Advertisement
Advertisement
Advertisement
Sangbad Pratidin
  • ২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
  • শুক্রবার
  • ৫ জুন ২০২৬
করোনায় বিয়ে

প্রেমের কাছে হার করোনার, জনা ১২ আত্মীয় নিয়ে রেড জোনেই বিয়ের পিঁড়িতে রাহুল-অঞ্জলি

লকডাউন যতদিন শেষ না হবে, ততদিন কনে যাবেন না শ্বশুরবাড়িতে।

Advertisement
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: মে ১৮, ২০২০, ২২:২২

link
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: মে ১৮, ২০২০, ২২:২২

options
link
প্রেমের কাছে হার করোনার, জনা ১২ আত্মীয় নিয়ে রেড জোনেই বিয়ের পিঁড়িতে রাহুল-অঞ্জলি zoom

অর্ণব আইচ: ভালবাসার কাছে হার মানল করোনা। মিঞা-বিবি যেখানে রাজি, সেখানে করোনা করবে কী? এলাকায় যতই রেড জোন হোক না কেন, লকডাউনের মধ্যেই মধ্য কলকাতার বড়বাজারে করোনাকে জয় করার অঙ্গীকার নিয়েই চার হাত এক হল রাহুল আর অঞ্জলির। বর ও কনেযাত্রী মিলিয়ে ছিলেন সর্বসাকুল্যে জনা বারো।

বছর তিনেক আগে বড়বাজারের শ্যাম শীল লেনের বাসিন্দা রাহুল সিংয়ের সঙ্গে পরিচয় হয় জোড়াবাগানের মণ্ডলপাড়ার অঞ্জলি সোনকারের সঙ্গে। একটি কাপড়ের দোকানে কাজ করেন রাহুল। তখন থেকেই একে অপরকে ভালবেসে ফেলেন। ধীরে ধীরে ঘনিষ্ঠ হন। কাজ সেরে প্রেমিকার সঙ্গে দেখা করতে যেতেন রাহুল। কিন্তু বাদ সাধল করোনা। লকডাউন শুরু হতেই রাহুল আর অঞ্জলি দু’জনেরই বাড়ি থেকে বেরনো বন্ধ। কিন্তু একে অপরকে না দেখেও থাকতে পারছিলেন না। দেখা শুধু ভিডিও কলে। কথা শুধু মোবাইলেই। তাই পরস্পরকে কাছে পেতে লকডাউনের মধ্যেই বিয়ে করার সিদ্ধান্ত নেন।

Advertisement

[আরও পড়ুন: ফেরাল ৩ নার্সিংহোম, কেন্দ্রীয় বাহিনীর কোভিড হাসপাতালে জন্মাল জওয়ানের স্ত্রীর পুত্ৰসন্তান]

নিজেদের পরিবারের লোকেদের বিষয়টি জানান তাঁরা। প্রথমে আঁতকে ওঠে দুই পরিবারই। কারণ, ততদিনে জোড়াবাগান থেকে শুরু করে বড়বাজার, পোস্তার বিভিন্ন অঞ্চলের বাসিন্দা করোনায় আক্রান্ত। প্রত্যেক বাসিন্দাই রয়েছেন আতঙ্কে। কখন কার পরিবারে করোনা থাবা বসায়, কে জানে! এই সময় বাইরে বেরিয়ে বিয়ে দেওয়া মানে রীতিমতো ভয়ের ব্যাপার। কিন্তু অনড় পাত্র-পাত্রী। জানিয়ে দেন, করোনাকে জয় করে বিয়ে তাঁরা করবেনই। তাও লকডাউনের মধ্যেই।

দুই বাড়ির মধ্যে তড়িঘড়ি আলোচনা শুরু হয়। পারিবারিক আত্মীয় পবন সোনকার জানান, সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় পোস্তার শিব ঠাকুর লেনে একটি মন্দিরে বসবে এই বিয়ের আসর। কিন্তু বর ও কনেযাত্রীর সংখ্যা থাকবে অত্যন্ত কম। মানা হবে পারস্পরিক দূরত্ব। সেই অনুযায়ী রবিবার সন্ধেয় জনা সাতেক কনেযাত্রী ও জনা পাঁচেক বরযাত্রী কনে ও বরকে নিয়ে পৌঁছান মন্দিরে। প্রত্যেকে, এমনকী পুরোহিতের মুখেও ছিল মাস্ক। স্যানিটাইজার দিয়ে হাত ধুয়ে শুরু হয় অনুষ্ঠান। যদিও বিয়ে শুরু হতে মাস্ক খুলে নেন বর ও কনে। রাত পর্যন্ত সব নিয়ম মেনেই চলে বিয়ে। চার হাত এক হলে হয় মিষ্টি মুখ। যদিও পরিবারের লোকেরা জানিয়েছেন, পাত্র-পাত্রীর ইচ্ছামতো তাঁরা বিয়ে দিয়েছেন। কিন্তু লকডাউন যতদিন শেষ না হবে, ততদিন কনে যাবেন না শ্বশুরবাড়িতে। লকডাউন শেষে বৌভাতের অনুষ্ঠানের মধ্যে দিয়েই শ্বশুরবাড়িতে পা রাখবেন কনে অঞ্জলি।

[আরও পড়ুন: বাংলায় কমছে করোনা আক্রান্তের মৃত্যুর হার, সংক্রমণের গ্রাফ উর্দ্ধমুখীই]

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Advertisement

Share this article on

The article link is copied.