অর্ণব আইচ: মাসখানেকের মধ্যেই কলকাতার লেদার কমপ্লেক্স থানা এলাকায় তরুণীর খুনের ঘটনার কিনারা করল পুলিশ। নিহত তরুণীর স্বামীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশ সূত্রে খবর, জেরায় খুনের কথা স্বীকার করে নেয় ধৃত। একাধিক পুরুষের সঙ্গে পরকীয়া সম্পর্ক ছিল ওই তরুণীর। তা জানতে পারার পরই স্ত্রীকে খুন বলেই জানিয়েছে সে।
চলতি মাসের ২ ডিসেম্বর লেদার কমপ্লেক্স থানা এলাকায় নির্মীয়মাণ বহুতল থেকে তরুণীর দেহ উদ্ধার হয়। তরুণীকে খুন করা হয়েছে, দেহ উদ্ধারের সময় সে ব্যাপারে নিশ্চিত ছিলেন তদন্তকারীরা। তদন্ত শুরু করে পুলিশ। ডিসি ইস্ট গৌরব লাল জানান, তদন্তের শুরুতেই ওই এলাকায় প্রবেশের প্রত্যেকটি সিসিটিভির ফুটেজ খতিয়ে দেখা হয়। এক নম্বর গেটের কাছের সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, ২৯ নভেম্বর বিকেলে মোবাইল কানে নিয়ে হাঁটছেন এক তরুণী। ওই তরুণী এবং নিহত একই রংয়ের সালোয়ার পরে রয়েছেন। তাই পুলিশের তরফে তাঁকে চিহ্নিত করা সহজ হয়ে যায়। নিহত ওই তরুণীর পরিচয় জানা গেলেও, খুনের কারণ তখনও অধরাই ছিল। পুলিশ এরপর টাওয়ার ডাম্পিং পদ্ধতির সাহায্য নেয়। ওই এলাকার যেকোনও নেটওয়ার্কে যতগুলি ফোন এসেছে তা খতিয়ে দেখা হয়। প্রায় ১৫০০টি ফোন নম্বরের মধ্যে ওই তরুণীর নম্বর চিহ্নিত করা হয়।
[আরও পড়ুন: ভালবাসার স্বীকৃতি! পরিবারের সম্মতি নিয়েই প্রেমিককে বিয়ে কলকাতার সমকামী যুবকের]
পুলিশ জানতে পারে, নিহত অনিতা হাওলাদার, দক্ষিণ ২৪ পরগনার জীবনতলার বাসিন্দা। রাজু লস্কর নামে এক ব্যক্তির সঙ্গে বিয়ে হয়েছিল তাঁর। দু’জনে একসঙ্গে লেদার কমপ্লেক্স থানা এলাকায় একটি লেদার কারখানায় কাজ করতেন। তবে দিনকয়েক ধরে স্বামীর সঙ্গে সম্পর্ক ভাল ছিল না অনিতার। রাজুর সঙ্গে আলাদা থাকছিলেন দু’জনে। বর্তমানে বাগুইআটিতে একাই থাকতেন তরুণী।
এই তথ্য হাতে আসার পর রাজুর সঙ্গে কথা বলে পুলিশ। তার কথাবার্তায় একাধিক অসঙ্গতি ধরা পড়ে। এরপর মঙ্গলবার পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। পুলিশ সূত্রে খবর, জেরায় খুনের কথা স্বীকার করে নেয় রাজু। কী কারণে খুন করেছে, সেকথাও জানায় সে। পুলিশের দাবি, রাজু জানায় স্ত্রীর সঙ্গে কমপক্ষে সাতজন পুরুষের বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্ক ছিল। প্রথমে কিছুই বুঝতেন না। একদিন ফোনে কথা বলার সময় বুঝতে পারেন কোনও পুরুষের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ অবস্থায় রয়েছেন স্ত্রী। তারপর থেকেই সম্পর্কের অবনতি হয়। ঝগড়াঝাটি হয়। গত ২৯ নভেম্বর স্ত্রীকে দেখা করার কথা বলে রাজু। লেদার কমপ্লেক্স থানা এলাকায় একটি নির্জন স্থানে নিয়ে যাওয়া হয় তাঁকে। অডিও রেকর্ডিং শোনায় রাজু। দাম্পত্য অশান্তি চরমে পৌঁছয়। মাথার ঠিক রাখতে পারেনি রাজু। স্ত্রীর গলায় ওড়নার ফাঁস দিয়ে অনিতাকে খুন করে রাজু। এরপর সেখানে তরুণীর দেহ ফেলে রেখে পালিয়ে যায় সে। ঘটনার তদন্তে নেমে প্রায় মাসখানেকের মধ্যেই হত্যা কাণ্ডের কিনারা করল পুলিশ।
[আরও পড়ুন: বাসর রাত কাটিয়েই নতুন বউকে তালাক দিল বর! কী এমন ঘটল?]
সর্বশেষ খবর
-
‘বিয়ে করতে জেলে যাচ্ছি’, টোপর পরিয়ে ‘জামাই আদর’, তৃণমূল কাউন্সিলরকে ঘিরে জনরোষ!
-
বাড়বে স্ক্রিনের সংখ্যা! ভারতীয় সিনে ইন্ডাস্ট্রির উন্নতিতে একগুচ্ছ ঘোষণা কেন্দ্রের
-
বাংলার ভাষাবিদের ইতালি জয়, সাঁওতালি ভাষা ও সাহিত্যে প্রথম ভারতীয় হিসাবে আন্তর্জাতিক পুরস্কার!
-
২ তৃণমূল কাউন্সিলর গ্রেপ্তার হতেই পদত্যাগের ঢল! ডামাডোম পানিহাটি পুরসভায়
-
একাধিক বিয়ে, পরকীয়ার ‘নেশা’, ক্ষোভে স্বামীর পুরুষাঙ্গ কাটলেন স্ত্রী!