তরুণ কমরেডদের হলটা কী? কেউ দলের শীর্ষ নেতৃত্বের কার্যকলাপে ক্ষুব্ধ হয়ে দলের সদস্যপদ ছাড়ার চিঠি দিলেন, কারও আবার দলের প্রতি উদাসীনতা এতটাই যে সদস্যপদ পুনর্নবীকরণই করাননি। এ রাজ্যে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচন। সেই কারণে সদস্যপদ রিনিউয়ের সময়সীমা শেষ হয়ে গিয়েছে। এর মধ্যে নিজের সদস্যপদ রিনিউ করাননি সিপিএমের তরুণ নেত্রী দীপ্সিতা ধর। আর তাঁর এই ‘নিষ্ক্রিয়তা’ নতুন জল্পনার জন্ম দিল। তবে কি প্রতীক উর রহমানের পথে হাঁটছেন দীপ্সিতাও (Dipsita Dhar)? এনিয়ে অবশ্য বালির বাসিন্দা সিপিএম যুব নেত্রীর মন্তব্য, ”সবটাই রটনা। সদস্যপদ রিনিউয়েরর জন্য মার্চ মাস পর্যন্ত সময় আছে। কে বা কারা এই রটনা ছড়াচ্ছে, সেটা ভেবে অবাক হচ্ছি।”
সিপিএমের নিয়ম অনুযায়ী, প্রতি বছর ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ মার্চ পর্যন্ত দলের সদস্যপদ রিনিউয়ের সময়সীমা। সাধারণত পার্টি সদস্যরা সকলে এই সময়ের মধ্যেই সদস্যপদ পুনর্নবীকরণের কাজ করে নেন। যদিও এই কাজ হয় ধাপে ধাপে। কোনও সদস্যের রিনিউয়ের আবেদন জেলা স্তরে পাঠানো হয় অনুমোদনের জন্য। কেন্দ্রীয়ভাবে সিপিএমে বিভিন্ন স্তরে সদস্য থাকেন। নিয়ম মেনে গোটা প্রক্রিয়া মিটতে ফেব্রুয়ারি হয়। কিন্তু দলীয় সূত্রে খবর, ফেব্রুয়ারির অর্ধেক পেরিয়ে গেলেও দীপ্সিতা ধর তাঁর সদস্যপদ নবীকরণ করাননি। এদিকে, মার্চের গোড়াতে রাজ্যে ভোট ঘোষণার সম্ভাবনা বেশি। তাই সিপিএমে সদস্যপদ রিনিউয়ের কাজ আপাতত বন্ধ হয়ে গিয়েছে। তবে কি দীপ্সিতা আর সিপিএমের সদস্য হতে চাইছেন না?
আরও পড়ুন:

সিপিএমের নিয়ম অনুযায়ী, প্রতি বছর ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ মার্চ পর্যন্ত দলের সদস্যপদ রিনিউয়ের সময়সীমা। সাধারণত পার্টি সদস্যরা সকলে এই সময়ের মধ্যেই সদস্যপদ পুনর্নবীকরণের কাজ করে নেন।দলীয় সূত্রে খবর, ফেব্রুয়ারির অর্ধেক পেরিয়ে গেলেও দীপ্সিতা ধর তাঁর সদস্যপদ নবীকরণ করাননি।
দীপ্সিতা নিজে এনিয়ে অন্য কথা বলছেন। তিনি দিল্লির জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করাকালীন সিপিএমের সদস্য হন। সেই সূত্রে দিল্লিতে তাঁর সদস্যপদ রিনিউ হওয়ার কথা, এরাজ্যে নয়। তবে কি ৩১ মার্চের মধ্যে নতুন করে সদস্যপদের ফর্মে সই করবেন? তাও নিশ্চিত করেন বলেননি দীপ্সিতা। শুধু জানিয়েছেন, ”এখনও সময় আছে।” এক সংবাদমাধ্যমকে সাক্ষাৎকার দিতে গিয়ে প্রতীক উর রহমানের পাশে দাঁড়াতে দেখা গেল দীপ্সিতাকে। তাঁর মতে, প্রতীক উর কখনও গা বাঁচানোর রাজনীতি করেননি। দলের কার্যকলাপ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন মাত্র।

তবে জেএনইউ-র বামনেত্রীর এহেন ‘লুকোছাপা’ বহু জল্পনা উসকে দিয়েছে। ইদানিং দলের কাজে তাঁকে সক্রিয়ভাবে দেখা যাচ্ছে না। শোনা যাচ্ছে, দল তাঁকে কর্মসূচিতে ডাকছে না। ২০২৪ সালে শ্রীরামপুর লোকসভা কেন্দ্র থেকে সিপিএম প্রার্থী ছিলেন দীপ্সিতা। লড়াই করে হেরেছেন। তারপরও অবশ্য বেশ কিছুকাল তাঁকে বিভিন্ন জায়গায় মিছিল, মিটিং করতে দেখা গিয়েছিল। দীপ্সিতার শক্তি বিতর্কসভায় অতি কম সময়ের মধ্যে তাঁর তীক্ষ্ণ যুক্তিপ্রয়োগে প্রতিপক্ষকে চ্যালেঞ্জ করা। কিন্তু ইদানিং তাঁকে বিতর্ক সভাতেও দেখা যাচ্ছে না। তুলনায় আরেক যুবনেত্রী মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায় অনেক বেশি সক্রিয়। এমনকী দীপ্সিতার এলাকাতেও মীনাক্ষী পরপর কর্মসূচি করছেন। ফলে জল্পনা উসকে উঠেছে, তবে কি অন্য কোনও সিদ্ধান্ত নেবেন তরুণ সিপিএম নেত্রী? প্রতীক উরের ‘বিদ্রোহ’ কি তাঁকেও ভিনপথে ভাবাচ্ছে? এসব প্রশ্নের জবাব সময়ের অপেক্ষা।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
‘তুষ্টিকরণে চাপা পড়েছিল উন্নয়ন’, সনাতনীদের অনুষ্ঠানে বাংলার ইতিহাস স্মরণ শুভেন্দুর
-
মেয়রের ইস্তফার পরেই বিধাননগর পুরনিগমে বসল প্রশাসক, হাওড়া পুরসভাতেও নয়া কমিশনার
-
তোলাবাজির অভিযোগে গ্রেপ্তার তৃণমূল কাউন্সিলর বাপ্পাদিত্য, ‘চোর’ স্লোগান জনতার
-
ঝড়-বৃষ্টি, হড়পা বানে বিপর্যস্ত উত্তরের বিস্তীর্ণ এলাকা, সিকিমে ভূমিধসে মৃত ১, নিখোঁজ ৪
-
বঙ্গে সাংগঠনিক রদবদলের পথে বিজেপি, দিল্লিতে শমীক-বনসল দীর্ঘ বৈঠক
নিবেদিত


