সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: এরাজ্যের রাজ্যপাল হয়ে আসার পর থেকেই রাজ্য সরকারের সঙ্গে খুঁটিনাটি বিবাদ লেগে আছে জগদীপ ধনকড়ের (Jagdeep Dhankhar)। ইস্যু যাই হোক, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তথা রাজ্য সরকারকে কটাক্ষ করার বা তোপ দাগার কোনও সুযোগই ছাড়েন না রাজ্যপাল। যার সাম্প্রতিকতম উদাহরণ আমফান এবং করোনা। তবে সম্ভবত এই প্রথম রাজ্য সরকারকে আক্রমণের জন্য রাজ্যের শাসক দলেরই দাপুটে এক সাংসদের মন্তব্যকে হাতিয়ার করলেন ধনকড়। সম্প্রতি নদিয়ায় তৃণমূল পরিচালিত পঞ্চায়েতের কাজের ব্যর্থতা নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় খড়গহস্ত হয়েছিলেন কৃষ্ণনগরের সাংসদ মহুয়া মৈত্র (Mahua Moitra)। মহুয়ার সেই মন্তব্যকে হাতিয়ার করেই রাজ্যের পঞ্চায়েত স্তরের দুর্নীতি নিয়ে সরব হলেন রাজ্যপাল।
After being in firing line for letting CORRUPTION CAT out by revealing HYDRA HEADED CORRUPTION in panchayats- now trying to curry favour @MamataOfficial by taking on Governor.
AdvertisementNot the only one in such state of helplessness! Sad and concerned at captivity of these worthy leaders! https://t.co/mL71ogZN5m
— Governor West Bengal Jagdeep Dhankhar (@jdhankhar1) June 13, 2020
নদিয়ার পঞ্চায়েত ব্যবস্থা নিয়ে বিতর্কিত পোস্টের পর শুক্রবার রাজ্যপালকে আক্রমণ করে পৃথক একটি টুইট করেন মহুয়া মৈত্র। যাতে তিনি বলেন,”রাজ্য সরকার যেখানে করোনা, পরিযায়ী শ্রমিক, আমফানের মতো দুর্যোগ একই সঙ্গে সামলাচ্ছে, সেখানে রাজ্যপাল ফের বিজেপির শেখানো বুলি আওড়াচ্ছেন।” মহুয়ার সেই মন্তব্যের প্রেক্ষিতে জগদীপ ধনকড় পালটা টুইট করে দাবি করেন, রাজ্যের পঞ্চায়েত ব্যবস্থার দুর্নীতি নিয়ে সরব হয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রোষের মুখে পড়েছেন মহুয়া। তাই সুনজরে আসতে এখন তাঁকে আক্রমণ করছেন। রাজ্যপালের দাবি, আসলে মহুয়ার মতো ‘যোগ্য’ নেতানেত্রীরা তৃণমূলে অসহায়। তাঁদের ‘বন্দিদশা’ অবাক করার মতো।
[আরও পড়ুন: বাংলার পরিযায়ী শ্রমিকদের সন্তানরা কতজন করোনা আক্রান্ত? রাজ্যের কাছে রিপোর্ট তলব হাই কোর্টের]
টুইটারে রাজ্যপাল বলছেন, “মহুয়া মৈত্র তাঁর নিজের সরকারের বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট লক্ষ্যে ধারাল এবং ঘাতক তির ছুঁড়েছেন। যা আমাদের পঞ্চায়েত ব্যবস্থার দুর্নীতি চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে। ত্রিস্তর পঞ্চায়েতে কাটমানি প্রসঙ্গ আবারও মনে করিয়ে দিয়েছে। আপাদমস্তক চুরি-দুর্নীতিতে ডুবে থাকা পঞ্চায়েতের আসল ছবি প্রকাশ্যে এনে নিজেই বেকায়দায় পড়ে গিয়েছেন মহুয়া। এখন আবার মুখ্যমন্ত্রীর অনুগ্রহ পেতে চাইছেন। আমাকে আক্রমণ কি সেজন্যই? এমন অসহায় অবস্থায় আপনি একা নন, আপনার মতো যোগ্য নেতা-নেত্রীদের বন্দিদশা দেখে অবাক হই।”