সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: মুখ্যমন্ত্রী ও রাজ্যপালের সাম্প্রতিক সংঘাতকে কেন্দ্র করে এবার সরব হলেন তৃণমূলের মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায়। বুধবার সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি সাফ জানালেন, রাজ্যপাল বিজেপির প্রতিনিধির মতো কাজ করছেন। যেভাবে, যে ভাষায় তিনি মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেছেন, তা অনভিপ্রেত। এর তীব্র প্রতিবাদ করে রাষ্ট্রপতির দ্বারস্থও হয়েছেন তাঁরা।
[ আরএসএসের শাখা হয়ে উঠেছে রাজভবন, বিস্ফোরক অভিযোগ ডেরেকের ]
মঙ্গলবারই সাংবাদিক সম্মেলন করে রাষ্ট্রপতির বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। জানান, সাম্প্রতিক এক পরিস্থিতি নিয়ে রাজ্যপাল তাঁকে ফোন করেন। কিন্তু এমনভাবে কথা বলেন যাতে তাঁর মনে হয়েছে, রাজ্যপাল যেন বিজেপি ব্লক সভাপতির মতো কথা বলছেন। তীব্র অপমানিত হন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এতটাই যে পদ ছাড়ার কথাও ভেবেছিলেন। কিন্তু যেহেতু তিনি জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধি, তাই সেই সিদ্ধান্ত নেওয়া থেকে বিরত থাকেন। তবে রাজ্যপালের এহেন ব্যবহারের জন্য নিজের ক্ষোভ গোপন রাখেননি। এরপরই সন্ধেয় রাজ্যপালের পক্ষ থেকে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে জানানো হয়, এমন কোনও কথা তিনি বলেননি যাতে মুখ্যমন্ত্রী আহত হতে পারেন। আর মুখ্যমন্ত্রী ও রাজ্যপালের সঙ্গে যা কথা হযেছে তা গোপন রাখাই ভাল।
[ সোশ্যাল মিডিয়ার গুজবে কান দেবেন না, আবেদন কলকাতা পুলিশের ]
এই প্রসঙ্গেই বুধবার পার্থ চট্টোপাধ্যায় জানান, রাজ্যপাল এমনভাবে কথা বলেছেন যাতে মনে হয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যেন ওঁর অধীনে কাজ করেন। এর তীব্র প্রতিবাদ করেছে দল। তাঁর অভিযোগ, রাজভবন থেকে ক্রমাগত উসকানি দেওয়া হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীকে বলা হয়েছে, আপনার দলকে সামলান। বিজেপির প্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলার পরই এরকম ফোন করেন রাজ্যপাল। তাঁর প্রশ্ন, শাসকদলের পক্ষ থেকেও বহুবার বহু অভিযোগ জানিয়েছে। কই তা নিয়ে তো রাজ্যপাল মুখ খোলেননি? আইনজ্ঞ রাজ্যপাল সংবিধানের পরিসর ভেঙে কীভাবে এরকম কথা বলতে পারেন, তাতে বিস্মিত পার্থবাবু। তাঁর অভিযোগ, রাজভবন কখনও বিজেপির আস্তানা হতে পারে না।
এ নিয়ে গতকালই রাষ্ট্রপতিকে চিঠি লিখেছেন তাঁরা। প্রতিলিপি পাঠানো হয়েছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের কাছেও। সেখানে জানানো হয়েছে কিছু কিছু দল ক্ষমতালাভের জন্য রাজ্যে অশান্তি বাধানোর চেষ্টা করছে। রাজ্যপালের কাজও সেখানে মদত দিচ্ছে বলেই অভিযোগ পার্থবাবুর। তাঁর সাফ কথা, যেখানে রাজ্যপালের কাজ রাজ্যকে পরমার্শ দেওয়া, সংকট মুক্ত করা সেখানে তিনিই পরোক্ষে হিংসাতে উসকানি দিচ্ছেন। রাজ্যপালের এই ক্যাডারসুলভ আচরণের তীব্র নিন্দা করেন পার্থবাবু। তাহলে কি তৃণমূল রাজ্যপালের অপসারণ চাইছে। পার্থবাবু জানান, এরপরেও যদি রাজ্যপাল অনুতপ্ত না হন তবে কঠোর পদক্ষেপের পথেও এগোতেই পারেন তাঁরা।
সর্বশেষ খবর
-
জার্মানিতে বন্দুকবাজের হানা! মৃত অন্তত ৫, এলাকায় তুমুল আতঙ্ক
-
চাঙ্গা হবে অর্থনীতি, জাপান-হংকংয়ের মতো ভারতেও এবার ভাসমান বিমানবন্দর! তৈরি হচ্ছে কোন রাজ্যে?
-
আগস্টেই অভিন্ন দেওয়ানি বিধি বিল, ‘সংকল্প’ পূরণে বিধানসভায় কমিটি তৈরির ঘোষণা শুভেন্দুর
-
কাটমানি নেওয়ার অভিযোগ, সবংয়ে গ্রেপ্তার মানস ভুঁইয়া ঘনিষ্ট তৃণমূল নেতা!
-
‘কেউ বলছেন আমি তৃণমূল, আরেকজন বলে ওরা ল্যাম্পপোস্ট’, কালীঘাট বনাম ঋতব্রত দ্বন্দ্বে খোঁচা শুভেন্দুর