Advertisement
Advertisement
Advertisement
Sangbad Pratidin
  • ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
  • শনিবার
  • ৬ জুন ২০২৬
Inhaler

নেই ইঞ্জেকশনের ভয়! ভারতের বাজারে আসছে ইনসুলিন ইনহেলার, জেনে নিন ব্যবহার

মার্কিন ও ভারতীয় সংস্থার যৌথভাবে তৈরি ইনসুলিনটি ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের পর ভারতে তা বিক্রি শুরু হবে।

Advertisement
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: মার্চ ১৫, ২০২৫, ১৫:২৭

link
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: মার্চ ১৫, ২০২৫, ১৫:২৭

options
link
নেই ইঞ্জেকশনের ভয়! ভারতের বাজারে আসছে ইনসুলিন ইনহেলার, জেনে নিন ব্যবহার zoom

ক্ষীরোদ ভট্টাচার্য: তিনবেলা নিয়ম করে ওষুধ খেয়েও যখন ডায়বেটিসকে কোনওভাবে বাগে আনা যায় না, তখন একমাত্র ভরসা ইনসুলিন। তাতে সুগার নিয়ন্ত্রণ হয়। কিন্তু ইঞ্জেকশনের মাধ্যমে ইনসুলিন নেওয়ার ভয় অনেককেই তাড়া করে বেড়ায়। স্রেফ এই আতঙ্কে অনেকেই নিয়ম করে রোজ ইনসুলিন নেন না। সেসব রোগীদের জন্য এবার মুশকিল আসান। আর ইনসুলিন-পেনে সূচের ভয় নেই। ভারতের বাজারে আসছে ইনসুলিন ইনহেলার। মার্কিন ও একটি ভারতীয় ফার্মা কোম্পানির নতুন সেই ইনসুলিন ইনহেলার সম্প্রতি কেন্দ্রীয় ওষুধ নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদন পেয়েছে। ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের পর ভারতে সেই ইনসুলিন ইনহেলার বিক্রি শুরু হবে।

বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, যেভাবে শ্বাসনালী সঙ্কুচিত হয়ে যাওয়ার প্রচলিত পদ্ধতিতে ইনহেলার টানতে হয়, সেই একই পদ্ধতিতে ইনহেলার টানলে ফুসফুস মারফত রক্তে মিশে যাবে ইনসুলিনও। ফলে দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আসবে রক্তে শর্করার মাত্রা। কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রক সূত্রে খবর, ২০১৪ সালে মার্কিন মুলুকে এই ইনহেলারের ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল শুরু হয়। ২০১৮-তে মার্কিন ওষুধ ও খাদ্যসুরক্ষা নিয়ামক সংস্থা ‘ইউনাইটেড স্টেটস ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন’ (ইউএসএফডিএ) অনুমোদন দেয় এই ইনহেলারকে। চলতি বছর ২১৬ জনের উপর তৃতীয় পর্যায়ের ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল হয়। তা সফলও হয়েছে। এর পরেই গত সপ্তাহে এ দেশের কেন্দ্রীয় ওষুধ নিয়ন্ত্রক সংস্থা সেন্ট্রাল ড্রাগ স্ট্যান্ডার্ড কন্ট্রোল অর্গানাইজেশন (সিডিএসসিও) একটি ভারতীয় ইনসুলিন ইনহেলার উৎপাদক সংস্থাকে বিপণনের অনুমতি দেয়।

Advertisement
ইনসুলিন ইনহেলার।

ক্লিনিক্যাল ফার্মাকোলজির বিশেষজ্ঞ ডাঃ শাম্ব সম্রাট সমাজদার জানাচ্ছেন, “ট্রায়ালে দেখা গিয়েছে, ইনসুলিন ইনহেলারের কার্যকারিতা ও সুরক্ষা প্রতিষ্ঠিত। ইনহেলেশনের ১২ মিনিটের মাথায় ইনসুলিন রক্তে মিশে শর্করা নিয়ন্ত্রণ করতে শুরু করে দেয়। এবং রক্তে তিন মাসের গড় সুগারের মাত্রা বা গ্লাইকোসাইলেটেড হিমোগ্লোবিন পরিমাপ করে দেখা গিয়েছে, নিয়ন্ত্রণেই থাকছে ব্লাডসুগার লেভেল।” অর্থাৎ স্পষ্ট, ভারত, বাংলাদেশের মতো তৃতীয় বিশ্বের দেশের মানুষের জন্যও এই ইসনুলিন ইনহেলার একই রকমের কার্যকরী। ডাক্তার সমাজদারের কথায়, “খাওয়ার আধ ঘণ্টা আগে ইনহেলার নিতে হবে। দিনে তিনবার নিতে হবে।”

তবে চিকিৎসকরা সতর্ক করে জানাচ্ছেন, যেহেতু এই ওষুধ ফুসফুসের মাধ্যমে রক্তে শোষিত হয়, তাই ক্রনিক অবস্ট্রাকটিভ পালমোনারি ডিজিজ (সিওপিডি) কিংবা অ্যাজমার রোগীরা এবং ধূমপায়ীরা ও সদ্য ধূমপান বর্জনকারীরা ইনসুলিন ইনহেলার নিতে পারবেন না। ফুসফুসে ফাইব্রোসিস হওয়ার আশঙ্কা থাকে। বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, টাইপ ওয়ান কিংবা টাইপ টু ডায়বেটিসের রোগীরা যদি এই গোত্রের হন, তখন তাঁদের ইনসুলিন ইঞ্জেকশন বা পেন নেওয়া ছাড়া উপায় নেই। বিশেষজ্ঞদের অভিমত, “ইনসুলিন ইনহেলার এ দেশে ডায়াবিটিস ম্যানেজমেন্টের ক্ষেত্রে বড়সড় ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে চলেছে, বলাই যায়। ফলে একে সুখবর বললে অত্যুক্তি হয় না। খাবার খাওয়ার আগে যে র‍্যাপিড-অ্যাক্টিং ইনসুলিন দরকার পড়ে, সেই কাজ খুব ভালোভাবেই করছে এই ইনহেলার। তবে দীর্ঘমেয়াদী ব্যবহারে ফুসফুসের স্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে কোনও বিরূপ প্রভাব পড়ে কি না, সেটাও লং-টার্ম ট্রায়ালে খতিয়ে দেখা দরকার।”

বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, বাড়তি ডোজের কারণেই দেড় দশক আগে আমেরিকায় বাজারজাত হয়েও সেভাবে জনপ্রিয়তা পায়নি ইনসুলিন ইনহেলার। ‘নতুন ব্র্যান্ডনামে’ ২০০৭ সালে অন্য একটি বহুল ব্যবহৃত প্রচলিত মার্কিন বহুজাতিক সংস্থা প্রথম বিশ্ব বাজারে এনেছিল ইনসুলিন ইনহেলার। কিন্তু সমান কার্যকারিতার জন্য ইঞ্জেকশনের তুলনায় ইনহেলারে এত বেশি ডোজ দরকার পড়ত যে ব্যবহারকারীকে প্রতিবার অনেকগুলি করে, কখনও কখনও ছ-সাতটি করে পাফ নিতে হত। ফলে অল্প দিনেই ডায়বেটিস রোগীদের কাছে ব্যাপারটা বিরক্তিকর হয়ে দাঁড়ায়। এবার এই নতুন ইনসুলিন ইনহেলার ডায়বেটিস রোগীদের কতটা ভরসা দিতে পারে সেই দিকেই তাকিয়ে চিকিৎসক গবেষকরা।

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Advertisement

Share this article on

The article link is copied.