পূর্বতন সরকারের অসহযোগিতায় রাজ্যে ৮২,৪৯২ কোটি টাকার পরিকাঠামোগত উন্নয়নের কাজ হয়নি। বর্তমান সরকারের আমলে রেল, সড়ক, মেট্রো-সহ গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প গতি পেতে চলেছে। মঙ্গলবার নবান্ন সভাঘরে সাংবাদিকদের একথা জানান কেন্দ্রীয় কৃষি ও গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহান। একই সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে (CM Suvendu Adhikari) পাশে বসিয়ে বাংলার জন্য একগুচ্ছ প্রকল্পের ঘোষণা করেন তিনি। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জানান, পশ্চিমবঙ্গকে বাদ দিয়ে ‘বিকশিত ভারত’ গঠন অসম্ভব। আর সেই লক্ষ্যেই কেন্দ্রের ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকার রাজ্যের পরিকাঠামো, কর্মসংস্থান এবং কৃষি ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন করতে চাইছে। এ প্রসঙ্গ টেনে মুখ্যমন্ত্রীও এদিন বলেন, “আমরা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম হাতে কাজ, পেটে ভাত, মাথায় ছাদ। আজকে দুটো বিষয় এখানে সুনিশ্চিত করেছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী। ১২৫ দিনের কাজে ইতিমধ্যে ২ কোটি ৫৬ লক্ষ জব কার্ড চিহ্নিত হয়েছে। আর মাথায় ছাদের ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় আবাস যোজনায় আজকে ১ লক্ষ বাড়ির অনুমোদন আমরা পেয়েছি।” এদিন ‘বিকশিত ভারত জিরামজি’ প্রকল্পে ন্যূনতম মজুরি বৃদ্ধির কথাও জানান মুখ্যমন্ত্রী। বলেন, “অদক্ষ শ্রমিকের ক্ষেত্রে ৩০০, সেমি স্কিলডের ক্ষেত্রে ৪৫০ এবং দক্ষ শ্রমিকদের ক্ষেত্রে ৬০০ টাকা ধার্য করা হয়েছে।”
এ প্রসঙ্গে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জানান, প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে যদি কোথাও কাজ আটকে যায়, তবে আরও ৫০ দিন বাড়তি সুযোগ দেওয়া হবে শ্রমিকদের। এদিন মুখ্যমন্ত্রী জানান, ‘লাখপতি দিদি’ ও দীনদয়াল অন্ত্যোদয় যোজনার অধীনে ৮০ লক্ষ স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলাদের স্বাবলম্বী করতে ২৪৫ কোটি টাকার ব্যাঙ্ক লোন এবং ৫০ কোটি টাকার ‘কমিউনিটি ইনভেস্টমেন্ট ফান্ড’ (সিআইএফ) রিলিজ করা হয়েছে। ইতিমধ্যেই কেন্দ্র দার্জিলিং, আলিপুরদুয়ার, ঝাড়গ্রাম এবং পুরুলিয়া জেলাকে প্রধানমন্ত্রী ধনধান্য কর্মসূচিতে যুক্ত করেছে।
আরও পড়ুন:
এদিন মুখ্যমন্ত্রী এবং পঞ্চায়েতমন্ত্রী দিলীপ ঘোষ ও কৃষিমন্ত্রী দুধকুমার মণ্ডলের সঙ্গে বৈঠক শেষে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বলেন, “বাংলাকে সমগ্র পূর্ব ভারতের বীজের হাব করা হবে। আলুবীজ, হাইব্রিড ভুট্টাবীজ উৎপাদনের জন্য, রাজ্য সরকারের সঙ্গে আমাদের মউ স্বাক্ষরিত হয়েছে। মালদহ জেলায় আম, লিচু ও অন্যান্য উদ্যানপালন ফসলের চারা তৈরির জন্য ১০০ কোটি টাকার একটি আইসিএআর প্রোজেক্ট অনুমোদন করা হয়েছে। হুগলির চুঁচুড়া ধান গবেষণা কেন্দ্রকে আন্তর্জাতিক মানের ‘সেন্টার অফ এক্সেলেন্স’ হিসাবে উন্নীত করার সিদ্ধান্ত হয়েছে।” এদিকে, গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে, গত জুনের শেষ সপ্তাহেই মনরেগা বাবদ ৭০০ কোটি টাকা রাজ্যকে দেওয়া হয়েছিল। পাশাপাশি, প্রধানমন্ত্রী গ্রাম সড়ক যোজনার অধীনে রাজ্যে ২৪০০ কিলোমিটার নতুন রাস্তা তৈরির জন্য প্রথম পর্যায়ে ১,০০০ কোটি টাকা মঞ্জুর করা হয়েছে।
এদিকে এদিন সকালে ‘অরণ্য সপ্তাহ’ (১৪-২০ জুলাই) কর্মসূচির অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী সাফ জানিয়ে দেন, “দূষণমুক্ত, পরিবেশবান্ধব, অপরূপ সবুজ, সুন্দর অরণ্য পশ্চিমবঙ্গ গড়ে তুলতে ব্যাপক গাছ লাগাতে হবে। বেশি করে ফলের গাছ দিন। বিশেষ করে নারকেল গাছ। যাতে বজ্রপাতের হার রক্ষা করতে পারে।” শুভেন্দু বলেন, “রাজ্যটা কংক্রিটের জঙ্গলে ভরে গিয়েছে। বিল্ডিং প্ল্যানে সবাই লিখে দিয়েছে যে, টু থার্ড পরিকাঠামো বানাবে। আর ওয়ান থার্ড প্ল্যান্টেশন করবে। আমি আকাশ পথ থেকে দেখলে কষ্ট হয়, ১০ বছর আগে কী ঘন জঞ্জল ছিল। আজ কী অবস্থা হয়েছে? হাসিমারা, চালসার কী হাল? ধ্বংস তো সবই করে দিয়েছেন, আপনারা গাছকেও ছাড়েননি।”
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
‘ই-২০ না পোষালে বেশি দামে খাঁটি পেট্রল কিনুন’, গাড়ি খারাপের অভিযোগ উড়িয়ে বার্তা গড়কড়ির
-
‘নয়া সফরের মানসিক প্রস্তুতি’, ‘বিগ বস’ চর্চা উসকে আচমকা নামবদল প্রসঙ্গে সায়ক
-
পাশে রয়েছেন ‘দাদা’ শুভেন্দু! বারুইপুরের নির্যাতিতার বাবাকে কারাদপ্তরে নিয়োগ
-
মানা হচ্ছে না লোধা আইন! জরুরি সভার আগে সিএবির চিঠির শর্তে রোষ ময়দানে
-
মশার হাত থেকে বাঁচতে ধূপ! শ্বাসযন্ত্রকে ফেলছেন ঝুঁকিতে, নতুন সমীক্ষায় উদ্বেগ