বারবার তাঁর মুখে শোনা গিয়েছিল বাংলা ভাগের দাবি। পাহাড়ি এলাকার উন্নয়নের জন্য উত্তরবঙ্গ আলাদা হওয়া প্রয়োজন বলে বিশ্বাস ছিল তাঁর। বিজেপি সেই আশ্বাস দিলেও কার্যক্ষেত্রে কিছুই করে উঠতে পারেনি। তাই বিজেপির উপর বরাবর ক্ষুব্ধ কার্শিয়াংয়ের ‘বিদ্রোহী’ বিজেপি বিধায়ক বিষ্ণুপ্রসাদ শর্মা (Bishnu Prasad Sharma)। এবার ছাব্বিশের ভোটের (West Bengal Assembly Election) আগে তিনি বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দিলেন। দুপুরে তৃণমূল ভবনে এসে শাসক শিবিরে আনু্ষ্ঠানিকভাবে নাম লেখালেন বিষ্ণুপ্রসাদ শর্মা।
বিজেপির উপর বরাবর ক্ষুব্ধ কার্শিয়াংয়ের ‘বিদ্রোহী’ বিজেপি বিধায়ক বিষ্ণুপ্রসাদ শর্মা এবার ছাব্বিশের ভোটের আগে বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দিলেন। দুপুরে তৃণমূল ভবনে এসে শাসক শিবিরে আনু্ষ্ঠানিকভাবে নাম লেখালেন বিষ্ণুপ্রসাদ শর্মা।
আরও পড়ুন:
বিধানসভা নির্বাচনের (West Bengal Assembly Election) আগে ‘বিদ্রোহী’ বিজেপি বিধায়কের দলবদল নিঃসন্দেহ তাৎপর্যপূর্ণ। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মত, বিষ্ণুপ্রসাদ শর্মার (Bishnu Prasad Sharma) হাত ধরে দার্জিলিং পাহাড়ে নিজেদের ভিত শক্ত করতে তৎপর শাসকদল। ছাব্বিশে সেখান থেকে আরও খানিকটা সমর্থন ঘাসফুল শিবিরের ভোটবাক্সে পড়বে বলে আশা। তবে আরেকাংশের মত, বিষ্ণুপ্রসাদ শর্মার দলবদল মোটেই পাহাড়ে ভোটের উপর তেমন প্রভাব ফেলবে না। সেখানকার নির্বাচনী রাজনীতির অঙ্ক সম্পূর্ণ ভিন্ন। এবার কি তাহলে বিষ্ণুপ্রসাদকে তৃণমূলের পতাকা হাতে লড়তে দেখা যাবে? এই প্রশ্ন উঠছে। এনিয়ে বিজেপির তরফে বিধায়ক শংকর ঘোষ অবশ্য বলেছেন, ‘‘উনি (বিষ্ণুপ্রসাদ শর্মা) তো রাজু বিস্তার বিরুদ্ধে নির্দল প্রার্থী হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন, ৭-৮ হাজার ভোটও পাননি। ওঁর কোনও প্রাসঙ্গিকতা নেই দলে।”

বিষ্ণুপ্রসাদ শর্মার রাজনৈতিক কেরিয়ার খানিকটা এরকম। ২০২১ সালে কার্শিয়াং থেকে গেরুয়া শিবিরের প্রার্থী হয়ে জিতেছিলেন। পরে ধীরে ধীরে বিজেপিতে মোহভঙ্গ হতে থাকে তাঁর। কারণ একটাই। তাঁর দাবিমতো উত্তরবঙ্গকে আলাদা করতে বিজেপি কার্যত হাত বাঁধা। এ ব্যাপারে কোনও কাজই এগোয়নি। আর বিষ্ণুপ্রসাদ বরাবর পৃথক রাজ্যের দাবিতে সোচ্চার ছিলেন। ফলে বিজেপির বিরুদ্ধে তাঁর ক্ষোভ জমা হয়। কখনও কখনও বিধানসভাতেও তিনি নিজের অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। বিধানসভার বাইরে ধরনায় বসেছেন প্রতিবাদ স্বরূপ।

২০২৪ সালের লোকসভা ভোটে দার্জিলিংয়ে ভূমিপুত্র প্রার্থীর দাবিতে বিজেপি ও তৃণমূলের বিরোধিতা করে নিজেই নির্দল প্রার্থী হিসেব্ লড়াই করেছিলেন। যদিও সেই লড়াই ফলপ্রসূ হয়নি একেবারেই। দার্জিলিং থেকে জিতেছেন আগের সাংসদ রাজু বিস্তাই। এবার ছাব্বিশের বিধানসভা ভোটের আগে নিজের রাজনৈতিক কেরিয়ারকে অন্য পথে ঘুরিয়ে দিলেন বিষ্ণুপ্রসাদ। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উন্নয়ন মডেলে আস্থা রেখে তৃণমূলে যোগ দিলেন। ধর্মের রাজনীতি থেকে বিজেপির প্রতিশ্রুতিভঙ্গ – একাধিক ইস্যুতে গেরুয়া শিবিরের উপর ক্ষোভপ্রকাশ করে বললেন, ‘‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উন্নয়ন নীতির অধীনে কাজ করব। দল যে দায়িত্ব দেবে, তা মেনে চলব। আমি গোর্খা ভাইবোনদের দ্বারা নির্বাচিত হয়েও তাঁদের জন্য কাজ করতে পারছি না। বিজেপি কথা দিয়েও কোনও কাজ করেনি। বারবার টর্চ লাইট দেখিয়ে বলেছে সেটাই নাকি সূর্য। ওখানে কোনও কাজ হয়নি।”
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
আজ যন্তর মন্তরে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র সমাবেশ, সতর্ক প্রশাসন
-
আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে টস জিতল ভারত, অভিষেক তরুণ স্পিনারের, কেমন হল প্রথম একাদশ?
-
দিল্লিতে ‘শাহী’ সাক্ষাতে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু, কী নিয়ে কথা হল দু’জনের?
-
১৩ কোটি টাকার দেনা! ঘুরে দাঁড়ানোর লক্ষ্যে মহামেডানের নতুন সভাপতি হুমায়ুন কবির
-
৬ জুন ২০২৬: মীন রাশির আজকের দিন
নিবেদিত


