সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন(CAA) বাতিলের দাবিতে পথে নেমে তৃতীয় দিনে নাগরিকত্বের প্রমাণের নথি নিয়ে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে তোপ দাগলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, “এতদিন তো আপনারা বলছিলেন, কেউ নাগরিকত্ব হারাবে না। কিন্তু এখন আবার বলছেন, আধার-প্যান কোনও কার্ডই নাগরিকত্ব প্রমাণ করতে পারবে না।” এরপরই বিজেপিকে কটাক্ষ করে তাঁর প্রশ্ন, “তাহলে নাগরিকত্ব প্রমাণ করতে কি বিজেপির মাদুলি কাজ করবে?” নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন নিয়ে দেশজুড়ে চলতে থাকা অশান্তি নিয়েও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের বিরুদ্ধে সরব হন মুখ্যমন্ত্রী।
এদিন বেলা ১টার সময় মিছিল হাওড়া ময়দান থেকে শুরু হয়ে বঙ্কিম সেতু, গুলমোহর, হাওড়া ব্রিজ, ব্রেবোর্ন রোড হয়ে টি বোর্ডের সামনে দিয়ে লালবাজার, বেন্টিঙ্ক স্ট্রিট, ধর্মতলার ধরে ডোরিনা ক্রসিং-এ শেষ হয়। টানা প্রায় পাঁচ কিলোমিটার পথ হাঁটেন মুখ্যমন্ত্রী।এদিন মিছিল শেষে তাঁর প্রশ্ন, “এতদিন পর বিজেপি বার্থ সার্টিফিকেট চাইছে কেন? ঝুলি থেকে বিড়াল বের হল তাহলে?” কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে নিশানা করে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “আপনি শুধুমাত্র বিজেপি নেতা নন। দেশের মন্ত্রীও বটে। আপনার কাজ দেশে আগুন লাগানো নয়, আগুন নেভানো।” বিজেপির সবকা সা, সবকা বিকাশ স্লোগানকে কটাক্ষ করে তৃণমূল নেত্রীর দাবি, “আপনাদের লক্ষ্য সকলের উন্নয়ন নয়, সকলের সর্বনাশ করা।” এদিন আরও একবার হুঁশিয়ারি দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী জানিয়ে দিলেন, “যতদিন না এই আইন বাতিল করা হচ্ছে, ততদিন তিনি রাস্তায় থাকবেন। দেশের মানুষের মৌলিক অধিকার খর্ব করার এই আইন কিছুতেই লাগু করতে দেওয়া হবে না।”
[আরও পড়ুন : ‘আমরা সবাই নাগরিক, NRC হবে না’, প্রতিবাদী মিছিলেই CAA বিরোধী গান বাঁধলেন ইন্দ্রনীল]
এদিনের মিছিলে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে পা মেলান হাজার হাজার সাধারণ মানুষ। এদিনও শুরুতেই মুখ্যমন্ত্রী সমস্ত মানুষকে শপথবাক্য পাঠ করান। সঙ্গে জোর গলায় জানিয়ে দেন, এরাজ্যে এনআরসি হবে না, জনবিরোধী এই আইন বাতিল করতে হবে। বাংলাকে ভাগ হতে দেওয়া হবে না। সকল দলীয় কর্মীদের শান্তিপূর্ণভাবেই আন্দোলনে থাকার পরামর্শ দেন তিনি। তৃণমূলনেত্রীকে দেখতে রাস্তার দু’ধারে হাজার হাজার মানুষ ভিড় করেন। রাস্তার দু’ধারে ব্যারিকেড থাকলেও মানুষের ভিড় সামাল দিতে কার্যত হিমশিম খেতে হয়েছে পুলিশকে। এই আইন বাতিলের দাবিতে এদিনও সরব হন মুখ্যমন্ত্রী।
[আরও পড়ুন : সাবালক ঘোষণার দাবিতে গণধর্ষণে অভিযুক্ত নাবালকের মনস্তাত্ত্বিক পরীক্ষা, রিপোর্ট পেল পুলিশ]
তিনি পরিষ্কারভাবে জানিয়ে দেন, যে আইন মানুষের স্বার্থে আঘাত করে, তা তিনি মানবেন না। তাই তাঁর এই পথে নামা। তবে কোনওরকম অশান্তি নয়। শান্তিপূর্ণ আন্দোলনেই তিনি আস্থা রাখতে বলেছেন। মিছিলের শুরুতেই তাঁর সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে সেকথা বুঝিয়ে দেন তিনি। তৃণমূল নেত্রী ছাড়াও এই মিছিলে রাজ্যের মন্ত্রী ও তৃণমূল নেতা—নেত্রীরা যোগ দেন। জানা গিয়েছে, আজকের মিছিলেনর পর বৃহস্পতিব এবং শুক্রবার জোড়া প্রতিবাদসভা করবেন মুখ্যমন্ত্রী। আগামীকাল ১৯ ডিসেম্বর রানি রাসমনি রোড এবং পরেরদিন পার্ক সার্কাস ময়দানে সভা করবেন মুখ্যমন্ত্রী। তাছাড়াও আরও একাধিক কর্মসূচী নেওয়া হবে। সেই কর্মসূচীর কথা সেখান থেকেই ঘোষণা হবে।
সর্বশেষ খবর
-
‘ভারত থেকে অনেক কামাচ্ছি’, নতুন শুল্ক ঘোষণার পরই ‘প্রিয় বন্ধু’ মোদির প্রশংসায় ট্রাম্প
-
‘উচ্চতর মেধাকে নিম্ন পদে নয়’, উচ্চশিক্ষা গোপন করা নিয়ে ক্ষুব্ধ সুপ্রিম কোর্ট
-
ইন্ডিয়া জোটের বৈঠকের দিনই তৃণমূলের সাংসদ ভাঙন? জল্পনায় আরও চাপে কালীঘাট!
-
‘সিনেমাতেই মনোযোগ দিতে চাই’, ‘ফুলপিসি’তে বিনির চরিত্রে প্রশংসিত হতেই ভবিষ্যৎ ভাবনা শ্যামৌপ্তির
-
৫ জুন ২০২৬: মীন রাশির আজকের দিন