BREAKING NEWS

৪ আশ্বিন  ১৪২৭  মঙ্গলবার ২২ সেপ্টেম্বর ২০২০ 

Advertisement

রাত পোহালেই বাংলার রায়, গণনা কেন্দ্রে বজ্রআঁটুনি

Published by: Sangbad Pratidin Digital |    Posted: May 18, 2016 3:54 pm|    Updated: May 18, 2016 4:52 pm

An Images

স্টাফ রিপোর্টার: রাত পোহালেই বাংলার রায়৷ সমীক্ষার পূর্বাভাস গিয়েছে প্রত্যাবর্তনের পক্ষে৷ বিরোধীরা অবশ্য মানতে নারাজ৷ তারা এখনও ‘পরিবর্তন’-এর ক্ষীণ আশা জিইয়ে রেখেছে মনে৷ কে বসবে মসনদে, কালই স্পষ্ট হয়ে যাবে৷

বৃহস্পতিবার সকাল আটটা থেকে গণনা শুরু৷ ৯০টি গণনাকেন্দ্র৷ প্রতিটি কেন্দ্রই ত্রিস্তরীয় নিরাপত্তা বলয়ে মোড়া থাকবে৷  ভোটগ্রহণ পর্ব মেটার পর ২৯৪টি কেন্দ্রের প্রার্থীদের ভবিষ্যত্‍ এতদিন ৩০০টি স্ট্রংরুমে বন্দি ছিল৷ স্ট্রং-রুমগুলির দায়িত্বে রয়েছে ৭৮ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী৷ এই বাহিনীই গণনাকেন্দ্রের ভিতরকার নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকছে৷ সব ঠিক থাকলে, দুপুর ১২টার মধ্যেই ২৯৪টি বিধানসভা কেন্দ্রের ফলাফল স্পষ্ট হয়ে যাবে৷
এদিকে ভোটের ফলপ্রকাশ নিয়ে উত্তেজনার পারদ ক্রমশই চড়ছে৷ বাস-ট্রাম-ট্রেন, বাজার, অফিস–সর্বত্রই ভেটের ফল নিয়ে আলোচনা৷ অনেকেই কাল অফিস ছুটি নিয়ে সকাল থেকে টিভির সামনে বসে থাকবেন৷ কেউ আবার পেটপুজোর ব্যবস্থা করে রেখেছেন৷ খেতে খেতে হবে ফল-বিশ্লেষণ৷ ‘স্বঘোষিত’ রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলে উঠবেন, ‘আমি বলেছিলাম না…৷”

ভোটের ফল নিয়ে অন্ধকার জগতেও ফাটকা শুরু হয়েছে৷ চলছে বেটিং৷ এখানেও পাল্লা ভারী তৃণমূল কংগ্রেসের৷ রাজনৈতিক দলগুলিও চূড়ান্ত প্রস্তুতি সেরেছে৷ মিষ্টি, আবির, মাইক, ঢাক, তাসা পার্টি৷ কেউ আবার পেশাদার অ্যারেঞ্জারকে দিয়ে ‘চড়াম চড়াম’ থিম সংগীত বাঁধিয়েছেন৷ এক্সিট পোল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ফের মসনদে বসার ব্যাপারেই পূর্বাভাস দিয়েছে৷ তৃণমূলের জন্য সুখবর, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে ওঠা নির্বাচনী বিধিভঙ্গের অভিযোগ খারিজ করেছে কমিশন৷ ‘ক্লিনচিট’ দিয়েছে মুখ্যমন্ত্রীকে৷

এদিকে, গণনার প্রহর যত এগোচ্ছে ততই সিপিএম নেতাদের বডি ল্যাঙ্গুয়েজ বদলে যাচ্ছে৷ জোটপন্থীদের চোখে-মুখে হতাশার ছাপ৷ এক সময় জোটের ডবল সেঞ্চুরির কথাও শুনিয়েছিলেন৷ সেই অবস্থান থেকে সরে এসে সূর্যকান্ত মিশ্রকে সম্প্রতি বলতে শোনা গিয়েছে, “নিছক ক্ষমতায় আসার জন্য লড়াই করছি না৷ সরকার বদলাক না বদলাক, ময়দানে থাকতে হবে৷”

জোটের সাফল্য নিয়ে সন্দিহান সঙ্গী কংগ্রেসও৷ জোট মুখ থুবড়ে পড়লে কে নেবে দায়? আলিমুদ্দিনের পাশাপাশি বিধানভবনেও শুরু হয়েছে চুলচেরা বিশ্লেষণ৷ এই পরিস্থিতিতে গণনার পর অন্তত দু’সপ্তাহ রাজ্যে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন রাখার আর্জি জানিয়েছে বিরোধীরা৷ রাজনৈতিক মহলের ব্যাখ্যা, হারের আশঙ্কা করেই সদস্য-সমর্থকদের সুরক্ষিত করতে চাইছে সিপিএম৷ কমিশন অবশ্য ফলপ্রকাশের দিন হিংসা রুখতে কলকাতার ২৩৩টি জায়গায় পুলিশ পিকেট বসিয়েছে৷ বাড়ানো হয়েছে নিরাপত্তা৷ জোটপন্থীদের একাংশ এখনই হাল ছাড়তে নারাজ৷ তারা ইভিএমের দিকে তাকিয়ে এখনও পরিবর্তনের আশায় বুক বেধে রয়েছেন৷ কে জানে ইভিএমে বন্দি হয়ে রয়েছে ফলাফলের কোন অঙ্ক!

