নব্যেন্দু হাজরা: অফিস টাইমে সন্ধ্যা। এসপ্ল্যানেড থেকে কামারহাটি যাওয়ার জন্য ১০টি ট্যাক্সি ডেকেও সাড়া পাননি সরকারি চাকুরে সুজয় রায়। কারণ ডানলপের জ্যাম পার হতে রাজি নন কেউ। অগত্যা মেট্রো ধরে শ্যামবাজার। সেখান থেকে বাসে কামারহাটি। সময় লেগে গেলে প্রায় সাড়ে তিন ঘণ্টা। ভ্যাপসা গরমে ঘেমে নেয়ে একশা অবস্থা।
[রাম নবমীর মিছিলে হিন্দুদের জন্য সরবতের গ্লাস হাতে এগিয়ে এলেন ইয়াসিররা]
এতো গেল সুজয়বাবুর কথা। তাঁর মতোই অসংখ্য যাত্রীকে নিত্য নাকানি-চোবানি খেতে হয় ডানলপের জ্যামে। শুধু আম আদমি নন। এখানকার যানজটে ফাঁসেননি এমন মন্ত্রী-বিধায়কও পাওয়া দায়। শাসক হোক বা বিরোধী, ডানলপের যানজটের ভোগান্তি নিয়ে একমত সব পক্ষই। তাই সবাই মিলে বিধানসভাতেই বিষয়টি দেখার আবেদন জানান পরিবহণমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে। প্রশাসনিক বৈঠকে সমস্যার কথা উল্লেখ করে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও সমাধানের নির্দেশ দেন। এর পরই যানজটের কারণ খতিয়ে দেখে সমস্যা সমাধানে নতুন পার্কিং প্লাজা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে পরিবহণ দপ্তর। ঠিক হয়েছে, কামারহাটিতে বাস টার্মিনাস-সহ পার্কিং লট তৈরি করা হবে। প্রায় ২০০ কাঠা জমির উপর তৈরি হবে এই টার্মিনাস। কামারহাটি পুরসভার তরফে ইতিমধ্যেই জমি চিহ্নিত করা হয়েছে। সেখানেই গড়ে উঠবে আধুনিক মানের বাস এবং গাড়ি রাখার জায়গা।
এছাড়া টবিন রোড এবং বরানগর পুরসভা এলাকায় রাস্তা পারাপারের জন্য বেশ কয়েকটি ফুট ওভার ব্রিজ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। যাতে রাস্তা পার হতে সাধারণ মানুষের কোনও সমস্যা না হয়। পাশাপাশি ডানলপ থেকে সিঁথির মোড় পর্যন্ত বিভিন্ন মোড়ে রাস্তার দু’ধারে লাইন দিয়ে অটো দাঁড়িয়ে থাকে। এগুলোর অধিকাংশেরই কোনও নির্দিষ্ট রুট নেই। মূল রাস্তার দু’ধারে তাই অটো দাঁড় করানো পুরোপুরি বন্ধ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রাস্তার দু’ধারে সার দিয়ে দাঁড়িয়ে বাস-মিনিবাস। রাত হলে ট্রাক এবং সাধারণ গাড়িও। কোথাও কোথাও এমনভাবে দাঁড় করানো যে গাড়ি যেতে গিয়ে তার গতি কমাতে হচ্ছে। বি টি রোডের ধারে রোজ এই একই চিত্র। সে চিত্রই আগামী দিনে বদলাবে বলে মনে করা হচ্ছে। পরিবহণ দপ্তরের কর্তারা জানাচ্ছেন, এই বেআইনি পার্কিংয়ের কারণেই ডানলপে এই লাগামহীন জ্যাম। আলমবাজারের দিক থেকে ওঠা ফ্লাইওভার দিয়ে কিছু গাড়ি যায় বটে, কিন্তু বাস, ট্রাক এবং অটো ওঠে না। ফলে যেমন যানজট হওয়ার তেমনই হয়। তাই বরানগর, কামারহাটি পুরসভার প্রতিনিধি, কলকাতা পুলিশ, বারাকপুর পুলিশ কমিশনারেট এবং পরিবহণ দপ্তরের কর্তারা নিজেদের মধ্যে একটি বৈঠক করে সমস্যার সমাধানে উদ্যোগী হয়েছে। কামারহাটি পুরসভার চেয়ারম্যান গোপাল সাহা বলেন, “ইতিমধ্যেই আমরা জমি চিহ্নিত করে জানিয়েছি। তার সম্মতিও পাওয়া গিয়েছে। এখানে একটি টার্মিনাস গড়ে উঠবে।”
[পুরুষ অবয়ব ঝেড়ে ফেলে মেঘ এখন আলিপুর আদালতের আইনজীবী]
সর্বশেষ খবর
-
বৃদ্ধের খাবারে ঘুমের ওষুধের কড়া ডোজ, আলমারি ‘সাফ’ করে গায়েব পরিচারিকা!
-
পরিবর্তনের দুর্গোৎসবে শুধু ‘বড়’ নয়, ‘ছোট’দের পুজোর উদ্বোধনেও মুখ্যমন্ত্রী, তৈরি হচ্ছে তালিকা
-
কলকাতায় বিশ্বকাপারদের হ্যাটট্রিক! ব্রাজিল-উরুগুয়ের পর ফের বিদেশি প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে খেলবে ভারত
-
কলকাতার বধূকে চাকরির লোভ দেখিয়ে বাংলাদেশে পাচার! অবশেষে সীমান্ত পেরিয়ে ফিরলেন মধুমিতা
-
৪ নেতাকে সাসপেন্ড, এক্তিয়ার মনে করিয়ে ডায়মন্ড হারবারের সভানেত্রীকে শোকজ করল বিজেপি!