Advertisement
Advertisement
Advertisement
Sangbad Pratidin
  • ২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
  • শুক্রবার
  • ৫ জুন ২০২৬
WB Govt

সৌজন্যের আড়ালে কি অন্যরকম বড়সড় তৎপরতা রাজভবনে! কী চান রাজ্যপাল?

রাজভবনে পরামর্শদাতা পরিষদ নিয়োগেরও পরিকল্পনা।

Advertisement
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: ফেব্রুয়ারি ১৪, ২০২৩, ১২:৩১

link
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: ফেব্রুয়ারি ১৪, ২০২৩, ১২:৩১

options
link
সৌজন্যের আড়ালে কি অন্যরকম বড়সড় তৎপরতা রাজভবনে! কী চান রাজ্যপাল? zoom

অপরাজিতা সেন: রাজ্য সরকারের সঙ্গে আপাত সৌজন্যের আড়ালে কি অন্যরকম বড়সড় তৎপরতা চলছে রাজভবনে? দিল্লি থেকে একাধিক সূত্রে যা খবর আসছে, তাতে এর ইঙ্গিত প্রবল। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রদপ্তর সূত্রে খবর, রাজ্য সরকারকে অন্ধকারে রেখে রাজ্যপালের উপদেষ্টা বা পরামর্শদাতা হিসাবে এমন কয়েকজনকে নিয়োগের প্রক্রিয়া চলছে, যা কার্যত সমান্তরাল প্রশাসনের চেহারা নিচ্ছে। জগদীপ ধনকড় যেমন সকাল-সন্ধে টুইট করে সংঘাতে যেতেন, সিভি আনন্দ বোস তা নন। কিন্তু রাজ্য সরকারের সঙ্গে মৌখিক সুসসম্পর্ক রেখেও তিনি সম্ভবত আরও বড় কিছু পদক্ষেপ চালাচ্ছেন, যা চলছে অতি সন্তর্পণে।

দিল্লির সূত্রটি বলছে, কলকাতার রাজভবনে এমন কিছু ব্যক্তিকে পরামর্শদাতা বা এই ধরনের পদে আনা হচ্ছে যা শ্যাডো-অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের নামান্তর। এর মধ্যে নাম আসছে প্রাক্তন সিবিআই (CBI) কর্তা রাকেশ আস্থানার। তামিলনাড়ুতে জয়ললিতার পতনের পর যে আইএএস কার্যত সবটা সামলাতেন, তাঁকেও আনা হচ্ছে। কেরল থেকে একাধিক বিভাগের একাধিক অভিজ্ঞ ব্যক্তিকে আনা হচ্ছে। এই গোটা প্রক্রিয়া করছেন রাজ্যপাল স্বয়ং, দিল্লির অনুমোদনে। এমনকী, রাজভবনের সচিবালয়তেও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা না করার নির্দেশ আছে। এ বিষয়ে যে নামের তালিকা জানা যাচ্ছে, তা যেন এক সমান্তরাল মন্ত্রিসভা। প্রশ্ন হল রাজ্যপাল রাজ্য সরকারকে না জানিয়ে এই ধরনের কোনও পরামর্শদাতা কমিটি বা বোর্ড গঠন করতে পারেন কি না। দিল্লির সূত্র বলছে, এ নিয়ে নির্দিষ্ট কোনও নিয়ম নেই। রাজ্যপাল মনে করলে চাইতেই পারেন। তবে রাজ্যকে জানানো একটা রীতি, যেটা পরে বিষয়টি আরেকটু এগোলেও জানানো যেতে পারে।

Advertisement

প্রশ্ন হল, সরকারের গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলি ধরে ধরে রাজ্যপাল এমন সব অভিজ্ঞ লোক আনতে চান কেন? এটা কি তিনি নিজে করছেন, না কি দিল্লির নির্দিষ্ট কোনও পরিকল্পনার প্রস্তুতি? এই প্রশ্নের কোনও স্পষ্ট উত্তর সূত্রটি দিতে পারেনি। তবে যা হচ্ছে তাতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের অনুমোদন আছে, তাতে সন্দেহ নেই। এই সূত্রটিই আরেকটি তাৎপর্যপূর্ণ তথ্য দিচ্ছে। সেটি হল, অমিত শাহ সরাসরি এই প্রক্রিয়ায় নেই। এক অতি শীর্ষস্থানীয় অফিসার সম্ভবত গোটা বিষয়টি জানেন। এই সূত্রের যা ইঙ্গিত, তাতে বাংলার রাজভবনকে কেন্দ্র করে দিল্লির আগামী দিন বড় পরিকল্পনা আছে। রাজ্য বিজেপির নেতাদেরও তাঁরা সেটা জানাতে চান না। তাহলে জনভিত্তিহীন অযোগ্য নেতারা সবজান্তা ভাব দেখাতে আগাম বড় বড় কথা বলে তাঁদের অঙ্ক চৌপাট করে দেবেন।