গণনা কেন্দ্রগুলিতে নজরদারির জন্য থাকবেন সাধারণ ও অতিরিক্ত পর্যবেক্ষকরা৷ এছাড়াও প্রতিটি কেন্দ্র পিছু থাকবেন একাধিক মাইক্রো অবজারভার৷ গণনার ভিডিও রেকর্ডিংও হবে৷ গণনাকেন্দ্রের প্রতিটি টেবিলে থাকবেন একজন অ্যাসিস্ট্যান্ট ইলেকটোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসার৷ গোটা গণনা প্রক্রিয়া ভিডিওগ্রাফি করারও নির্দেশ রয়েছে কমিশনের৷

গণনাকেন্দ্রের মধ্যে কারা থাকতে পারবেন, সে বিষয়ে একাধিক বিধিনিষেধ জারি করেছে কমিশন৷ সূত্রের খবর, প্রতি রাউন্ড গণনা হওয়ার পরই নিজস্ব সফটওয়্যারের মাধ্যমে তা আপডেট হবে কমিশনে৷ এই পদ্ধতিতে মুহূর্তে ফলাফলের ট্রেন্ড জানা যাবে৷

একটি কেন্দ্রে প্রার্থী, গণনা এজেন্ট, কাউন্টিং সুপার ভাইজার, মাইক্রো অবজারভার ও কমিশন অনুমোদিত পরিচয়পত্র ব্যতীত কোনও ব্যক্তির গণনা কেন্দ্রে প্রবেশের ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে৷ নিরাপত্তারক্ষী নিয়ে কোনও প্রার্থী গণনা কেন্দ্রে প্রবেশ করতে পারবেন না৷ তবে কোনও প্রার্থী যদি এসপিজি সুরক্ষার আওতায় থেকে থাকেন, সেক্ষেত্রে তিনি সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তারক্ষী-সহ গণনা কেন্দ্রে প্রবেশ করতে পারবেন৷ সেক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তারক্ষীকে সাধারণ পোশাকে আগ্নেয়াস্ত্র গোপন রেখে গণনা কেন্দ্রে প্রবেশ করতে হবে৷ অবজারভাররা ছাড়া গণনা কেন্দ্রের মধ্যে কেউ মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে পারবেন না৷ এদিকে, আবহাওয়ার মতিগতি নিয়ে চিন্তায় পড়েছে কমিশন৷

একনজরে সুরক্ষা বিধি-

২৯৪টি আসন৷ ৯০টি গণনাকেন্দ্র৷ গণনা শুরু সকাল ৮ টায়৷
ইভিএম এখন ৩০০টি স্ট্রংরুমে বন্দি৷ দায়িত্বে ৭৮ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী৷
প্রতি রাউন্ড গণনা শেষে নিজস্ব সফটওয়্যারের মাধ্যমে আপডেট হবে কমিশনে৷
গণনা কেন্দ্রগুলিতে নজরদারির দায়িত্বে সাধারণ ও অতিরিক্ত পর্যবেক্ষক৷
প্রতিটি টেবিলে থাকবেন মাইক্রো অবজারভার ও একজন অফিসার৷
গণনা প্রক্রিয়া ভিডিওগ্রাফি করারও নির্দেশ রয়েছে কমিশনের৷
কলকাতার ন’টি গণনাকেন্দ্রের নিরাপত্তায় ১৪ জন ডিসি ও কেন্দ্রীয় বাহিনী৷
হিংসা রুখতে শহরের ২৩৩টি জায়গায় পুলিশ পিকেট বসানো হয়েছে৷
গণনা এজেন্ট, কাউন্টিং সুপার ভাইজার, মাইক্রো অবজারভার ও কমিশন অনুমোদিত পরিচয়পত্র ব্যতীত কোনও ব্যক্তির গণনা কেন্দ্রে প্রবেশ নিষেধ৷
নিরাপত্তারক্ষী নিয়ে প্রার্থী গণনা কেন্দ্রে প্রবেশ করতে পারবেন না৷ ৬০০ মিটার দূরে গাড়ি থেকে নেমে হেঁটে ঢুকতে হবে প্রার্থী ও কাউন্টিং এজেন্টদের৷

Advertisement

Advertisement

Advertisement

Advertisement

Advertisement