বর্ষা এলেই ডেঙ্গু, ম্যালেরিয়া বা ভাইরাল জ্বর নিয়ে সচেতনতা বাড়ে। কিন্তু আড়ালে বাড়তে থাকে আরেকটি সংক্রমণের ঝুঁকিও, যার নাম হেপাটাইটিস এ। দূষিত জল ও খাবারের মাধ্যমে ছড়ানো এই ভাইরাস সরাসরি লিভারে আক্রমণ করে। বিশেষ করে শিশুদের ক্ষেত্রে সংক্রমণের আশঙ্কা সবচেয়ে বেশি, কারণ তারা স্কুল, খেলার মাঠ বা অন্যান্য জনবহুল জায়গায় দীর্ঘ সময় কাটায়।
আমাদের দেশে বর্ষাকালে জল দূষণ এবং স্যানিটেশন সমস্যার কারণে হেপাটাইটিস এ-এর সংক্রমণ বাড়ার আশঙ্কা থাকে। অথচ একটু সচেতনতা, স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা এবং সময়মতো টিকাকরণই এই রোগ থেকে শিশুদের সুরক্ষিত রাখতে পারে।
আরও পড়ুন:
বিশেষজ্ঞদের কথায়, অনেক অভিভাবক এখনও জানেনই না যে হেপাটাইটিস এ কত সহজে ছড়াতে পারে। তাই বর্ষার এই সময়ে কয়েকটি বিষয় মাথায় রাখা অত্যন্ত জরুরি-
আরও পড়ুন:

১. উপসর্গ দেখা দেওয়ার আগেই অন্যদের সংক্রমিত করতে পারে শিশু
হেপাটাইটিস এ-এর সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হল, আক্রান্ত শিশু উপসর্গ দেখা দেওয়ার দু থেকে চার সপ্তাহ আগেই ভাইরাস ছড়াতে পারে। অনেক সময় কোনও উপসর্গই দেখা যায় না, তবুও সে অন্যদের সংক্রমিত করতে সক্ষম। ভাইরাসটি খেলনা, টিফিন বক্স, জলের বোতল, স্কুলের বেঞ্চ বা দরজার হাতলের মতো বারবার স্পর্শ করা জিনিসেও কিছু সময় টিকে থাকতে পারে। তাই খাওয়ার আগে এবং শৌচাগার ব্যবহারের পরে সাবান দিয়ে অন্তত ২০ সেকেন্ড হাত ধোয়ার অভ্যাস গড়ে তোলা অত্যন্ত প্রয়োজন।
২. দূষিত খাবার ও পানীয় জলই সবচেয়ে বড় বিপদ
হেপাটাইটিস এ মূলত ফিকাল-ওরাল পথেই ছড়ায়। অর্থাৎ, দূষিত খাবার বা জল শরীরে প্রবেশ করলেই সংক্রমণের ঝুঁকি তৈরি হয়। বর্ষাকালে জল জমে থাকা, নিকাশি ব্যবস্থার সমস্যা এবং বন্যার কারণে এই ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়। অভিভাবকদের উচিত সন্তানকে সবসময় ফুটিয়ে বা বিশুদ্ধ জল পান করানো, সদ্য রান্না করা খাবার খাওয়ানো, ফল-সবজি ভালোভাবে ধুয়ে দেওয়া এবং বর্ষার সময়ে রাস্তার খাবার যতটা সম্ভব এড়িয়ে চলা।
৩. নির্দিষ্ট কোনও ওষুধ নেই, তাই প্রতিরোধই ভরসা
হেপাটাইটিস এ-এর জন্য নির্দিষ্ট কোনও ওষুধ নেই। চিকিৎসা মূলত বিশ্রাম, পর্যাপ্ত জলপান এবং পুষ্টিকর খাবারের মাধ্যমে শরীরকে সুস্থ হতে সাহায্য করা। এই সংক্রমণে জ্বর, দুর্বলতা, ক্ষুধামান্দ্য, বমিভাব, পেটব্যথা, গাঢ় রঙের প্রস্রাব এবং জন্ডিস দেখা দিতে পারে। অনেক শিশুর ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ সুস্থ হতে কয়েক সপ্তাহ সময় লাগে। গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি হওয়ারও প্রয়োজন হতে পারে।

৪. আগের মতো স্বাভাবিক রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি না হওয়া
আগের তুলনায় উন্নত স্বাস্থ্যবিধি ও স্যানিটেশন ব্যবস্থার কারণে ছোটবেলায় হেপাটাইটিস এ-তে আক্রান্ত হওয়ার ঘটনা কমেছে। এটি অবশ্যই ইতিবাচক পরিবর্তন। তবে এর ফলে অনেক শিশুর শরীরে এই ভাইরাসের বিরুদ্ধে স্বাভাবিক রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতাও তৈরি হচ্ছে না। ফলে পরবর্তী বয়সে সংক্রমণ হলে রোগটি অনেক বেশি জটিল আকার নিতে পারে। তাই শুধু পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা নয়, প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণও সমান জরুরি।
৫. টিকাকরণই সবচেয়ে কার্যকর সুরক্ষা
বিশেষজ্ঞদের মতে, হেপাটাইটিস এ প্রতিরোধে সবচেয়ে কার্যকর উপায় হল টিকাকরণ। সাধারণত শিশুর এক বছর বয়সের পর প্রথম ডোজ এবং নির্ধারিত সময় অনুযায়ী দ্বিতীয় ডোজ দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। বর্ষা শুরু হওয়ার আগেই শিশুরোগ বিশেষজ্ঞের সঙ্গে কথা বলে সন্তানের টিকাকরণ সম্পূর্ণ হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করা উচিত।

বর্ষায় একটু সতর্ক থাকলেই অনেকটাই নিরাপদ থাকবে আপনার সন্তান
হেপাটাইটিস এ এমন একটি সংক্রমণ, যা সচেতন থাকলে সহজেই প্রতিরোধ করা সম্ভব। নিয়মিত হাত ধোয়ার অভ্যাস, নিরাপদ খাবার ও বিশুদ্ধ জল, পরিচ্ছন্ন পরিবেশ এবং সময়মতো টিকাকরণ, এই চারটি বিষয় মেনে চললে বর্ষাকালেও লিভারের সংক্রমণের ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
ছুটির দিনেও অফিসে আসতে হবে কর্মীদের! হাজিরা নিয়ে কড়া নির্দেশিকা জারি স্বাস্থ্য দপ্তরের
-
ভবানীভবনে নিখোঁজ রাইফেল শুটারের বাবা, তদন্তে ৪টি দল গঠন হাওড়া সিটি পুলিশের
-
বউদির সঙ্গে দেওরের পরকীয়া! স্ত্রীকে খুন করে আত্মঘাতী স্বামী, শ্মশানে উদ্ধার দেওরের দেহ
-
সিএবিতে নির্বাচনী ডামাডোলের মাঝেই কলকাতায় শাহী সাক্ষাতে সৌরভ! তুঙ্গে জল্পনা
-
মিড ডে মিলে মায়াপুরের ৫৬ ভোগ! রথের পরদিন স্কুলে মহানন্দে প্রসাদ খেল ছাত্রছাত্রীরা