অনেকেই মনে করেন, চোখের নিচে ডার্ক সার্কেল বা কালো দাগ মানেই ঘুমের অভাব। তাই নিয়ম করে ৭-৮ ঘণ্টা ঘুমিয়েও যখন আয়নায় চোখের নিচে কালচে ছোপ দেখেন, তখন হতাশ হওয়াটাই স্বাভাবিক। কিন্তু চিকিৎসকদের মতে, ডার্ক সার্কেলের কারণ শুধু কম ঘুম নয়। বংশগত কারণ, বয়স, অ্যালার্জি, জলশূন্যতা, অতিরিক্ত স্ক্রিন টাইম, এমনকী শরীরে কিছু ভিটামিন ও খনিজের ঘাটতিও এর জন্য দায়ী হতে পারে। তাই ডার্ক সার্কেল দূর করতে দামি ক্রিমের চেয়ে আগে প্রয়োজন আসল কারণটি খুঁজে বের করা।
ডার্ক সার্কেল কি সবসময় ঘুমের অভাবের জন্যই হয়?
ঘুম কম হলে চোখের নিচে কালো দাগ আরও স্পষ্ট হতে পারে, তবে এটিই একমাত্র কারণ নয়। ‘জার্নাল অফ কসমেটিক ডার্মাটোলজি’-তে প্রকাশিত এক গবেষণালব্ধ প্রতিবেদন বলছে, ডার্ক সার্কেলের পেছনে একাধিক কারণ কাজ করে এবং সবার ক্ষেত্রে কারণ এক নয়। তাই কারও ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত ঘুমেও এই সমস্যা থেকেই যেতে পারে।
আরও পড়ুন:

আরও পড়ুন:
১. বংশগত কারণ
পরিবারের অন্য সদস্যদেরও যদি চোখের নিচে কালো দাগ থাকে, তাহলে এটি আপনার জিনগত বৈশিষ্ট্যের অংশ হতে পারে। অনেকের চোখের নিচের অংশ স্বাভাবিকভাবেই একটু গভীর থাকে বা ওই জায়গার ত্বক পাতলা ও সংবেদনশীল হয়। ফলে কালচে ভাব সহজেই চোখে পড়ে।
২. পাতলা ত্বক ও দৃশ্যমান রক্তনালি
চোখের নিচের ত্বক খুবই পাতলা। কারও ক্ষেত্রে এই ত্বক আরও পাতলা হওয়ায় নিচের রক্তনালিগুলো নীলচে বা বেগুনি আভা নিয়ে দেখা যায়। অনেক সময় এটাকেই মানুষ ডার্ক সার্কেল বলে মনে করেন।
৩. অ্যালার্জি ও বারবার চোখ ঘষার অভ্যাস
ধুলাবালি, পরাগরেণু বা ঋতুজনিত অ্যালার্জির কারণে নাক ও চোখের চারপাশে প্রদাহ তৈরি হতে পারে। এতে রক্তনালিগুলো ফুলে গিয়ে কালচে ভাব বাড়ে। আবার চুলকানির কারণে বারবার চোখ ঘষলে ত্বকে রঞ্জক পদার্থ জমে সমস্যা আরও তীব্র হতে পারে।
৪. বয়সের ছাপ
বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ত্বকের কোলাজেন কমতে থাকে। ফলে চোখের নিচে ছায়া তৈরি হয়, যা ডার্ক সার্কেলকে আরও স্পষ্ট করে তোলে।
৫. অতিরিক্ত স্ক্রিন টাইম
দিনের বেশিরভাগ সময় মোবাইল, ল্যাপটপ বা কম্পিউটারের সামনে কাটালে চোখের উপর বাড়তি চাপ পড়ে। চোখ শুষ্ক ও ক্লান্ত হয়ে যায়, যার প্রভাব চোখের নিচেও পড়ে। বিশেষজ্ঞরা এ ক্ষেত্রে ২০-২০-২০ নিয়ম মেনে চলার পরামর্শ দেন। প্রতি ২০ মিনিট পর ২০ সেকেন্ডের জন্য অন্তত ২০ ফুট দূরের কোনও কিছুর দিকে তাকান।
৬. শরীরে পুষ্টির ঘাটতি
আয়রন, ভিটামিন বি১২, ফোলেট বা ভিটামিন কে-এর ঘাটতি থাকলে ত্বক ফ্যাকাশে হয়ে যায়। ফলে চোখের নিচের রক্তনালিগুলো বেশি দৃশ্যমান হয় এবং ডার্ক সার্কেল আরও গাঢ় লাগে।
৭. পর্যাপ্ত জলপান না করা
শরীরে জলের ঘাটতি হলে চোখ কিছুটা বসে যায়। এতে চোখের নিচের কালো ছাপ আরও বেশি স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
৮. অতিরিক্ত রোদে থাকা
সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি ত্বকে মেলানিনের উৎপাদন বাড়িয়ে দেয়। ফলে চোখের নিচে হাইপারপিগমেন্টেশন তৈরি হতে পারে। তাই বাইরে বের হলে নিয়মিত সানস্ক্রিন ও সানগ্লাস ব্যবহার করা জরুরি।

আপনার ডার্ক সার্কেল কোন ধরনের?