[আরও পড়ুন: ‘বীর সেনার আত্মত্যাগ ভোলার নয়’, পুলওয়ামা হামলার স্মৃতিতে টুইট প্রধানমন্ত্রীর]

আবার দিল্লির আরেকটি সূত্র বলছে, রাজ্যপাল নিজেই সব বিষয়ে প্রস্তুত থাকতে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নেওয়ার চেষ্টা করছেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক জানে বটে, কিন্তু এর সঙ্গে দিল্লির মারাত্মক কোনও পরিকল্পনা নাও থাকতে পারে। দিল্লির সূত্রে খবর, এই পরামর্শদাতা পরিষদটি পুরোপুরি কার্যকর করার ক্ষেত্রে গোপনীয়তার একটি পর্বের পর রাজভবনের সচিবালয়ের একটি ভূমিকা নিশ্চিতভাবেই থাকবে। দিল্লির কাছে খবর, রাজ্যপালের এখনকার সচিব নন্দিনী চক্রবর্তী নিয়মবহির্ভূত কোনও প্রক্রিয়ায় সম্মত নাও হতে পারেন। তখন রাজভবনকে বিড়ম্বনায় পড়তে হতে পারে। এই বিষয়টিও শীর্ষমহলকে ভাবিয়েছে।

দিল্লির মহলের বক্তব্য, বাংলার মতো রাজ্যে রাজ্যপাল পাঠানোর ক্ষেত্রে কিছু পরিকল্পনা থাকবেই বিজেপির। ফলে বেশিদিন সৌজন্য দেখিয়ে রাজ্যপালের চলাও মুশকিল। শুভেন্দু অধিকারীরা রাজনীতির ‘র’ না বুঝে আনন্দকে অপমান করে ফেলেছেন। যে কারণে দিল্লির নির্দেশে সুকান্ত মজুমদারকে গিয়ে ক্ষমা চাইতে হয়েছে।

এদিকে আমাদের দিল্লি ব্যুরোর খবর, রাজ্যপাল এদিন উপরাষ্ট্রপতি তথা প্রাক্তন রাজ্যপাল জগদীপ ধনকড়ের সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠক করেছেন। এটিকে সৌজন্য বৈঠক বলা হয়েছে। তবে বিজেপির ভারি ফুর্তি। তারা বলছে জগদীপের কাছে ক্লাস নিতে গিয়েছিলেন আনন্দ। কী কী ভাবে রাজ্য সরকারকে বিপাকে ফেলা যায়, তার প্রশিক্ষণ হয়েছে। তৃণমূল অবশ্য এই তত্ত্বকে উড়িয়ে দিয়েছে। তারা বিষয়টিকে বেশি গুরুত্ব দিতে চায়নি। কলকাতা থেকে স্টাফ রিপোর্টার জানাচ্ছেন, রাজ্যপালের সচিব নন্দিনী চক্রবর্তীকে সরানোর জল্পনা নিয়ে এখনও নিশ্চিত খবর নেই। রাজ্যপালের কোনও বার্তা সংশ্লিষ্ট কেউ এখনও পাননি।

[আরও পড়ুন: ‘যে কোনও অধিনায়কই ওকে দলে নিতে মরিয়া’, ভারতীয় ক্রিকেটারের প্রশংসায় পাক তারকা]

বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রীকে এনিয়ে সাংবাদিকরা প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, ‘‘ওকে কাজ করতে দিন না।’’ অর্থাৎ রাজ্য সরকার রাজ্যপালের সচিবপদে কোনও বদল চায় না, সেটা স্পষ্ট। এই বদল জল্পনার খবরের পর রাজ্যপালও কি এসব চাইবেন, প্রশ্ন ঘুরছে। তৃণমূল বলছে, ‘‘এখনও কোনও খবর নেই। হয় গুজব। না হলে বিজেপির দিল্লি থেকে কোনও রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত, যা জানা যাবে পরে। প্রমাণিত হবে এর পিছনে রাজনীতি আছে।’’ সচিবের নিয়োগ আইনত মুখ্যসচিবের এক্তিয়ার। ফলে সচিব বদল করতে হলেও নিয়মের জটিলতা থাকবে। একটি মহল বলছে, উপর থেকে রাজ্যপালকে খুব চাপ না দেওয়া হলে এ ধরনের তিক্ততা বা সংঘাতের মানুষ তিনি নন। সব মিলিয়ে আবার চর্চার কেন্দ্রে যাচ্ছে রাজভবন।

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Advertisement

Share this article on

The article link is copied.