মঙ্গলবার রাত ১০টা। শেষবার ছোট ভাইয়ের সঙ্গে ফোনে কথা। বলেছিল খুব তাড়াতাড়ি দেখা হবে। কথা রাখতে পারলেন না বছর তিরিশের রোহিত চৌধুরী। তারাতলা বিপর্যয়ে (Taratala Godown Collapse) চিড়ে চ্যাপটা হয়ে মৃত্যু হয়েছে তাঁর। ভাইকে হারিয়ে চোখের জলে ভাসছেন তাঁর দিদি। এসএসকেএম হাসপাতালে পৌঁছেও যেন কঠিন বাস্তব মানতে পারছেন না তিনি।
এই বিষয়ে আরও খবর

জানা গিয়েছে, বছর চল্লিশের রোহিত চৌধুরী কৃষ্ণনগরের বাসিন্দা। মাস পাঁচেক ধরে তারাতলার এই নির্মীয়মাণ গুদাম ও কোল্ডস্টোরেজে কাজ করছেন। ওয়েল্ডিংয়ের কাজ করতেন রোহিত। বুধবার সকালেও কাজ করেন তিনি। সেই সময় হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ে কারখানার শেড। কৃষ্ণনগরে বসে টেলিভিশনের পর্দায় সে খবর দেখেন দিদি। তারপর থেকে প্রমাদ গুনছিলেন। কু ডাকছিল মন। বারবার মনে ঘুরপাক খাচ্ছিল একটাই প্রশ্ন ওই শেডের নিচে ভাই নেই তো? স্বামীর সঙ্গে এসএসকেএম হাসপাতালে পৌঁছন তিনি। সেখানে পৌঁছে জানতেন পারলেন আশঙ্কাই সত্যি হয়েছে। ভিতরে শায়িত তাঁর ভাইয়ের নিথর দেহ। শুনে নিজেকে আর স্থির রাখতে পারেননি। অঝোরে কেঁদেই চলেছেন তিনি। কঠিন বাস্তবকে মানতে পারছেন না রোহিতের দিদি। কান্না বাঁধ মানছে না তাঁর।
এসএসকেএম হাসপাতালে ভাইকে শেষ দেখার অপেক্ষায় কৃষ্ণ চৌধুরীর দাদাও। উত্তর ২৪ পরগনার জগদ্দলের বাসিন্দা তিনি। নিজের এলাকায় ঠিকমতো কাজ পেতেন না। তার ফলে দিন গুজরান করাই যেন দায় হয়ে গিয়েছিল। সে কারণেই বাধ্য হয়ে তারাতলার গুদামে কাজ করতে আসেন কৃষ্ণ। তবে এমন বিপদ যে কপালে লেখা ছিল, তা বোধহয় স্বপ্নেও কল্পনা করেননি নিহতের পরিবারের লোকজন। শোকে দুঃখে পাথর কৃষ্ণর দাদা। পরিবারের লোকজনের কী হবে, সে চিন্তায় যেন মাথায় আকাশ ভেঙে পড়েছে তাঁর। সরকারি সাহায্যের অপেক্ষায় নিহতের দাদা।
বলে রাখা ভালো, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এই বিপর্যয় প্রসঙ্গে বৃহস্পতিবার বিধানসভায় বিবৃতি দেবেন। আর্থিক সাহায্যও ঘোষণা করতে পারেন তিনি।
এই বিষয়ে আরও খবর
সর্বশেষ খবর
-
‘আমাকে মারার চক্রান্ত, ঋতব্রতদের জামাই আদর পুলিশের’, ৪ ঘণ্টা জেরার পর বিস্ফোরক হুমায়ুন
-
মার্চের মধ্যে দেড়লক্ষ শূন্যপদে নিয়োগ! চাকরিপ্রার্থীদের জন্য বিরাট সিদ্ধান্ত রাজ্যের
-
‘আমাদের ভোট ফিরিয়ে দিন’, এসআইআর ইস্যুতে জ্ঞানেশ কুমারের গ্রেপ্তারির দাবি মমতার
-
‘নাটক বন্ধ হোক’, কমিশনে ‘ভোটচুরি’ বিতর্কে টিএন সেশন তুলে কংগ্রেসকে পালটা বিজেপির
-
আগামী ৬ মাসে সুপার এল নিনো কাড়বে সাড়ে ৪ লক্ষ প্রাণ! রিপোর্ট ঘিরে আতঙ্ক