সব ডার্ক সার্কেল এক রকম নয়।
পিগমেন্টেড ডার্ক সার্কেল: বাদামি বা কালচে রঙের, যা অতিরিক্ত মেলানিনের কারণে হয়।
ভাসকুলার ডার্ক সার্কেল: নীলচে বা বেগুনি রঙের, যা ত্বকের নিচের রক্তনালির জন্য দেখা যায়।
স্ট্রাকচারাল ডার্ক সার্কেল: চোখের গঠন, বয়স বা বংশগত কারণে তৈরি ছায়া, যা ডার্ক সার্কেলের মতো দেখায়।
কী করলে কমতে পারে?
ডার্ক সার্কেল কমানোর জন্য শুধু রাতের ঘুম বাড়ালেই হবে না। প্রয়োজন জীবনযাত্রায় কিছু পরিবর্তন। যেমন-
- অ্যালার্জি থাকলে তার চিকিৎসা করান
- আয়রন বা অন্যান্য পুষ্টির ঘাটতি পূরণ করুন
- পর্যাপ্ত জল পান করুন
- প্রতিদিন সানস্ক্রিন ব্যবহার করুন
- ভালো ঘুম নিশ্চিত করুন
- স্ক্রিনের সামনে একটানা দীর্ঘ সময় না বসে বিরতি নিন
- চিকিৎসকের পরামর্শে ভিটামিন সি বা রেটিনলযুক্ত স্কিনকেয়ার ব্যবহার করতে পারেন
- প্রয়োজনে ত্বকরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শে নিন
কখন চিকিৎসকের কাছে যাবেন?
যদি হঠাৎ করে চোখের নিচের কালো দাগ অনেক বেড়ে যায় বা এর সঙ্গে অতিরিক্ত ক্লান্তি, রক্তশূন্যতার লক্ষণ, দীর্ঘদিনের অ্যালার্জি বা ত্বকের অন্য কোনও সমস্যা দেখা দেয়, তাহলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। কারণ, অনেক সময় ডার্ক সার্কেল শুধু সৌন্দর্যের সমস্যা নয়, শরীরের ভেতরে লুকিয়ে থাকা কোনও স্বাস্থ্য সমস্যারও ইঙ্গিত হতে পারে।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
ত্রিকোণ প্রেমের জেরে খুন হাওড়ার নাবালিকা, সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ পুলিশের
-
রথযাত্রায় কলকাতায় কাজল, বৃষ্টিস্নাত শহরে কেন বঙ্গতনয়ার ‘ঝলমলে’ আবির্ভাব?
-
১৫০ কোটির সম্পত্তি নিয়ে বিবাদ, গাজিয়াবাদে বাবাকে গুলিতে ঝাঁজরা করল মদ্যপ ছেলে!
-
শ্রেয়স-বিরাটের অর্ধশতরানেও হল না বড় স্কোর, ২৩৩ রানেই গুটিয়ে গেল ভারত
-
গাড়ি-এসি নয়, হাতে থাকুক ১ লক্ষ! সরকারি ডাক্তারদের বেতনবৃদ্ধির সওয়াল স্বাস্থ্যমন্ত্রীর