Advertisement
Sangbad Pratidin
  • ২৩ শ্রাবণ ১৪৩৩
  • রবিবার
  • ৯ আগস্ট ২০২৬
Taratala Godown Collapse

দুর্বল ঢালাই, দায়ী লিজ নেওয়া সংস্থা? তারাতলা বিপর্যয়ে জড়াল ফিরহাদ ঘনিষ্ঠ কাউন্সিলরের নাম

বন্দর কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে বছর ২ আগেই এই জমিতে গুদাম ও হিমঘর তৈরির লিজ পেয়েছিল বেহেরা ব্রাদার্স।

অর্ণব আইচ
অর্ণব আইচ

শেষ আপডেট: জুন ২৪, ২০২৬, ১৮:৪৯

link
অর্ণব আইচ
অর্ণব আইচ

শেষ আপডেট: জুন ২৪, ২০২৬, ১৮:৪৯

options
link
দুর্বল ঢালাই, দায়ী লিজ নেওয়া সংস্থা? তারাতলা বিপর্যয়ে জড়াল ফিরহাদ ঘনিষ্ঠ কাউন্সিলরের নাম zoom
তারাতলা বিপর্যয়ে নাম জড়াল ফিরহাদ হাকিম ঘনিষ্ঠ তৃণমূল কাউন্সিলর
Advertisement

দুর্বল ভিতের উপর কোনওক্রমে লোহার বিম খাড়া করে তিনতলা বাড়ি তৈরি করে দেওয়া হয়েছিল। চলছিল ঢালাইয়ের কাজ। কিন্তু সেই ঢালাই ধরে রাখা যাচ্ছিল না। ফলে যা হওয়ার তাই হয়েছে তারাতলায়। বুধবার ব্রেসব্রিজের কাছে নির্মীয়মাণ ইমারত ভেঙে পড়ায় বিরাট বিপর্যয়ে সাক্ষী রইল কলকাতাবাসী। অন্তত তিনজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে। এই সংখ্যা আরও বাড়বে বলেই আশঙ্কা। অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে উদ্ধারকাজ চালাচ্ছে বিপর্যয় মোকাবিলা দল, এনডিআরএফ, পুলিশ ও সেনাবাহিনী। তার পাশাপাশিই উঠছে হাজার প্রশ্ন।

এই বিপর্যয়ের নেপথ্যে দায়ী কে বা কারা? এলাকায় কান পাতলে শোনা যাচ্ছে স্থানীয় কাউন্সিলর আনোয়ার খানের নাম। তিনি কলকাতা বন্দরের বিধায়ক তথা প্রাক্তন মেয়র ফিরহাদ হাকিম ঘনিষ্ঠ। আঙুল উঠছে এই জমি লিজ নিয়ে গুদাম ও হিমঘর তৈরির দায়িত্ব নেওয়া মেসার্স বেহেরা ব্রাদার্সও।

Advertisement

দেখা যায়, ইস্পাতের শেডের উপর কংক্রিটের ঢালাই হয়েছে। তা এত ভারী হয়ে যায় যে চাপ নিতে পারেনি। লোহার বিম বেঁকে গিয়েছে। অভিযোগ, ভালোভাবে নির্মাণকাজ হচ্ছিল না, দ্রুত করতে গিয়েই এই বিপর্যয় নেমে এসেছে। দায় স্বভাবতই যাচ্ছে নির্মাণ সংস্থার দিকে। এখানেই লিজ নেওয়া সংস্থা বেহেরা ব্রাদার্সের নাম উঠছে। এছাড়াও অভিযোগ উঠছে ৮০ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর আনোয়ার খানের বিরুদ্ধেও।

তারাতলায় নির্মীয়মাণ ইমারত ভেঙে বড় বিপর্যয়। ছবি: সুখময় সেন

জানা যাচ্ছে, ব্রেসব্রিজের কাছে কলকাতা বন্দর কর্তৃপক্ষের ৬৬৮৯ বর্গমিটার জমিটি ৩০ বছরের জন্য লিজে নিয়েছিল বেহেরা ব্রাদার্স। তাদের তরফে শম্ভুনাথ বেহেরা এর দায়িত্বে ছিলেন। লিজের মেয়াদ শুরু হয় ২০২৪ সালের আগস্ট থেকে। কথা ছিল এখানে গুদাম ও হিমঘর তৈরি হবে। সেই কাজ চলছিল। তবে নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে কোনওক্রমে ভিত তৈরি করে লোহার বিম ব্যবহার করে দাঁড় করানো হয়েছিল তিনতলা বিল্ডিং। বুধবার সকাল থেকেই লোহার বিমগুলি বাঁকতে শুরু করে। তার আগে কোনও পরীক্ষা করা হয়নি।বিপর্যয়ের সময়ে ঢালাই হচ্ছিল দোতলা ও তিনতলায়। দোতলার কাজ দেখছিলেন এক ঠিকাদার। তাঁর নাম আসগর। তিনি এলাকার প্রভাবশালী তৃণমূল নেতা বলেও পরিচিত।দুপুরে ইমারতটি ভেঙে পড়ার পর থেকে তিনিও নিখোঁজ।

সাংবাদিক বৈঠক করে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানান, এই ইমারত কলকাতা পুরসভার আবাসন বিভাগের অনুমোদিত। আগের সরকারের আমলে, এবছরের ১৭ জানুয়ারি অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল। ভেঙে পড়া বিল্ডিংয়ের নকশা ত্রুটিপূর্ণ ছিল। সেই কারণে এত বড় বিপর্যয়। আপাতত এখানকার কাজ বন্ধ থাকবে।  

উদ্ধারকাজে নেমে ধ্বংসস্তুপের চেহারা দেখে রীতিমতো বিচলিত কর্মীরা। দেখা যায়, ইস্পাতের শেডের উপর কংক্রিটের ঢালাই হয়েছে। তা এত ভারী হয়ে যায় যে চাপ নিতে পারেনি। লোহার বিম বেঁকে গিয়েছে। অভিযোগ, ভালোভাবে নির্মাণকাজ হচ্ছিল না, দ্রুত করতে গিয়েই এই বিপর্যয় নেমে এসেছে। দায় স্বভাবতই যাচ্ছে নির্মাণ সংস্থার। এখানেই লিজ নেওয়া সংস্থা বেহেরা ব্রাদার্সের নাম উঠছে। এছাড়াও অভিযোগ উঠছে ৮০ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর আনোয়ার খানের বিরুদ্ধেও। তাঁর মদতেই নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে কাজ হয় বলে অভিযোগ। এদিন দুর্ঘটনার খবর পেয়ে আনোয়ার সেখানে গিয়ে জনতার বাধার মুখে পড়েন। তাঁকে রীতিমতো তাড়িয়ে দেওয়া হয়।

ধ্বংসস্তূপ থেকে উদ্ধার করে হাসপাতালের পথে উদ্ধারকারীরা। ছবি: সুখময় সেন

ঘটনাস্থল ঘুরে দেখে সাংবাদিক বৈঠক করে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানান, এই ইমারত কলকাতা পুরসভার আবাসন বিভাগের অনুমোদিত। আগের সরকারের আমলে, ২০২৬ সালের ১৭ জানুয়ারি অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল। ভেঙে পড়া বিল্ডিংয়ের নকশা ত্রুটিপূর্ণ ছিল। সেই কারণে এত বড় বিপর্যয়। আপাতত এখানকার কাজ বন্ধ থাকবে।  

Advertisement

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.