BREAKING NEWS

১৩ অগ্রহায়ণ  ১৪২৯  বুধবার ৩০ নভেম্বর ২০২২ 

READ IN APP

Advertisement

Advertisement

শিশু জন্মের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই করিয়ে নিন এই পরীক্ষাগুলি, বলছেন বিশিষ্ট চিকিৎসক

Published by: Suparna Majumder |    Posted: November 22, 2022 2:39 pm|    Updated: November 22, 2022 2:39 pm

Get these tests done within hours of the baby's birth, advice by eminent doctor of Kolkata | Sangbad Pratidin

সদ্যোজাতর সূক্ষ্ম সূক্ষ্ম ত্রুটি এড়িয়ে গেলে বয়স বাড়লে অনেক সমস্যা হয়। বেড়ে ওঠার প্রতিটি ধাপে শিশুর স্বাভাবিক অভিব্যক্তি বাবা-মাকে চিনতে শেখালেন ইনস্টিটিউট অফ চাইল্ড হেলথের অধিকর্তা ডা. অপূর্ব ঘোষ। তাঁর কথা লিপিবদ্ধ করলেন মৌমিতা চক্রবর্তী।

নবজাতকটি সুস্থ আছে কি না তা জানতে কিছু জরুরি টেস্ট রয়েছে। সেগুলি শিশু জন্মের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই করে ফেলতে হয়। তবে সবগুলি অনেক হাসপাতালেই করানো হয় না, আবার কোনও বাবা-মা কিছু টেস্ট করাতে চান না। এখানেই ভুল হয়ে যায়। যার মাশুল বড় বয়সে গুনতে হয়। টেস্টের রিপোর্ট আর প্রথম পাঁচটা বছর বেড়ে ওঠার প্রতিটি পর্যায়ে শিশুর ভাব প্রকাশ ঠিক হচ্ছে কিনা সেটা দেখে নেওয়া খুব জরুরি।

Child

জন্মের পর যে টেস্ট করতেই হবে –
শিশু ভূমিষ্ঠ হওয়ার পর করতে হবে ‘টিপ টু টো এক্সামিনেশন’। এর দ্বারা চিকিৎসকের নির্দেশ মেনে মাথার তালু থেকে পায়ের পাতা পর্যন্ত পরীক্ষা করা হয়। কী কী টেস্ট রয়েছে?
প্রথমেই আসে মাথার আকার ও ওজনের সঠিক পরিমাপ করা। মাথার তালু খোলা না থাকলে মস্তিষ্কের বিকাশ বাধাপ্রাপ্ত হয়।
চোখে যে পথে আলো প্রবেশ করে তার দ্বারা দৃষ্টিশক্তি পরীক্ষা করা হয়, যাকে ‘রেড রিফ্লেক্স’ বলা হয়।
জন্মের পরই শ্রবণশক্তি পরীক্ষা হয়, যাকে ‘ইউনিভার্সাল নিউবর্ন হিয়ারিং স্ক্রিনিং’ বলা হয়। যে কোনও বয়সেই এই পরীক্ষা করা যেতে পারে।
নবজাতক শিশুর তালু কাটা আছে কি না তা পরীক্ষা করা হয়। অনেকেরই জন্মগত তালু কাটা থাকে। তাই পর্যবেক্ষণ জরুরি।
পরবর্তী ধাপে হার্ট ও ফুসফুসের যথাযথ পরীক্ষা গুরুত্বপূর্ণ। ফুসফুসের কোনও সমস্যা থাকলে পালস অক্সিমিটার অক্সিজেনের মাত্রা কম থাকে এবং শ্বাস-প্রশ্বাসের গতি তীব্র হয়। বড় কোনও ত্রুটি জন্মের সময় জানা যায় এবং ছোট ত্রুটি জন্মের পর ২-৩ মাসের মধ্যে প্রকাশ পায়।

[আরও পড়ুন: ঐন্দ্রিলার প্রাণ কেড়েছে ‘ইউয়িং সারকোমা’, কতটা ঘাতক এই টিউমার? জানালেন বিশেষজ্ঞ]

পেটের পর্যবেক্ষণে হাত দিয়ে ডাক্তার লিভার ও কিডনির স্বাভাবিক কার্যক্রমের আন্দাজ করতে পারেন। কোনও শিশুর প্রস্রাব কম হলে ও অস্বাভাবিক ফুলে গেলে কিডনির সমস্যা আছে ধরে নেওয়া যায়।

