অর্ণব আইচ: মহিলার ফোন বেজে যাচ্ছিল। পরিচিত কেউ তাঁকে ফোনে পাচ্ছিলেন না। তখনও কিছু বুঝতে পারেননি তিনি। হঠাৎই জানতে পারলেন, তাঁর ব্যাংক থেকে উধাও হয়ে গিয়েছে ৭০ হাজার টাকা। এ ছাড়াও তাঁর নামে একটি ঋণদাতা সংস্থার অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করেও কেনা হয়েছে ১ লক্ষ ১৬ হাজার টাকার সামগ্রী। এই বিষয়ে নেতাজিনগর থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। এই বিষয়ে তদন্ত শুরু করেছেন লালবাজারের গোয়েন্দারাও।
[ অন্তর্বাসের ভিতর ৪ লক্ষ টাকার জাল নোট, ময়দান চত্বর থেকে পাকড়াও পাচারকারী ]
নেতাজিনগরের বাসিন্দা ওই মহিলা শুধু তাঁর মোবাইলের কয়েকটি বাটন টিপেছিলেন মাত্র। তার পরই এই বিপত্তি। আধার সংযোগ করানোর নাম করে মোবাইল ব্যবহারকারীদের ফাঁদে ফেলছে প্রতারক তথা ‘হ্যাকার’রা। এরপর মোবাইল ‘হ্যাক’ করে তাঁর ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে উধাও করে দিচ্ছে পুরো টাকা। লালবাজারের গোয়েন্দাদের মতে, এভাবেই ‘সিম সোয়াপিং’ করছে প্রতারকরা। এটিএম জালিয়াতির পর এবার আধার লিংক করানোর নাম করেই চলছে ‘সিম সোয়াপিং’। এই বিষয়ে শহরবাসীকে সতর্ক করে লালবাজারের গোয়েন্দারা জানিয়েছেন, কোনও মোবাইল সংস্থার নাম করে আধার লিংক করতে বললে কেউ যেন সেই ফোনে সাড়া না দেন। কারণ, মোবাইলে আধার সংযোগ করা বাধ্যতামূলক নয়। এই বিষয়ে একটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক বিভিন্ন জায়গায় নোটিস দিয়ে গ্রাহকদের সতর্কও করেছে।
[ বাঁশদ্রোণীতে গৃহবধূর অস্বাভাবিক মৃত্যু, স্বামীকে আটক করল পুলিশ ]
পুলিশ জানিয়েছে, তানিয়া ভট্টাচার্য নামে রিজেন্ট এস্টেটের গান্ধী কলোনির বাসিন্দার কাছে কয়েকদিন আগে একটি মোবাইল সংস্থার আধিকারিক পরিচয় দিয়ে এক ব্যক্তি ফোন করে। সে বলে, তাঁর ফোনের সঙ্গে আধার সংযোগ করা নেই। আধার সংযোগ যদি না করা হয়, তাঁর মোবাইল নম্বরটি লক করে দেওয়া হবে বলে জানানো হয়। এই অবস্থা থেকে বাঁচতে প্রথমে তাঁকে ১২১ নম্বরে কাস্টমার কেয়ারে মেসেজ করতে বলা হয়। কয়েক মিনিট পর তাঁকে ফোন করে ওই ব্যক্তি বলে, তাঁকে একটি মেসেজ পাঠানো হচ্ছে। ওই মেসেজের পিছনে শুধু ‘১’ বাটন টিপলেই আধার সংযোগ হয়ে যাবে বলে তাঁকে জানানো হয়। কিন্তু তিনি ‘১’ বাটন টেপা মাত্রই তাঁর মোবাইল ফোন হ্যাক হয়ে যায়।
[ হাতিয়ার স্থূল শরীর, মহিলা চোরের কারসাজিতে নিঃস্ব রেলযাত্রীরা ]
এই বিষয়ে তানিয়া ভট্টাচার্য জানান, তাঁর কাছে কারও ফোন আসছিল না। এতে তাঁর সন্দেহও হয়। তিনি তাঁর স্বামীকে বিষয়টি জানান। স্বামী ওই মোবাইল সংস্থায় কাজ করেন। তিনিই খবর নিয়ে জানতে পারেন, যে নম্বরটি থেকে ফোনটি এসেছিল, তার ব্যবহারকারীর আসল পরিচয় সন্দেহজনক। এর পরই মহিলা ব্যাংক থেকে জানতে পারেন যে, তাঁর অ্যাকাউন্ট থেকে উধাও হয়েছে ৭০ হাজার ৪৭৯ টাকা। একটি ঋণদাতা সংস্থার মাধ্যমে তানিয়া ভট্টাচার্য বহুদিন আগে একটি জিনিস কিনেছিলেন। সেই সূত্র ধরেই তাঁর পুরনো অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে হ্যাকাররা ২ লাখ টাকার জিনিস কেনার চেষ্টা করে। যদিও শেষ পর্যন্ত ১ লাখ ১৬ হাজার টাকার জিনিস কিনতে পারে হ্যাকাররা। তানিয়া জানান, তাঁর মোবাইল হ্যাক হওয়ার পর তাঁকে যাঁরা ফোন করছিলেন, তাঁরা দেখেন রিং বেজেই চলেছে ফোনের। গোয়েন্দা পুলিশের মতে, ‘সিম সোয়াপিং’ পদ্ধতিতে প্রতারকরা মোবাইলের তথ্য হ্যাক করেই ব্যাংক থেকে টাকা তুলে নেয়। এই হ্যাকারদের সন্ধান চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
সর্বশেষ খবর
-
সিপিএম-আরএসপি দ্বন্দ্ব চরমে! চূড়ান্ত হলো না দুই কেন্দ্রে উপনির্বাচনের প্রার্থী
-
‘নিখোঁজ’ বিডিও কীভাবে পাচ্ছেন বেতন? প্রশান্ত বর্মনের মামলায় সিআইডিকে ‘ভর্ৎসনা’ হাই কোর্টের
-
তসলিমার বক্তৃতা নিয়ে প্রশ্ন স্কুলের পরীক্ষায়! ‘লেখাকে অত সহজে নির্বাসিত করা যায় না’, খোঁচা লেখিকার
-
মণ্ডপের বদলে এবার গঙ্গাতেই প্রতিমা নিরঞ্জন, বিতর্ক কাটিয়ে এবার থিমে কোন চমক দেবে টালা প্রত্যয়?
-
শেফালির ঝড়, দীপ্তির দুরন্ত ঘূর্ণি! বাংলাদেশকে উড়িয়ে ১০ এশিয়া কাপের ১০ আসরেই ফাইনালে ভারত