Advertisement
Advertisement
Advertisement
Sangbad Pratidin
  • ২৫ ভাদ্র ১৪৩৩
  • শনিবার
  • ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Chest pain causes

ইসিজি নরম্যাল, তবু কি হার্টেই লুকিয়ে বিপদ? কী বলছেন হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ

বুকে ব্যথা হলেই প্রথম ভরসা ইসিজি। কিন্তু ইসিজি স্বাভাবিক এলেই কি হার্টের সব বিপদ কেটে যায়? এই ধারণাই অনেক সময় রোগ নির্ণয়ে দেরি করায় এবং বাড়িয়ে দেয় প্রাণঘাতী ঝুঁকি। ব্যাখ্যা করলেন আনন্দপুর ফর্টিস হসপিটালের কার্ডিওলজির ডিরেক্টর

ডা.‌ শুভানন রায়
ডা.‌ শুভানন রায়

শেষ আপডেট: জুলাই ২৭, ২০২৬, ১৫:৪৫

link
ডা.‌ শুভানন রায়
ডা.‌ শুভানন রায়

শেষ আপডেট: জুলাই ২৭, ২০২৬, ১৫:৪৫

options
link
ইসিজি নরম্যাল, তবু কি হার্টেই লুকিয়ে বিপদ? কী বলছেন হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ zoom
ইসিজি স্বাভাবিক এলেই হার্ট সুস্থ? ছবি: সংগৃহীত
Advertisement

ইসিজি রিপোর্ট নরম্যাল বা স্বাভাবিক এলেই অনেক রোগী ধরে নেন, হার্টে আর কোনও সমস্যা নেই। বাস্তবে বিষয়টি এতটা সহজ নয়। ইসিজি হার্টের ইলেকট্রিক্যাল ইমপাল্‌স বা বৈদ্যুতিক কার্যকলাপের একটি নির্দিষ্ট সময়ের চিত্র তুলে ধরে।

করোনারি ধমনিতে রক্তপ্রবাহ কমে গেলে বা ব্লকেজ থাকলে সবসময় তার প্রতিফলন ইসিজিতে দেখা যায় না। তাই শুধু ইসিজির রিপোর্ট দেখে হার্টের অসুখ আছে কি নেই, সেই সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত নয়। রোগীর উপসর্গ, রিস্ক ফ্যাক্টর বা ঝুঁকির কারণ এবং প্রয়োজন হলে আরও নির্দিষ্ট কিছু পরীক্ষা— সব কিছু মিলিয়েই সঠিক রোগ নির্ণয় সম্ভব।

দুর্গাপুজো ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'দেবীপক্ষ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement

সব রোগ ধরা পড়ে না ইসিজিতে
হার্ট অ্যাটাক বা অ্যাকিউট করোনারি সিনড্রোমের ক্ষেত্রে অধিকাংশ রোগীর ইসিজি-তে পরিবর্তন দেখা যায়। কিন্তু প্রায় ১০ শতাংশ ক্ষেত্রে হার্ট অ্যাটাক হওয়ার পরও ইসিজি স্বাভাবিক থাকতে পারে অথবা এমন সূক্ষ্ম পরিবর্তন থাকতে পারে, যা প্রথমে ধরা পড়ে না।

অন্যদিকে, যাঁদের দীর্ঘদিনের ইসকিমিক হার্ট ডিজিজ বা স্টেবল অ্যানজাইনা রয়েছে, তাঁদের প্রায় অর্ধেকের ইসিজি-ই স্বাভাবিক থাকে। অর্থাৎ, ইসিজি নরম্যাল মানেই হার্টের ধমনিতে কোনও সমস্যা নেই— এই ধারণার কোনও ভিত্তি নেই।

Chest Pain Causes: When Do You Need an Angiography Even After a Normal ECG?
সব কথা বলে না। ছবি: সংগৃহীত

উপসর্গই সব চেয়ে বড় সূত্র
হার্টের রোগ সন্দেহ করার ক্ষেত্রে সব চেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া উচিত রোগীর উপসর্গকে। বুকের ঠিক মাঝখানে চাপধরা বা চেপে ধরার মতো ব্যথা, যা হাঁটা, সিঁড়ি ভাঙা বা অন্য কোনও পরিশ্রমে বেড়ে যায় এবং বিশ্রাম নিলে কমে আসে, অথবা সেই ব্যথা হাত, কাঁধ, ঘাড় বা চোয়ালে ছড়িয়ে পড়ে— এগুলি হার্টের রোগের গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ। এমন উপসর্গ থাকলে ইসিজি এবং টিএমটি— দু’‌টি পরীক্ষাই স্বাভাবিক হলেও প্রায় ২৫ শতাংশ ক্ষেত্রে করোনারি আর্টারির রোগ থাকতে পারে।

কখন অ্যাঞ্জিওগ্রাফি প্রয়োজন?
হার্টের অসুখের পারিবারিক ইতিহাস, ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, ধূমপানের অভ্যাস, উচ্চ কোলেস্টেরলের মতো রিস্ক ফ্যাক্টরের সঙ্গে যদি বুকে ব্যথা, অর্থাৎ, টিপিক্যাল অ্যানজাইনার উপসর্গও থাকে, তা হলে অ্যাঞ্জিওগ্রাফি করার প্রয়োজন হতে পারে। আবার উপসর্গ পুরোপুরি স্পষ্ট না হলেও যদি একাধিক রিস্ক ফ্যাক্টর থাকে, সে ক্ষেত্রেও অনেক সময় পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে অ্যাঞ্জিওগ্রাফির পরামর্শ দেওয়া হয়। তবে কম ঝুঁকির রোগীদের ক্ষেত্রে প্রথমে নন-ইনভেসিভ পরীক্ষাই করা হয়।

Chest Pain Causes: When a Normal ECG Doesn't Rule Out Heart Problems
অবহেলা নয়। ছবি: সংগৃহীত

‘‌গ্যাস’‌ ভেবে অবহেলা নয়
বুকের ব্যথাকে গ্যাসের সমস্যা বলে এড়িয়ে যাওয়া উচিত নয়। বিশেষ করে যাঁদের হার্টের অসুখের রিস্ক ফ্যাক্টর রয়েছে, তাঁদের ক্ষেত্রে এ ধরনের উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। মনে রাখতে হবে, হার্টের রোগ নির্ণয়ে ইসিজি গুরুত্বপূর্ণ হলেও সেটিই শেষ কথা নয়। সঠিক সময়ে উপসর্গের মূল্যায়ন এবং প্রয়োজনীয় পরীক্ষা বড় বিপদ এড়াতে সাহায্য করতে পারে।

দুর্গাপুজো ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'দেবীপক্ষ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.