পুজো প্রায় এসেই গেল৷ পাড়ায় পাড়ায় পুজোর বাদ্যি বেজে গিয়েছে৷ সেরা পুজোর লড়াইয়ে এ বলে আমায় দেখ তো ও বলে আমায়৷ এমনই কিছু বাছাই করা সেরা পুজোর প্রস্তুতির সুলুকসন্ধান নিয়ে হাজির Sangbadpratidin.in৷ আজ পড়ুন তেলেঙ্গাবাগান সর্বজনীনের পুজো প্রস্তুতি৷
শুভময় মণ্ডল: ‘পেটকাটি চাঁদিয়াল মোমবাতি বগ্গা, আকাশে ঘুড়ির ঝাঁক মাটিতে অবজ্ঞা…’
বাস্তব কথা শুনিয়ে ছিলেন বটে কবীর সুমন। বয়স ১২ কী ১৩, কিশোর পা রিকশা চালাচ্ছে। আকাশে ঘুড়ির ঝাঁক তাকে হাতছানি দিচ্ছে। কিন্তু পেটের জ্বালা বড় দায়। তাই মন পড়ে রাস্তায়। এমন কত দুঃখের কাহিনি লুকিয়ে সমাজের আনাচে-কানাচে। ভাগ্যের চরম মারে লক্ষ লক্ষ শৈশব এইভাবেই শেষ হয়ে যায়। স্বাধীনতার ৭০ বছর পরেও শিশুশ্রম সমান প্রাসঙ্গিক। আজও শহরের অলি-গলিতে শয়ে শয়ে শিশুশ্রমিক দুপায়ে স্বপ্ন মাড়িয়ে কাজ করে চলেছে। হাতে পাঠ্যবইয়ের বদলে ছেনি-হাতুড়ি। পিঠে বইয়ের ব্যাগের বদলে কাগজের বস্তা, বা মাথায় ইট। রুটি-রুজির টানে শৈশবকে অনেক আগেই আলবিদা জানিয়েছে তারা। রঙিন স্বপ্নগুলোর গলা টিপে আজ তারা দিনরাত খেটে চলেছে পেটের টানে। সেই শিশুশ্রমিকদের সেই হারানো স্বপ্নগুলোকেই উড়ানের পাখনা দেবে তেলেঙ্গাবাগান সর্বজনীন। উত্তরের এই ক্রাউড পুলার পুজো এবার সেই শিশুশ্রমিকদের ধূসর হয়ে যাওয়া ইচ্ছেগুলোকে রামধনু রঙে রাঙিয়ে দেবে। ৫২তম বর্ষে তাদের শারদ নিবেদন-স্বপ্নউড়ান।

থিমমেকার সিদ্ধার্থ ঘোষ ও পার্থ ঘোষের যুগলবন্দিতে এবার পুজোয় সেজে উঠছে তেলেঙ্গাবাগানের পুজোমণ্ডপ। একখণ্ড শ্রমিক মহল্লা তৈরি করা হচ্ছে মণ্ডপে। যেখানে ইট-কাঠ-পাথরের দেওয়ালে আছড়ে পড়ে খান খান হয়ে গিয়েছে ওদের কৈশোরের স্বপ্ন। সেই স্বপ্নগুলোয় রং ছড়ানোর চেষ্টা করছেন শিল্পীদ্বয়। মণ্ডপে ঢুকলেই দেখা যাবে, শ্রমিক মহল্লা দিয়েই বাবা-মায়ের হাত ধরে স্কুলের পথে চলেছে শিক্ষিত সমাজে লালিত শিশুরা। আর তাদের ফ্যালফ্যাল করে দেখছে শিশুশ্রমিকরা। তবুও মনে ধীরে ধীরে ডানা মেলে স্বপ্নগুলো। তাই কাজ করে চলেছে ওরা। হয়তো একদিন এই শ্রমের শৃঙ্খল ছিঁড়ে উড়ে যাবে স্বপ্নগুলো। সেই টুকরো টুকরো ছবিই গোটা মণ্ডপে ফুটিয়ে তুলেছেন দুই শিল্পী। গর্ভগৃহ তৈরি হচ্ছে একটি কেটলির আদলে। সেই ফুটন্ত চায়ের কেটলি থেকেই ভেসে যাচ্ছে স্বপ্নের বাস্প। শিল্পী নবকুমার পালের সৃজনে তৈরি হচ্ছে প্রতিমা। আলোর দায়িত্বে রয়েছেন শিল্পী সমর দে। ভাবনায় শিশুদের হাতে বই তুলে দেওয়ার চেষ্টা করেছেন শিল্পীদ্বয়। সেই বই হাতে ওরা স্বপ্ন উড়ানের অপেক্ষায়।

গতবছর বাংলা নববর্ষের উদযাপনকে দুই বাংলার আঙ্গিকে মণ্ডপসজ্জায় ফুটিয়ে তুলেছিল তেলেঙ্গাবাগান। নেপথ্য কারিগর ছিলেন এই দুই শিল্পীই। পুজোপ্রেমী বাঙালির ভূয়সী প্রশংসা পেয়েছিল সেই ভাবনা। এবার শিশুশ্রমিকদের স্বপ্নউড়ান ডানা মেলে উড়বে পুজোমণ্ডপে। তা কতটা পুজোপ্রেমীদের মনে ধরে এখন সেটাই দেখার।
কেমন চলছে পুজোর প্রস্তুতি, দেখুন ভিডিওয়-
সর্বশেষ খবর
-
‘এই ভূখণ্ড পাকিস্তানের নয়, ভারতের সঙ্গে যোগাযোগ করব’, শাহবাজের বুক কাঁপিয়ে হুঁশিয়ারি পিওকে-বাসীর
-
চুরিতে সাহায্য! রাম মন্দির কাণ্ডে এবার নজরে ব্যাঙ্কও, কতটা গভীরে শিকড়?
-
‘পরের বিশ্বকাপে চেষ্টা করবেন,’ ব্রাজিল শেষ ষোলোয় উঠতেই পোস্ট নেইমারের, কাঁকে বিঁধলেন?
-
চুয়াত্তরের বিশ্বকাপ মানেই জোহান ক্রুয়েফ! আজও অমলিন টোটাল ফুটবলের গপ্প
-
আন্সেলোত্তি বোঝালেন, কেন তিনি সেরা, এই ব্রাজিল স্বপ্ন দেখাচ্ছে ব্যারেটোকেও