর
-
সিপিএম-আরএসপি দ্বন্দ্ব চরমে! চূড়ান্ত হলো না দুই কেন্দ্রে উপনির্বাচনের প্রার্থী
-
‘নিখোঁজ’ বিডিও কীভাবে পাচ্ছেন বেতন? প্রশান্ত বর্মনের মামলায় সিআইডিকে ‘ভর্ৎসনা’ হাই কোর্টের
-
তসলিমার বক্তৃতা নিয়ে প্রশ্ন স্কুলের পরীক্ষায়! ‘লেখাকে অত সহজে নির্বাসিত করা যায় না’, খোঁচা লেখিকার
-
মণ্ডপের বদলে এবার গঙ্গাতেই প্রতিমা নিরঞ্জন, বিতর্ক কাটিয়ে এবার থিমে কোন চমক দেবে টালা প্রত্যয়?
-
শেফালির ঝড়, দীপ্তির দুরন্ত ঘূর্ণি! বাংলাদেশকে উড়িয়ে ১০ এশিয়া কাপের ১০ আসরেই ফাইনালে ভারত