জিনগত সমস্যা নির্ধারণে জন্মের তিন দিনের মাথায় থাইরয়েড টেস্ট করার নির্দেশ দেওয়া হয়। থাইরয়েড পরীক্ষা একটি শিশুর জন্য অপরিহার্য হিসেবে গণ্য করা হয়। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত অনেক শিশুর সঠিক সময়ে থাইরয়েড পরীক্ষা না হওয়ায় কারণে তাদের মস্তিষ্কের বিকাশ সম্পূর্ণরূপে নষ্ট হয়। বিদেশে অনেক প্রকার জেনেটিক্যাল পরীক্ষা হয় কিন্তু এদেশ সেই সচেতনতা নেই। আর খরচও একটা ব্যাপার।

Child

অটিজম এড়াতে খেয়াল রাখুন –
এক্ষেত্রে প্রথম পর্যায়ে রোগনির্ণয় জরুরি। সর্বদা লক্ষণের ওপর নজর দিতে হবে যা তিন বছর বয়সের আগেই প্রকাশ পায়। কী কী খেয়াল রাখবেন? সাধারণ শিশু স্তনদুগ্ধ পানের সময় মায়ের মুখের দিকে তাকিয়ে খায় কিন্তু অটিজমের শিশুরা নিজের জগতে ব্যস্ত থাকে, মায়ের সঙ্গে মুখোমুখি সংযোগ স্থাপন করে না, সামাজিকীকরণে ব্যর্থ হয়, কারও সঙ্গে স্বাভাবিক বাক্যবিনিময়ে বিরত থাকতে পছন্দ করে। যাদের খুব সামান্য অটিজম থাকে ‌তারা জীবনের সমস্ত পর্যায় পেরিয়ে এলেও নিজের সঙ্গকে বেশি প্রাধান্য দেয়। বন্ধুদের থেকে আলাদা থাকে, একাকীত্ব পছন্দ করে। বাহ্যিক লক্ষণগুলো সম্পর্কে সর্বদা বাবা-মাকে সজাগ থাকতে হবে। তবেই অভ্যন্তরীণ বিষয়ে ডাক্তাররা পর্যবেক্ষণ ও চিকিৎসা করতে পারেন।

জন্মের পর থেকে দু’মাস পর্যন্ত শিশুর শারীরিক কার্যক্রম ঠিক রয়েছে কি না দেখা জরুরি। আর বুদ্ধির বিকাশ হচ্ছে কিনা বুঝতে কাঁদলে তুলে ধরলে চুপ করা, কথা বললে তাকিয়ে থাকা প্রভৃতি অভিব্যক্তি আছে কি না তা পর্যবেক্ষণ জরুরি। এই পর্যায়ক্রম বয়স অনুযায়ী বদলায়। জন্মের প্রথম পর্যায়ে শিশুর কোনও অঙ্গের দুর্বলতা বা অসুস্থতা ধরা পড়লে তা চিকিৎসা করা সম্ভব ও সমস্যার সমাধানও তাড়াতাড়ি হয়।

Child-1

যে বিষয়গুলি নজরে রাখবেন –
জন্মের ১-৩ মাসের মধ্যে কারও কথা শুনে বা কারও দিকে তাকিয়ে হাসছে কি না।
১.৫-৩.৫ মাসের মধ্যে যেকোনও বস্তুর প্রতি আকর্ষণ রয়েছে কি না।
ছ’মাস বয়সে শিশু পিছন থেকে পেট ও বুকে ভর দিয়ে সামনের দিকে এগিয়ে যায় এবং ঘণ্টা জাতীয় শব্দে ঘাড় ঘুরিয়ে দেখে, এটা না করলে সজাগ হোন।
৫ মাসে হাত থেকে হাতে জিনিস দেওয়া-নেওয়া করবে।
৭ মাসে নিজে বসার এবং ফার্নিচারকে অবলম্বন করে দাঁড়াতে চেষ্টা করবে।
১০-১২ মাস বয়সে অন্যের সাহায্যে হাঁটতে শুরু করা এবং ১৫ মাস থেকে সাধারণত পিছনদিকে হাঁটা ও অন্যের সাহায্যে সিঁড়ি দিয়ে ওঠা শুরু করবে।
উপরোক্ত লক্ষণ সমূহ শিশু বিশেষে একটু-আধটু এদিক-ওদিক হতে পারে। যে কোনও একটির বিলম্বে সত্বর ডাক্তারের পরামর্শ নিন কারণ শিশুর অনেক ত্রুটিই তাড়াতাড়ি চিকিৎসা শুরু করলে সেরে যায়।

[আরও পড়ুন: টের পাওয়া যাচ্ছে শীতের উপস্থিতি, জ্বর-সর্দি থেকে শিশুকে কীভাবে বাঁচাবেন? রইল উপায়]

Sangbad Pratidin News App: খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ
নিয়মিত খবরে থাকতে লাইক করুন ফেসবুকে ও ফলো করুন টুইটারে