ধ্রুবজ্যোতি বন্দ্যোপাধ্যায়: ‘দিদিকে বলো’-র পর ‘বাংলার গর্ব মমতা’। নেতাজি ইন্ডোরের বহু প্রতীক্ষিত ইভেন্ট ঘোষণা করলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ৭ মার্চ থেকেই শুরু হয়ে যাবে কর্মসূচি। শাসকদলের তরফে তিন ধাপে প্রচার চলবে রাজ্যের ২৯৪ টি বিধানসভা কেন্দ্রে। দলের পুরনো কর্মীদের যথাযোগ্য সম্মান দিয়ে দলের কাজে ফের সক্রিয়ভাবে শামিল করা হবে। জনকল্যাণমূলক কাজগুলির সুফল প্রচারের আকারে নিয়ে যেতে হবে একেবারের বুথ স্তরে। ছোট ছোট ভিডিও তৈরির মাধ্যমেও চলবে প্রচার। প্রত্যেকটি এলাকায় জনজাতির ভিত্তিতে আলাদা করে সভা, সম্মেলন চলবে। সবমিলিয়ে ‘বাংলার গর্ব মমতা’ ইভেন্টের মধ্যে আরও একগুচ্ছ প্রচার কর্মসূচি নিয়ে লড়াইয়ের ময়দানে নামছে রাজ্যের শাসকদল।

সোমবার সকাল ১০টা নাগাদ নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে এই কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করেন দলের সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বেশ কয়েকটি পর্যায়ে পালিত হবে কর্মসূচি। প্রথম ধাপে ৭ মার্চ থেকে ১৫ তারিখ, দ্বিতীয় ধাপে ২০ মার্চ থেকে ১৯ এপ্রিল এবং তৃতীয় ধাপ ২০ এপ্রিল থেকে ১০ মে পর্যন্ত প্রচার চলবে। কর্মসূচিকে ভাগ করে দেওয়া হয়েছে একাধিক ভাগে –
[আরও পড়ুন: পরিচয় লুকোতে হিন্দু নাম গ্রহণ, কলকাতা বিমানবন্দরে ধৃত ২ রোহিঙ্গা]
- স্বীকৃতি সম্মেলন – দলের পুরনো কর্মীদের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি।
- সংহতি সভা – ২৭৭ টি বিধানসভা কেন্দ্রে তফসিলি জাতির সদস্যদের জন্য সভা।
- চেতনা সভা – ৯৭ টি বিধানসভা কেন্দ্রের তফসিলি উপজাতিদের সঙ্গে জনসংযোগ।
- বাংলার বার্তা – ৩৫০০ পঞ্চায়েত ও পুরসভা এলাকায় জনসভা।
- নবীন বরণ সভা – ১ লক্ষ যুবককে নিয়ে ২০ হাজার জনবসতি এলাকায় যুবদের একত্রিত করে দলে যোগদান।
- বিশিষ্ট সম্মেলন – ২৯৪ বিধানসভায় ১৫ হাজার মহিলাকে বিশেষ সম্মান প্রদান।
- তৃণমূলের সাথে মান্যজন – ২৯৪ বিধানসভায় ২৫০০০ জনমত গঠনকারী মানুষের সঙ্গে একক বৈঠক নেতাদের।
দ্বিতীয় ধাপে অর্থাৎ ২০ মার্চ থেকে জনবসতিপূর্ণ এলাকায় হবে বঙ্গধ্বনি যাত্রা। তৃতীয় পর্যায়ে হবে তৃণমূল পদাতিক সম্মেলন। ১৫০০ কিমি পদযাত্রা ও বুথ কর্মী সম্মেলন। ২৯৪ টি বিধানসভার অন্তত ৫ লক্ষ বুথে এই প্রচার হবে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এতদিন বিভিন্ন বক্তৃতায় যে উল্লেখযোগ্য যা বলেছেন, যেসব রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, সেসব একত্রিত করে ট্রেলার বানিয়ে চালানো হবে সর্বত্র। তাঁর এতদিনের কাজ, রাজনৈতিক জীবন সংগ্রাম তুলে ধরা হয়েছে এই ভিডিওতে। দেশের বড় নেত্রী হিসেবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ইমেজ ছড়িয়ে দেওয়া হবে।
[আরও পড়ুন: প্রথমবার মেট্রো চড়তে গিয়েই বিপত্তি, ঝাঁপ দিয়েই লাইন পার যুবকের!]
এদিন নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে দেখা গেল, সমস্ত আসন ভরতি। এত জনসমাগমে কোনও বিশৃঙ্খলা নেই। যে যার আসনে কর্মসূচির কিট হাতে বসে। স্টেডিয়ামে রয়েছে চারটি জায়েন্ট স্ক্রিন, চারটি ডিএসআর ভিডিও ক্যামেরা, সাউন্ড সিস্টেম বদলে ফেলা হয়েছে। তৃণমূলের এই মেগা ইভেন্ট একেবারে চূড়ান্ত শৃঙ্খলায় বাঁধা। অনুষ্ঠান শেষে সকলকে সংবিধান পাঠ করালেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এরপরই তিনি চলে যাবেন মালদহে, প্রশাসনিক কাজে।

সর্বশেষ খবর
-
‘ববিদাকে ফোন করব’, ফিরহাদের পদত্যাগের পরই জল্পনা বাড়ালেন ‘আসল তৃণমূল’ ঋতব্রত
-
‘ইন্ডাস্ট্রিতে কেউ কচি নয়’, স্বরূপের শ্লীলতাহানি মামলায় রূপার নিশানায় কারা? কী বলছেন স্বপন দাশগুপ্ত?
-
দিল্লি দরবারে বৈঠক শেষে ‘খুশি’ মনে রাজ্যে ফিরছেন মুখ্যমন্ত্রী, আজ রাতেই দপ্তর বণ্টন!
-
অভিষেকের কথাই শেষ কথা নয়! দলের খোলনলচে বদলে বড় সিদ্ধান্ত বিদ্রোহে ‘বিপন্ন’ মমতার
-
ভারতে ইবোলার হানা! জয়পুরে উগান্ডার পর্যটকের শরীরে সংক্রমণের লক্ষণ ঘিরে চর্চা