Advertisement
Advertisement
Body Shaming

রোগের নাম ‘বডি শেমিং’, বাড়ছে আত্মহত্যা! সতর্ক করলেন বিশেষজ্ঞরা

জেনে নিন কী এই 'ডিসমরফিক ডিসঅর্ডার'?

Incidents of Suicide increased due to tortured of 'Body Shaming', says research | Sangbad Pratidin
Published by: Sucheta Sengupta
  • Posted:April 1, 2022 6:13 pm
  • Updated:April 1, 2022 7:53 pm

অভিরূপ দাস: অসুখে চুল পড়ে যাচ্ছে স্ত্রীর। তাঁকে নিয়ে হাসি-মশকরা করার জন্য সঞ্চালককে সপাটে থাপ্পড় মেরেছেন হলিউড অভিনেতা উইল স্মিথ (Will Smith)। অস্কার মঞ্চে সাড়াজাগানো এ ঘটনার পর বডি শেমিং (Body Shaming)নিয়ে চারিদিকে হইহই।

Oscar 2022: Will Smith Gives Chris Rock A Hard Slap On Stage Over Jada Pinkett Smith Joke

Advertisement

মনোবিদরা বলছেন, স্কুল জীবন থেকেই অনেককে ‘বডি শেমিং’য়ের শিকার হতে হয়। সোজা বাংলায় ‘বডি শেমিং’য়ের অর্থ, কারও শারীরিক ত্রুটি নিয়ে হাসি-মশকরা। মনোরোগ বিশেষজ্ঞদের ব্যাখ্যায়, ক্রমাগত কারও শারীরিক ত্রুটি নিয়ে বিদ্রূপ মারাত্মক। গভীর ডিপ্রেশনে (Depression) চলে যান সেই ব্যক্তি। আত্মবিশ্বাস তলানিতে ঠেকে। তখন চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া ছাড়া উপায় নেই। ফি-বছর এ রাজ্যের সরকারি মেডিক্যাল কলেজে সাইকিয়াট্রিক বিভাগে অগুনতি রোগী আসেন বডি শেমিংয়ের শিকার হয়ে। আর যাঁরা আসেন না?

Advertisement

[আরও পড়ুন: গ্রামের কালীপুজোয় আনন্দ করতে গিয়ে দামোদরে তলিয়ে মৃত্যু চার যুবকের, চলছে উদ্ধারকাজ]

আন্তর্জাতিক ল্যানসেট (Lancet) ম্যাগাজিনের সমীক্ষা বলছে, বিশ্বে প্রতি ১০ জন আত্মহত্যাকারী মহিলার মধ্যে ৪ জনই এই দেশের। এই আত্মহত্যার নেপথ্যে অন্যতম যে পাঁচটি কারণ তার মধ্যে দু’নম্বরে বডি শেমিং। শারীরিকভাবে বিদ্রুপ করার ফলে অনেকেই আত্মহত্যাকে বেছে নেন। ন্যাশনাল মেডিক্যাল কলেজের মনোরোগ বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ডা. সৃজিত ঘোষ জানিয়েছেন, কারও গায়ের রং কালো। কারও মাথায় চুল কম, কিংবা কান দুটো বড়, কেউ হয়তো একেবারে রোগা।

উইল স্মিথের স্ত্রী জাডা পিংকেট।

এমন মানুষরা ‘ডিসমরফিক ডিসঅর্ডারে’ আক্রান্ত। এই অসুখের উপসর্গ কী? ডা. ঘোষের কথায়, কেউ দিনের সিংহভাগ সময় আয়নার সামনে কাটান। বারবার দেখেন তাঁর চেহারাটা পাঁচজনের সামনে কেমন লাগছে। লজ্জায় অনেকে সামাজিক মেলামেশা এড়িয়ে যান। নিজেকে লুকিয়ে রাখেন। মনোবিদদের কথায়, বহিরঙ্গ দিয়ে মানুষকে বিচার করা অনুচিত। অভিভাবকদের উচিত ছোট থেকেই সন্তানকে শেখানো, মানুষকে তার ব্যবহার দিয়ে বিচার করতে হবে। চিকিৎসক সৃজিত ঘোষ জানিয়েছেন, ডিসমরফিক ডিসঅর্ডারে যাঁরা আক্রান্ত তাঁদের বিদ্রুপ করা হলে ফল হতে পারে মারাত্মক। গভীর ডিপ্রেশনে (Depression) চলে যান মানুষটি। আত্মহত্যা তো আকছার। যে কারণে উইল স্মিথের সপাটে থাপ্পড়কে জরুরি বলছেন মনোবিদরা।

[আরও পড়ুন: যোগ দেওয়া হল না মতুয়া মেলায়, অসুস্থ হয়ে মাঝপথ থেকেই রাজভবন ফিরলেন রাজ্যপাল]

সম্প্রতি দিল্লির এক বাইশ বছরের ফ্যাশন ডিজাইনার আত্মহত্যা করেন। তাঁর শেষ চিঠিতে লেখা ছিল ‘বডি শেমিংয়ের জন্যেই এই আত্মহত্যা।’ ‘বডি শেমিং’ নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ সমীক্ষা রয়েছে লন্ডনের মেন্টাল হেলথ ফাউন্ডেশনের। এ রাজ্যের মনোবিদরা যা বলছেন, তাতে চোখ বোলালেই টের পাওয়া যায় পরিস্থিতি কতটা ভয়ংকর। সে দেশে সাড়ে চার হাজার মানুষের উপর সমীক্ষা চালিয়ে দেখা যায়, প্রতি তিনজনে একজন শারীরিক ত্রুটি নিয়ে চিন্তাগ্রস্ত। এদের আটজনের মধ্যে একজন এই কারণে আত্মহত্যাও করতে চায়।

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