দীপঙ্কর মণ্ডল: অনৈতিক দাবিতে ছাত্র বিক্ষোভের কাছে কখনই নতিস্বীকার করা হবে না বলে সাফ জানিয়ে দিলেন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়৷ তবে, পড়ুয়াদের সমস্যা সমাধানে যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়ারও আশ্বাস দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী৷ হাজিরা না থাকলেও পরীক্ষায় বসার দাবিতে কলেজে কলেজে অশান্তি রুখতে আজ, অধ্যক্ষ ও ছাত্রনেতাদের বাড়িতে ডেকে বৈঠকে বসেন পার্থ চট্টোপাধ্যায়৷ অধ্যক্ষ ও ছাত্রনেতাদের মতামতা নেন৷ তবে, আবশ্যিক ন্যূনতম হাজিরা না থাকলে পরীক্ষায় বসতে দেওয়ার নিয়মে কোনওরকম স্থিতিশীলতা আনা হবে না বলেও সাফ জানিয়ে দেন তিনি৷
[সামান্য গুটখার জন্য গুলি! ৭ বছরের জেল যুবকের]
জানা গিয়েছে, কলেজে উপস্থিতির হার কম থাকা ছাত্র-ছাত্রীদের ছাড় দেওয়ার অনুরোধ জানিয়ে শিক্ষামন্ত্রীর কাছে প্রস্তাব দেন তৃণমূল ছাত্র পরিষদের নয়া রাজ্য সভাপতি তৃণাঙ্কুর ভট্টাচার্য৷ কিন্তু, পত্রপাঠ অনুরোধ খারিজ করে দেন শিক্ষামন্ত্রী৷ সাফ জানিয়ে দেন, ন্যূনতম উপস্থিতি না থাকলে কখনওই পরীক্ষায় বসতে দেওয়া হবে না৷ তবে, ছাত্রছাত্রীদের অভিযোগ বিবেচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি৷ ইউজিসি ৭৫-শতাংশ উপস্থিতির হার ঠিক করলেও রাজ্য সরকার তা ৬০ শতাংশে বেঁধে রেখেছে। তারপরও কেন এমন হচ্ছে তা খতিয়ে দেখা হবে বলেও জানান৷ কলেজে কলেজে ছাত্র বিক্ষোভ রুখতে কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি৷ হেরম্বচন্দ্র কলেজের অধ্যক্ষের সঙ্গেও দীর্ঘক্ষণ কথা বলেন৷ সমস্যা মেটাতে কী করণীয়, তা নিয়েও দীর্ঘ আলোচনা হয় এদিন৷
ঘটনা হল, চলতি বছরে স্নাতকে সিবিসিএস (চয়েস বেসড ক্রেডিট সিস্টেম) চালু হয়েছে। এই প্রক্রিয়ায় বছরে দু’বার সেমেস্টার পরীক্ষা হয়। পরীক্ষায় বসতে হলে ন্যূনতম ৬০ শতাংশ উপস্থিতি থাকতে হয়। যাঁরা এদিন আন্দোলন করেছেন, তাঁদের এই ন্যূনতম উপস্থিতি নেই। বস্তুত চলতি পরীক্ষার মরশুমের গোড়া থেকেই হাজিরা-বিক্ষোভে বিভিন্ন কলেজে বিতর্ক দানা বেঁধেছে। কোথাও ছাত্র সংসদ সদস্যদের বিরুদ্ধে টাকা নিয়ে উপস্থিতির হার বাড়িয়ে দেওয়া, কোথাও আবার কলেজ কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে হাজিরা খাতায় গরমিলের অভিযোগ।
[আইসিএসই-আইএসসিতে শুরু হচ্ছে কম্পার্টমেন্টাল পদ্ধতি, সিদ্ধান্ত বোর্ডের]
কলেজে কলেজে চলতে থাকা ছাত্র বিক্ষোভ রুখতে শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় আজ, কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও শহরের কয়েকজন কলেজ অধ্যক্ষর সঙ্গে বৈঠক করেন। তিনি জানিয়েছেন, উপস্থিতি নিয়ে কোনও বেনিয়ম বরদাস্ত করা হবে না। দক্ষিণ কলকাতার হেরম্বচন্দ্র (সাউথ সিটি) থেকে শুরু করে মধ্য কলকাতার মানিকতলা, এমনকী কলেজ স্ট্রিটে খাস কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনেও এদিন অন্যায্য আবদারের জুলুম চোখ রাঙিয়েছে। যার সীমা সবচেয়ে বেশি ছাড়িয়েছে গোলপার্কের হেরম্বচন্দ্র কলেজে। পরীক্ষায় বসতে দিতে হবে, এই দাবিতে হাজিরায় পিছিয়ে থাকা ছাত্রছাত্রীরা শুক্রবার ভরদুপুরে গড়িয়াহাট রোড আটকে বসে পড়েন। কলেজ সূত্রের খবর, হেরম্বচন্দ্রের প্রথম বর্ষে ৭০০ পড়ুয়ার মধ্যে ৪৩০ জনের ৬০ শতাংশ হাজিরা নেই। স্বাভাবিকভাবেই পরীক্ষায় তাঁরা বসার ছাড়পত্র পাননি। নিষেধাজ্ঞা বাতিলের জন্য গত তিনদিন ধরে কলেজের ভিতরে বিক্ষোভ চলছিল৷ শনিবার সকালেও নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে সাউথ সিটি গ্রুপের শিবনাথ শাস্ত্রী কলেজে৷
সর্বশেষ খবর
-
‘বন্ধ হওয়া সিঙ্গল স্ক্রিনগুলি খুলুক’, বাংলা সিনেমার স্বার্থে বিজেপি সরকারকে আর্জি যিশুর
-
দাউদাউ আগুনে জ্বলে উঠল বৃদ্ধাশ্রম, মৃত্যু ১১ জনের!
-
কলকাতা বন্দরে দেশবিরোধীদের মদত তৃণমূল মাফিয়াদের! গোয়েন্দা নজরদারির পথে রাজ্য সরকার
-
পুরনো ফোন বিক্রি করলে তথ্য বেহাত হবে না তো? এই সহজ পদ্ধতিতে থাকুন নিরাপদ
-
পরিবহণ বিপ্লব শুভেন্দুর, কলকাতায় প্রথম ওয়াটার মেট্রো, সাগরমালায় জুড়ল বাংলা